Hair Treatment for Hair Loss

শিরায় ঢুকবে ভিটামিন-খনিজ, তাতে চুল গজাবে টাকে! আলোচনায় ‘আইভি থেরাপি’, আদৌ কি তা নিরাপদ?

চুল পড়া বন্ধ করতে নানা রকম হেয়ার থেরাপি এসে গিয়েছে এখন। টাকে চুল গজানোর ওষুধও আছে। কিন্তু শিরায় সুচ ফুটিয়ে চুল পড়া বন্ধ করার থেরাপিটি কেমন? তা নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে। আদৌ কি এই থেরাপি নিরাপদ?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১৭:০৪
How the Trending IV Therapy Works and Whether It Is Safe

আইভি থেরাপি কী, কেমন ভাবে তা করা হয়? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অসুস্থ হলে আইভি ড্রিপ দিয়ে স্যালাইন দেওয়া হয়, সে কথা তো জানা আছে। কিন্ত আইভি ড্রিপ দিয়ে চুল পড়াও বন্ধ করা যায়, তা কেমন ভাবে সম্ভব? শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ইত্যাদির ঘাটতি হতেই পারে। তা মেটাতে এখন তারকাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আইভি ড্রিপ নেওয়া বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতা অর্জুন কপূরকে আইভি চ্যানেলের মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট নিতে দেখা গিয়েছিল। তার পর থেকে আইভি বা ইন্ট্রাভেনাস ড্রিপ নিয়ে আলোচনা চলছে। আইভি থেরাপি নিয়ে যে টাকে চুল গজানোও সম্ভব, তেমন দাবিও করা হচ্ছে।

Advertisement

কী এই আইভি ড্রিপ?

শিরায় চ্যানেল করে প্রয়োজনীয় তরল রক্তে মিশিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত ক্রিস্টালয়েড সলিউশন অর্থাৎ রক্তে সহজে মিশবে, এমন উপাদান তরলে মেশানো হয়। শিরায় সুচ ফুটিয়ে সেই তরল পাঠানো হয় রক্তে। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ স্যালাইন ওয়াটার (সোডিয়াম ক্লোরাইড মিশ্রিত জল), গ্লুকোজ়, ভিটামিন, নানা প্রকারের খনিজ। শরীরে পুষ্টি উপাদানের অধিকমাত্রায় ঘাটতি হলে আইভি ড্রিপ দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে এই থেরাপি চুল ভাল রাখার জন্যও প্রয়োগ করা হচ্ছে।

চুল গজানোর জন্য যে আইভি ড্রিপ দেওয়া হবে, তাতে থাকবে বায়োটিন, জ়িঙ্ক, আয়রন এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, আরও কিছু খনিজ, নানা প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিড এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এই সব রক্তে মিশে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি মেটাবে এবং চুলের পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করবে।

কী ভবে চুল পড়া বন্ধ করবে আইভি থেরাপি?

চুলের পুষ্টি ও বৃদ্ধির সঙ্গে বিপাক ক্রিয়া এবং রক্ত সঞ্চালনের গভীর সম্পর্ক আছে। বিপাকক্রিয়া যদি ঠিকমতো না হয়, তা হলে পুষ্টির ঘাটতি হবে। চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও অক্সিজেন পৌঁছোবে না। তখন চুল পড়তে থাকবে। অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা মাথাজোড়া টাক পড়ার একটি কারণই হল শরীরে হরমোনের তারতম্য। হরমোনের ওঠাপড়ায় মাথায় থাকা স্টেম কোষের পুনর্গঠন হয় না। ফলে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন কেরাটিনের উৎপাদন কমতে থাকে। ফলে চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। শ্যাম্পু-তেল মেখে সাময়িক কাজ হয়। ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খেলে সেগুলি রক্তে মিশে লিভার হয়ে পৌঁছতে পৌঁছতে অর্ধেকের বেশি নষ্টই হয়ে যায়। আইভি ড্রিপে তা হবে না। প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরাসরি শিরার মাধ্যমে পৌঁছে যাবে সঠিক স্থানে।

এই থেরাপি কি নিরাপদ?

চুল গজানোর আইভি থেরাপি সকলের জন্য উপযুক্ত নয়। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, যাঁদের রক্তল্পতা আছে, ভিটামিন ও খনিজের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে শরীরে অথবা অপুষ্টির শিকার, তাঁদের জন্য এই থেরাপি করা যেতে পারে।

মানসিক চাপ, অনিদ্রা বা ক্রনিক কোনও রোগের কারণে চুল উঠে যাচ্ছে যাঁদের, তাঁরা করাতে পারেন এই থেরাপি।

যাঁদের হরমোনের গোলমালে অ্যালোপেশিয়া হয়েছে বা জটিল কোনও রোগের চিকিৎসার পরে চুল ঝরতে শুরু করেছে, তাঁরা এই থেরাপি করাতে পারেন। তবে এই থেরাপিটি করানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেই হবে।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই থেরাপি করানো বিপজ্জনক হতে পারে। লিভারের রোগ রয়েছে বা ক্যানসারের ওষুধ খান, অথবা রক্ত পাতলা হওয়ার ওষুধ খেলে এই থেরাপিটি করানো যাবে না। অ্যালার্জির ধাত অথবা কোনও চর্মরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নয়ে থেরাপিটি করানো উচিত হবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন