Platinum as Gifting

নীরব বিলাসিতার সঙ্গী, সোনা-রুপোর চেয়ে টেকসই ধাতু, বিনিয়োগ করতে পারেন প্ল্যাটিনামে

যুগের পর যুগ ধরে নীরব বিলাসিতার সঙ্গী হয়ে রয়েছে প্ল্যাটিনাম। কিন্তু উপহারের তালিকায় সোনা-রুপোর পাশে কেন জায়গা নেবে না? কেন বিনিয়োগের জন্য প্ল্যাটিনামের কথা ভাববেন না সাধারণ মানুষ?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৪
প্ল্যাটিনাম হয়ে উঠুক আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী।

প্ল্যাটিনাম হয়ে উঠুক আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী। ছবি: সংগৃহীত।

মুহূর্তে বদলাচ্ছে পরিপার্শ্ব। পছন্দ-অপছন্দ, চাহিদা, প্রয়োজনের চেহারা পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। সেখানেই নীরবে ঝলমল করছে প্ল্যাটিনাম। যুগের পর যুগ শোভা বাড়াচ্ছে শৌখিনীদের। সোনা-রুপোর মতো স্পষ্ট নয় তার অস্তিত্ব। কিন্তু পরিবর্তনের এই দুনিয়াতেও নিজের মাটি শক্ত করে আছে সে। সে এমনিতেই আলোকিত। তাই বোধ হয় নীরব বিলাসিতার সঙ্গী হয়ে রয়েছে প্ল্যাটিনাম, আজও।

Advertisement

কিন্তু প্রচারে আসাও যে দরকার তার। নয়তো কত শত মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন প্ল্যাটিনামি বিলাসিতা থেকে। সোনা, রুপো ও হিরের বাইরে যে জগৎ রয়েছে, তা-ও দেখা দরকার। উপহারের তালিকায় কেন জায়গা নেবে না? কেন বিনিয়োগের জন্য প্ল্যাটিনামের কথা ভাববেন না সাধারণ মানুষ?

প্ল্যাটিনাম কেন এত বিরল?

প্ল্যাটিনাম প্রথম দেখায় খুব চমকপ্রদ না-ও মনে হতে পারে। এতে সোনার মতো ঝলমলে ভাব নেই, হিরের মতো চোখ ধাঁধানো ঝিলিকও নেই। কিন্তু এই ধাতুর আসল শক্তি তার স্থায়িত্বে, বিশুদ্ধতায় আর তার উপস্থিতিতে। ভূগর্ভে প্ল্যাটিনাম পাওয়া যায় খুব অল্প পরিমাণে। সোনার তুলনায় এর খনিও কম, উত্তোলন কঠিন, পরিশোধন আরও কঠিন। একটি ছোট টুকরো প্ল্যাটিনামের গয়না তৈরি করতে যে পরিমাণ মাটি খুঁড়তে হয়, যে পরিমাণ সময় ও প্রযুক্তি লাগে— সেই শ্রমের ছাপ থেকেই এর মূল্য তৈরি হয়। তাই প্ল্যাটিনামের দাম শুধু বাজারের হিসেব নয়, নেপথ্যে রয়েছে বিরলতা আর কঠোর পরিশ্রমের গল্প।

প্ল্যাটিনামি বিলাসিতার ঝলক।

প্ল্যাটিনামি বিলাসিতার ঝলক। ছবি: সংগৃহীত।

সোনা, রুপোর বদলে প্ল্যাটিনাম কেন সেরা উপহার হয়ে উঠতে পারে?

১. এই ধাতুর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল এর ঘনত্ব। একই মাপের গয়নায় প্ল্যাটিনাম সোনার তুলনায় ভারী হয়। কারণ, এতে খাঁটি ধাতুর পরিমাণ বেশি থাকে। গয়নায় সাধারণত খুব উচ্চমাত্রার খাঁটি প্ল্যাটিনাম ব্যবহার করা হয়, ফলে এতে মিশ্র ধাতু কম, ভেজাল কম। ফলে আপসও কম। এই কারণেই প্ল্যাটিনামের গয়না ত্বকের পক্ষে নিরাপদ, দীর্ঘ দিন পরা যায়। যে ত্বকে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে, তার জন্য প্ল্যাটিনাম উপযুক্ত।

২. প্ল্যাটিনামের রূপ সময়ের সঙ্গে পাল্টায় না। রং বদলায় না, জৌলুস হারায় না, ক্ষয়ে যায় না। বছরের পর বছর ব্যবহারে এর গায়ে জমে ওঠে শুধু স্মৃতি। এই গুণের জন্যই বাগ্‌দানের আংটি থেকে বৌভাতের হার হিসেবে পরা যায় প্ল্যাটিনাম। কেবল তা-ই নয়, নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও এই ধাতুর জুড়ি মেলা ভার। ন্যূনতম যত্নেই বছরের পর বছর জৌলুস ধরে রাখতে পারে প্ল্যাটিনাম।

৩. আংটি, গলার চেন, ঘড়ি, নতুন নকশায় তৈরি গয়না, কাফলিঙ্ক, ব্যান্ড, রিস্টলেট, কানের দুল— প্ল্যাটিনামের গ্রহণযোগ্যতা এ ভাবেই রয়েছে বিশ্ব জুড়ে।

নারী, পুরুষ, প্রান্তিক যৌনপরিচয় ও লিঙ্গপরিচয়ের মানুষ, নির্বিশেষে এই ধাতুর গয়না পরেন।

নারী, পুরুষ, প্রান্তিক যৌনপরিচয় ও লিঙ্গপরিচয়ের মানুষ, নির্বিশেষে এই ধাতুর গয়না পরেন। ছবি: সংগৃহীত।

৪. অনেকেই সোনার উপর হিরে, জহরত বসান। কিন্তু ধারক হিসেবে সকলের চেয়ে পোক্ত ধাতু প্ল্যাটিনাম। হিরের মতো মূল্যবান জিনিসকে ধারণ করার ক্ষমতা বেশি। হিরে বা পাথর সরে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

৫. বাহুল্যবর্জিত সাজের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে অনেকের। যেখানে গয়না সাজের সঙ্গী হবে, কিন্তু সমস্ত আলো কেড়ে নেবে না। বিলাসিতার সংজ্ঞাও বদলে যাচ্ছে এখন। ঝলমলে প্রদর্শনের বদলে টেকসই, উচ্চমানের গয়নার প্রতিও প্রীতি তৈরি হচ্ছে একাংশের। রুচিশীল সাজের সঙ্গে সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে পারে প্ল্যাটিনাম।

৬. সাম্প্রতিক বাজারমূল্যে সোনা ও রুপোর দাম বেড়ে চলেছে তীব্র গতিতে। তাই অনেকেই বিনিয়োগের জন্য সোনা-রুপো কেনার স্বপ্ন দেখা বন্ধ করছেন। তার পরিবর্তে প্ল্যাটিনামে বিনিয়োগ করতে চাইছেন তাঁরা। তবে গত কয়েক বছরে এই ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত এক বছরে কলকাতায় প্ল্যাটিনামের প্রতি গ্রাম স্পট দাম প্রায় ৭,১৭৮ টাকা ছুঁয়েছে, যেখানে স্পট দাম সম্প্রতি প্রতি আউন্স ২,৮০০ আমেরিকান ডলারের উপরে বেড়েছে। এই মুহূর্তে ভারতে প্ল্যাটিনামের দাম প্রতি গ্রাম প্রায় ৭,১৭৮-৭,৮৮৮ টাকার মধ্যে রয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন