চোখের গয়নায় সাজুন যতন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নাকের আছে, কানের আছে, এমনকি দাঁতেরও গয়না আছে! ব্রাত্য কেবল চোখ। দুল, নাকছাবির পাশাপাশি এখন দাঁতেও হিরে বসানোর চল শুরু হয়েছে। তবে চোখ নিয়ে এত দিন কারওই কোনও মাথাব্যথা ছিল না। অনেকেই বলবেন, চোখের তো চশমা আছে। তারও রকমফের অনেক। তবে চশমা তো মানুষ প্রয়োজনে পরেন, শখে আর পরেন কত জন? চোখ সাজাতে মাস্কারা ব্যবহার করেন বটে, তবে চোখকে কি আরও একটু বেশি আশকারা দেওয়া যায় না? আলবাত যায়! চোখের গয়না এখন ফ্যাশনে ‘ইন’। ব্রেসলেট, অ্যাঙ্কলেটের কথা তো শুনেছেন, তবে এ বার জেনে নিন চোখের নতুন গয়না ফেসলেটের কাহিনি।
কারও পছন্দ হবে, কারও হয়তো হবে না, তবু এই মুহূর্তে গয়নার ফ্যাশনের স্পটলাইটটা যে ফেসলেটের উপরেই পড়েছে, তা কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই। ফেসলেট হল এক ধরনের ফ্রেম, যাকে দেখতে খানিকটা চশমার মতো। চশমার ধাঁচের হলেও চশমার থেকে তা একেবারেই আলাদা। নেই কোনও কাচ, নেই ফ্রেমের উপরিভাগ। গয়নাটি নতুন হলেও এর রকমফের কিন্তু অনেক। সোনালি, রুপোলি কিংবা অন্য ধাতব প্লেটেড ফ্রেমগুলিকে ক্রিস্টাল, রকমারি পাথর আর চেন দিয়ে সাজানো হয়। ফ্রেমের গড়নেও চোখে পড়বে নানা চমক।
কনেদের সাজের নতুন অনুষঙ্গ ফেসলেট। ছবি: সংগৃহীত।
ফেসলেটকে নতুন যুগের একটি ট্রেন্ড বলে মনে হতেই পারে, কিন্তু বিভিন্ন সংস্কৃতিতে গয়না দিয়ে মুখ সাজানোর চল আগেও ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নাকছাবি, টিকলি এবং মাথাপট্টিকে মুখের অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে এসেছে। অন্য দিকে মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়ার সংস্কৃতিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের পোশাকের সঙ্গে কপালে ঝালর দেওয়া গয়না পরার চলও বহু পুরনো। শুধু মাথায় নয়, বিভিন্ন সংস্কৃতিতে মুখ ঢাকার জন্য আলঙ্কারিক মাস্ক পরারও চল রয়েছে। ‘বেলি ডান্স’ করার সময় এক ধরনের ফেস চেন মাস্ক ব্যবহার করেন নৃত্যশিল্পীরা। হিন্দি সিনেমাতেও বহু ‘আইটেম গানে’ শিল্পীকে পরানো হয়েছে এ রকম ফেস চেন মাস্ক। এ যুগের ফেসলেটের অনুপ্রেরণাও খানিকটা সেখান থেকেই।
হিন্দি সিনেমাতেও বহু ‘আইটেম গানে’ শিল্পীকে পরানো হয়েছে ফেস চেন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত।
চট করে যদি কারও নজর নিজের দিকে টানতে চান, তা হলে একটা ফেসলেট পরে নিলেই হল! বিয়ের গয়নাতেও নতুন সংযোজন এই ফেসলেট। ইনস্টাগ্রামে বিয়ে সংক্রান্ত যে সব রিল চোখে পড়বে, সেগুলিতেও কনের বিশেষ দিনের সাজের অনুষঙ্গ হিসাবে নজর কাড়ছে ফেসলেট। হলদি, মেহন্দি, সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে কনে ছিমছাম মেকআপ করছেন আর সঙ্গে একটা জমকালো ফেসলেট পরে নিচ্ছেন, এতেই কিন্তু তাঁদের সাজ হয়ে যাচ্ছে আর পাঁচজন কনের থেকে একেবারেই আলাদা। ২০২৬-এর কনেদের গয়নার কালেকশনে কিন্তু ফেসলেটের চাহিদা বাড়বে। বিয়ের ফোটোশুট হোক বা রিল তৈরি, কনের ছিমছাম সাজেও চমক আনার ক্ষমতা রাখে এই গয়না। লেহঙ্গা হোক বা শারারা, সঙ্গে একটা জমকালো ফেসলেট পরে নিলে কিন্তু সকলের নজর থাকবে কনের মুখেই। বাঙালি কনেরা শাড়ির সঙ্গেও এই ধরনের ফেসলেট পরতে পারেন, গায়েহলুদের ফোটোশুট হোক বা আশীর্বাদের দিনে সাবেকি সাজ— একটা জমকালো ফেসলেট পরে নিলেই খুব বেশি সাজের প্রয়োজন পড়বে না।
বাঙালি কনের ফ্যাশনেও ‘ইন’ ফেসলেট। ছবি: সংগৃহীত।
তবে ফেসলেটকে বিয়ের সাজের অনুষঙ্গ হিসাবেই ভেবে ফেললে চলবে না। রোজের ফ্যাশনের সঙ্গেও কিন্তু দারুণ মানাতে পারে এই গয়না। শুধু জানতে হবে সঠিক কায়দা। বিশেষ মানুষের সঙ্গে ডেট হোক বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা, পরনে স্কার্ট-টপ হোক বা জিন্স-কুর্তা, সঙ্গে পরে নিন একটা ফেসলেট, রোজের ফ্যাশনে একটু আলাদা ‘টাচ্’ আনতে পারে চোখের এই গয়না।
রোজের ফ্যাশনেও সহজেই জায়াগা করে নিতে পারে ফেসলেট, তবে জানতে কায়দা।
গয়নায় কী ভাবে সাজবেন, সে কথা তো হল, এ বার আসা যাক দামে। এই গয়না এখনও কিন্তু বাজারে তেমন চোখে পড়েনি। তবে বিভিন্ন অনলাইন সাইটে খোঁজ করলেই ফেসলেট পেয়ে যাবেন খুব সহজেই। দাম কেমন? ৭০০, ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন এই গয়না। তবে এই গয়নার চাহিদা দিন দিন যেমন বাড়ছে, সে ক্ষেত্রে সোনা, রূপো আর হিরের দোকানেও কিছু দিনের মধ্যেই দেখা মিলতে পারে ফেসলেটের। দাম কিন্তু তখন হবে আকাশছোঁয়া। হালফ্যাশনে এখনও এই গয়না একান্তই নতুন। তাই প্রিয় বন্ধু এই গয়না পরে ইনস্টাগ্রামে ছবি দিয়ে দেওয়ার আগে আপনি সেজে উঠুন ফেসলেটে। আপনার সাজ দেখে তাঁর না হয় একটু হিংসে হবে! তাতে ক্ষতি কী?