সারা সপ্তাহে কী করবেন চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে? ছবি: সংগৃহীত।
চুল পড়ার সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তায়? এ কাহিনি আপনার একার নয়, ঘরে ঘরে এখন এই সমস্যা বেড়ে গিয়েছে। চুল ঝরে ঝরে একেবারে পাতলা হয়ে গিয়েছে মাথা। এর নেপথ্যে মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, পরিবেশ দূষণ, যত্ন না নেওয়া, পুষ্টির অভাব ইত্যাদি নানা কারণ রয়েছে। তাই একটি ওষুধ, একটি তেল বা একটি শ্যাম্পু কখনওই কেশস্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে পারবে না। প্রয়োজন কেবল সময়, ধৈর্য এবং শৃঙ্খলা। আর তাই তৈরি করতে হবে তেমনই এক রুটিন।
প্রতি দিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক। সাধারণত দিনে ৫০-১০০টি চুল ঝরে যেতে পারে। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন নতুন চুল গজানোর তুলনায় চুল পড়ার হার বেড়ে যায় বা নতুন চুল আগের তুলনায় পাতলা ও দুর্বল হয়। এর নেপথ্যে পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের হেরফের, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা মাথার ত্বকের সমস্যার মতো নানা কারণ থাকতে পারে। তাই চুল পড়া কমানোর জন্য সামগ্রিক ভাবে কেশস্বাস্থ্য উন্নত করা উচিত।
কোন কারণে চুল ঝরে পড়ছে? ছবি: সংগৃহীত
চুলের স্বাস্থ্যের জন্য কোন রুটিন মেনে চলবেন?
১. প্রোটিন: ডিম, ডাল, মাছ, মাংস, পনির, টোফু— যেটি পছন্দ তা দিয়েই রান্না করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন খাওয়া দরকার রোজ। চুলে কেরাটিন নামক এক ধরনের প্রোটিন থাকে। তাই বেশি প্রোটিন খেলে শরীর তা ভেঙে অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত করে, যা কেরাটিন উৎপাদনের মূল উপাদান। পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে শরীর সহজে কেরাটিন তৈরি করতে পারে, ফলে চুল ভিতর থেকে মজবুত থাকে, ভাঙন ধরে না।
২. পুষ্টি: শরীরে কোন কোন পুষ্টির ঘাটতি হচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক হোন। আয়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি ১২-এর মাত্রা কম না বেশি, তা জানতে নিয়মিত রক্তপরীক্ষা করানো দরকার। মহিলাদের মধ্যে এই সমস্ত পুষ্টির অভাব হলে চুল পড়ার প্রবণতা বেশি বৃদ্ধি পায়। তাই পুষ্টির ঘাটতি সম্পর্কে অবহিত হতে হবে। তবেই চুলের স্বাস্থ্য ভাল করার জন্য পদক্ষেপ করা যাবে।
৩. তেল: মাথার ত্বকে তেল মাখুন। তবে অতিরিক্ত নয়। অল্প তেল নিয়ে সপ্তাহে ২-৩ দিন মাথায় মাখতে হবে। হালকা মাসাজ করলে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। এর ফলে চুলের ফলিকলগুলি বেশি সক্রিয় হয়। কিন্তু খুব বেশি তেল মেখে ফেললে আবার ফলিকলগুলির মুখ বন্ধ হয়ে গিয়ে সমস্যা বাড়বে।
৪. মাথা ধোয়া: সারা দিনের ঘাম, ধুলোময়লা ইত্যাদির ফলে চুলের ফলিকলের মুখ বন্ধ হয়ে থাকতে পারে। তাই চুলের ধরন অনুযায়ী সপ্তাহে কম করে ২ বার শ্যাম্পু করা উচিত।
৫. কেশসজ্জা: টেনে চুল বাঁধা, খোঁপা করা, ক্লিপ পরা, বিনুনি করা— এমন সমস্ত কেশসজ্জার কারণে চুলের গোড়ায় সব সময়ে বাড়তি টান পড়ে। এই চাপের ফলে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আলগা হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে চুল ঝরে পড়তে শুরু করে, একে ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়া’ বলে। তাই চুল বাঁধার সময়ে এতটা চাপ দেওয়া ঠিক নয়।
একই সঙ্গে মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি। তা সে শরীরের খাতিরে হোক বা চুলের স্বাস্থ্য। সারা ক্ষণের উদ্বেগ, মানসিক চাপ চুল পড়ার সমস্যা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। ফলে কয়েক মাস পরে হঠাৎ করেই অতিরিক্ত চুল পড়তে শুরু করে। তাই ধ্যান, যোগাসন, হাঁটাহাঁটি বা নিজের পছন্দের কাজে সময় দিলে চুলের স্বাস্থ্যও ভাল হবে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম এবং বিশ্রামও দরকার চুল ঝরে পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে।