Salmon Sperm Facial

স্যামন মাছের শুক্রাণু দিয়ে ত্বকচর্চা! উপকৃত হয়েছেন হলিউড নায়িকাও, আদপে এটি কী জেনে নিন

অনেকেই ত্বকচর্চার ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে ফেলেন। কেউ উপকৃত হন, কেউ হন না। তবে এ বারের ট্রেন্ড নিয়ে কথা বললেন স্বয়ং ‘ফ্রেন্ডস’ খ্যাত রেচেল গ্রিন তথা অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টন।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৪
ত্বকচর্চার ট্রেন্ডে যোগ দিলেন জেনিফার।

ত্বকচর্চার ট্রেন্ডে যোগ দিলেন জেনিফার। ছবি: সংগৃহীত।

কেউ মাসের পর মাস মুখে জল দেন না। কেউ নিজের থুতু ব্রণের উপর মাখেন। কেউ ময়েশ্চারাইজ়ারে মুখ ভাসিয়ে ফেলেন। কেউ বা ইঞ্জেকশন ফুটিয়ে নেন। ত্বকচর্চার দুনিয়ায় ট্রেন্ড আসে, যায়। অনেকেই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে ফেলেন। কেউ উপকৃত হন, কেউ হন না। তবে এ বারের ট্রেন্ড নিয়ে কথা বললেন স্বয়ং ‘ফ্রেন্ডস’ খ্যাত রেচেল গ্রিন তথা অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টন। নতুন উপায়ে ট্রিটমেন্ট করিয়ে নাকি উপকার পেয়েছেন তিনি। আর তাতেই চমকে উঠেছেন অনুরাগীরা। চমকে ওঠার কারণ অবশ্য লুকিয়ে রয়েছে ট্রিটমেন্টের নামে।

Advertisement
ফেশিয়ালের নয়া ট্রেন্ড।

ফেশিয়ালের নয়া ট্রেন্ড। ছবি: সংগৃহীত

স্যামন স্পার্ম ফেশিয়াল!

স্যামন মাছের শুক্রাণু দিয়ে ফেশিয়াল করিয়েছেন জেনিফার! ঘৃণা, বিস্ময়, পরিহাসের মতো নানাবিধ অভিব্যক্তি উঠে আসছে অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারের পর। প্রশ্ন উঠছে, এও কি আশ্চর্য ত্বকচর্চার নতুন কোনও ধারা না কি সত্যিই কার্যকর?

এই ফেশিয়ালে স্যামন মাছের শুক্রাণু সরাসরি ব্যবহৃত হয় না। স্যামন বা ট্রাউট মাছের শুক্রাণু কোষ থেকে নেওয়া ডিএনএ খণ্ড পিডিআরএন বা পলি-ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিওটাইড ব্যবহার করা হয়। এই উপাদানটি খুবই বিশুদ্ধ ভাবে তৈরি করা হয় এবং ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়। দেখা গিয়েছে, স্যামনের এই পিডিআরএন-এর সঙ্গে মানুষের ডিএনএ-র অনেক মিল। তাই এটি মানুষের ত্বকের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে। ত্বকের গভীরে এর পুষ্টিগুণ শোষণ করার সম্ভাবনা বেশি এই কারণেই। এই ফেশিয়ালের মূল উদ্দেশ্য হল, ত্বককে আরও মসৃণ, উজ্জ্বল ও টানটান করা। চিকিৎসা জগতে, পিডিআরএন বহু বছর ধরে অস্থিসন্ধির চোট এবং ডায়াবেটিক আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ডিএনএ-র নিরাময় ক্ষমতা ত্বকের বার্ধক্য রোধেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তবে স্পা হিসেবে এই ট্রিটমেন্ট করানো সম্ভব নয়। মেডিক্যাল চিকিৎসার অংশ হিসেবে প্রয়োগ করা হয় এই ফেশিয়াল। একটি সিরিঞ্জ বা মাইক্রোনিডলিং ডিভাইস ব্যবহার করে সরাসরি ত্বকের ডার্মিস স্তরে পিডিআরএন দ্রবণ প্রয়োগ করা হয়। মানে ত্বকের উপরে খুব ছোট ছোট সূঁচের সাহায্যে ক্ষুদ্র চ্যানেল তৈরি করা হয়। এর পর পিডিআরএন-এর সিরাম ত্বকে দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক ফলাফল খুব আকর্ষণীয় হয় না যদিও। মশার কামড়ের মতো লাল লাল ফোঁড়া হতে পারে মুখে, যা ২৪-৪৮ ঘণ্টা মতো থাকতে পারে।

পিডিআরএন থেকে নিজে নিজেই কোলাজেন উৎপাদন হয় বলে এতে ত্বক টানটান হয়। কিন্তু ত্বকচর্চার এই ধারা কেবল ত্বকের বার্ধক্য রোধ করার কাজেই লাগে না। ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতের কাজ করে বলেও দাবি উঠছে। ত্বক নাকি আরও বেশি মসৃণ এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বলিরেখা, দাগছোপ খানিক কমতে পারে বলেই দাবি। অনেকেরই বক্তব্য, এই ট্রিটমেন্টের ফলে মনে হতে পারে, ত্বক নতুন জীবন পেয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন