কোলাজেন কমে যাওয়ার প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে? ছবি: সংগৃহীত।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে অনেকের। শৈশব ও কৈশোরের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখা সব সময়ে সম্ভব হয় না। কখনও তা দূষণের কারণে, কখনও বা যাপনের জন্য, কখনও বা কাঠগড়ায় থাকে মানসিক চাপ। কিন্তু এ সবের মূলে থাকে একটি উপাদান, ত্বকের প্রোটিন, কোলাজেন। ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যরক্ষায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। পাশাপাশি অস্থিসন্ধির সমস্যা, হাড়ের দুর্বলতা, ত্বকের কোষের সমস্যা মেটাতেও সক্ষম কোলাজেন। কিন্তু সমস্যা হল, একটা বয়সের পর ধীরে ধীরে কমতে থাকে সেটি। উপরোক্ত কারণগুলির জন্যই কোলাজেন হ্রাস পেতে থাকে।
প্রোটিনের গুণেই চুলের স্বাস্থ্য বজায় থাকে। সেই প্রোটিনের অন্যতম স্তম্ভ হল কোলাজেন। বয়স, মানসিক চাপ বা পরিবেশগত কারণে শরীরে কোলাজেন কমে গেলে চুল পাতলা ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে পারলে প্রাণ ফিরে পায় চুল। চুলে, মাথার ত্বকে স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে এই প্রোটিনের প্রয়োজন পড়ে। ও দিকে কোলাজেন কমতে থাকলে মুখ বলিরেখা পড়তে থাকে। ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমতে শুরু করে। শুষ্কতা, নিস্তেজ ভাব, সবই প্রকট হয়ে ওঠে ধীরে ধীরে। আর তাই নতুন প্রজন্মের স্বাস্থ্যচর্চার মধ্যে স্থান পেয়েছে কোলাজেন। কেউ কফিতে মিশিয়ে খাচ্ছেন, কেউ বা চিউয়িং গাম হিসেবে চিবিয়ে নিচ্ছেন। কেউ আবার সাপ্লিমেন্ট হিসেবে শরীরে কোলাজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করছেন।
কিন্তু প্রশ্ন, কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট কি চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ফেরাতে পারে?
১. কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট নাকি ডার্মিসের উন্নতি করতে পারে। ডার্মিস অর্থাৎ এপিডার্মিসের নীচে অবস্থিত ত্বকের প্রধান ও পুরু মধ্যবর্তী স্তর, যা ত্বককে টানটান রাখতে সাহায্য করে। কোলাজেন কমে গেলে ত্বক পাতলা হয়ে যায় ও বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে। একাধিক গবেষণায় দাবি, কোলাজেন পেপটাইড ত্বকের আর্দ্রতা, গঠন উন্নত করে টানটান করে।
২. কোলাজেন কমে গেলে বলিরেখা বাড়তে থাকে ত্বকে। সে ক্ষেত্রে ডার্মিসের উন্নতির জন্য সাপ্লিমেন্ট নেওয়া প্রয়োজন। ধীর গতিতে হলেও বলিরেখা কমাতে পারে ত্বক থেকে। তবে এক এক জনের ক্ষেত্রে কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট ভিন্ন ভাবে কাজ করতে পারে। ফলে চর্মরোগ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত।
৩. অ্যামাইনো অ্যাসিড চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর কোলাজেনে প্রোলিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে। শরীরে যখ কেরাটিন (এক প্রকার প্রোটিন, যা চুল, নখ এবং ত্বকের বাইরের স্তর এপিডার্মিস গঠনে সাহায্য করে) উৎপাদন হয়, তখন প্রোলিনের ব্যবহার করা হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে কোলাজেন থাকলে চুল ঝলমলে, কোমল ও রেশমের মতো দেখায়। কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট যদিও চুল ঝরে পড়া রোধ করতে পারে না, কিন্তু সামগ্রিক ভাবে চুলের স্বাস্থ্যরক্ষা করে।
এ ছাড়াও কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট ত্বকের মেরামতি করা, ক্ষত নিরাময় করা, শরীরের নিজস্ব কোলাজেন বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।