Holi Skin Care Safety

রঙের রাসায়নিকে পোড়ে ত্বক, ব্রণ- র‌্যাশের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে চর্মরোগ, দোল খেলার পরে যত্ন নেবেন কী ভাবে?

দোলে নিশ্চয়ই রং খেলবেন। কিন্তু ত্বক যদি খুব স্পর্শকাতর হয় বা ত্বকে ব্রণ-ফুস্কুড়ি গজিয়ে থাকে, তা হলে সাবধান হতে হবে। রঙের রাসায়নিক ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে। ঝুঁকি বাড়ে নানাবিধ চর্মরোগেরও। রঙের উৎসবে মেতে ত্বকের যত্ন নিতে ভুলবেন না যেন!

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৪:০০
Dermatologists warn about dangers of synthetic colours on Holi, share post-holi skin care tips

দোল খেলার পরে ত্বকের যত্ন নিন বিশেষ উপায়ে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দোল খেলব আর রং দেব না, তাই কখনও হয়! রঙের উৎসবে তো রাঙা হতেই হবে। রং শুকনো হোক বা তরল, ভেষজ হোক বা রাসায়নিক দেওয়া— দোলের দিন বন্ধু, প্রিয়জনের আবদারে একটু হলেও মাখতে হবে। তবে ত্বকেরও যত্ন নিতে হবে। আপাদমস্তক রঙিন হয়ে শুধু সাবান ঘষে রং তুলে ফেললে হবে না। তাতে দেখতে সাফসুতরো লাগলেও রঙের রাসায়নিক কিন্তু চেপে বসে থাকবে ত্বকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, রোমকূপের আড়ালে। দোলের রং মানেই তো গাদা গাদা রাসায়নিক। হোক না সে শুকনো আবির বা ভেষজ রং। বাজারে ভেষজ বলে যে রং গছিয়ে দেন দোকানিরা, তাতেও থাকে সিসা বা পারদের মতো ধাতু যা ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নেয়। ফলে রুক্ষ ও খসখসে ত্বকে কেবল ব্রণ বা র‌্যাশ নয়, দেখা দেয় নানা রকম চর্মরোগ। কারও হয় চুলকানি, কারও কব্জি জুড়ে লালচে ফুস্কুড়ি, কারও আবার এগ্‌জ়িমা বা সোরিয়াসিসের মতো লক্ষণও দেখা দেয়। তাই দোলের আনন্দে মেতে উঠুন ঠিকই, তবে এর পরে কিছু নিয়মও মেনে চলা জরুরি।

Advertisement

উজ্জ্বল লাল-নীল-হলুদ রঙেও লুকিয়ে বিপদ

রং থেকে হতে পারে বিষক্রিয়া। পুড়ে যেতে পারে ত্বক। বাজারচলতি সস্তা রং বা শুকনো আবিরের রাসায়নিকে ত্বকের নানা রকম সমস্যা হতে পারে, এমনটাই জানালেন চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার। যেমন কালচে খয়েরি বা কালো রঙে থাকে লেড অক্সাইড। রং খেলার সময়ে তরল কালো রঙের ব্যবহার বেশি হয়। এই রং ত্বকে বেশি ক্ষণ লেগে থাকলেই মুশকিল। এর থেকে তীব্র অ্যালার্জি হতে পারে ত্বকে, লাল হয়ে ফুলে উঠতে পারে, তীব্র চুলকানিও হতে পারে। এই ধরনের রংগুলো থেকে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

সবজে রং বা গাঢ় কালচে সবুজ রঙের বিক্রিও বেশি। এই ধরনের রংগুলি একেবারেই নাছোড়বান্দা, এক বার হাতে-মুখে চেপে বসলে সহজে উঠতে চায় না। আসলে সবুজ রঙে প্রচুর পরিমাণে কপার সালফেট মিশিয়ে দেওয়া হয়, এতে রং গাঢ় হয় ও তাতে চিকচিকে ভাব আসে। কপার সালফেট ত্বকের বন্ধু নয় একেবারেই। এর থেকেই র‌্যাশ, রং তোলার পরে ব্রণ বা ফুস্কুড়ির সমস্যা হয়।

যে কোনও রকম তরল বা শুকনো রং ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নেয়। তাই রং তোলার পরে মুখ, হাত খসখসে হয়ে যায়। রুপোলি বা সাদা রং মাখলে এই খসখসে ভাবটা একটু বেশিই হয়। যে কোনও রঙের মধ্যে এই রুপোলি রং একটু বেশিই বিপজ্জনক। কারণ এতে থাকে অ্যালুমিনিয়াম ব্রোমাইড, যাতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে। খুব বেশি পরিমাণে এই রং ত্বকে লাগলে তা থেকে ত্বকের ক্যানসার বা মেলানোমা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

নীল রং আবার আরও ক্ষতিকর। লাল বা নীলের মিশেল দেখতে সুন্দর লাগলেও তা ত্বকের জন্য মোটেই ভাল নয়। নীল রঙে থাকে মার্কারি সালফাইড, যা ত্বকে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। এর থেকে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে।

ত্বক চিকিৎসক কৌশিক লাহিড়ীর মতে, রং লেগে ত্বকের যে ক্ষতি হয়, তার আরও একটা কারণ হল চড়া রোদ। একে তো রঙের রাসায়নিক বিষাক্ত, তার উপরে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি মিলেমিশে গিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া চলতে থাকে। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রং মেখে রোদে ঘুরলে ত্বক পুড়তে থাকে। এতেই দাগছোপ পড়ে, র‌্যাশ বেরিয়ে যায়, কারও আবার ছাল উঠতে শুরু করে। সোরিয়াসিসের মতো লক্ষণও দেখা দেয়। খুব স্পর্শকাতর ত্বক হলে এমন সমস্যা বেশি হয়। তাই রং খেলার পরে ত্বকের যত্ন ঠিকমতো নিতেই হবে। শুধু রং তুলে ফেললেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না।

দোল খেলার পরে ত্বকের যত্ন নেওয়ার কিছু নিয়ম

রং তোলার সময়ে

রং খেলার আগে ভাল করে সারা গা, হাত-পা ও মুখে নারকেল তেল এবং পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে নিলে ভাল। তা হলে রং বেশি চেপে বসবে না।

রং তোলার সময়ে মুখে কিছু ক্ষণ নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মেখে রাখুন। পরিষ্কার সুতির কাপড়, তুলো বা ওয়েট ওয়াইপ্‌স দিয়ে হালকা হাতে সেই তেল মুছে ফেলুন। রঙের দাগ অনেকটাই ম্লান হয়ে আসবে।

রং তোলার সময়ে খুব বেশি সাবান ঘষলে ত্বক আরও রুক্ষ হয়ে যাবে। তার বদলে ক্লিনজ়িং মিল্ক বা দই ব্যবহার করুন।

ঈষদুষ্ণ জল নয়, বরং ঠান্ডা জলে স্নান করুন। গরম জলে রং আরও বেশি চেপে বসে যাবে।

রং তোলার পরে

রং উঠে গেলেই যে কাজ হয়ে গেল, তা নয়। রঙের রাসায়নিক যাতে ত্বকের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য কিছু ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে হবে। হলুদ, বেসন, দুধ, মুলতানি মাটি, মধুর মতো কিছু উপকরণে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল ও প্রদাহনাশক গুণ আছে। এগুলি ত্বকের সুরক্ষাকবচ হিসাবেও কাজ করবে।

দই-বেসনের প্যাক

সব ধরনের ত্বকের জন্য এই প্যাক আদর্শ। রং উঠে যাওয়ার পরে ২ চামচ বেসন, ১ চামচ দই এবং সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে রোমকূপের গোড়ায় জমে থাকা রং উঠে যাবে এবং ত্বক নরম হবে।

শসা-গোলাপজল

রং উঠে যাওয়ার পরে যদি ত্বক জ্বালা করে বা চুলকানি হয়, তা হলে শসার রস লাগিয়ে নিন। একটি গোটা শসা কুরে নিয়ে তার রসের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে নিন। তুলো দিয়ে মুখে-হাতে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তার পর ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে নিন।

মধু ও পেঁপের প্যাক

ত্বকের প্রদাহ কমাতে ও পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখতে পেঁপের ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। পাকা পেঁপে বেটে নিয়ে তার সঙ্গে এক চামচ গুঁড়ো দুধ ও এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ ভাল করে ত্বকে মালিশ করুন। ২০ মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ জলে মুখ ধুয়ে নিন। এই প্যাক মাখলে ব্রণ-ফুস্কুড়িও হবে না।

মুলতানি মাটি-চন্দনের প্যাক

ত্বকের জ্বালাযন্ত্রণা, চুলকানি কমাবে এই প্যাক। মুলতানি মাটি, চন্দনগুঁড়ো এবং দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এটি ত্বককে ডিটক্স করবে। ফলে চর্মরোগ হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

Advertisement
আরও পড়ুন