খাঁটি ও ভেজাল মধু চেনার উপায়। ছবি: ফ্রিপিক।
খাবারে ভেজাল নিয়ে অভিযোগ ওঠেই। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে প্রায় ১৫ হাজার কেজির ভেজাল মধু বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই। চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসাবে মধু এখন ডায়েট চার্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ওজন কমাতে সকালে অনেকেই ঈষদুষ্ণ জলে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেয়ে থাকেন। বাড়ির ছোটদেরও মধু খাওয়ানো হয়। তাই দোকান থেকে যে মধু কেনা হচ্ছে, তা আদৌ খাঁটি কি না, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাজারে অনেক রকম ভেজাল মধু বা প্রক্রিয়াজাত মধু বিক্রি হয়, যার পুষ্টিগুণ নেই বললেই চলে। তাই মধু কেনার সময়ে অবশ্যই যাচাই করে নেবেন। কী ভাবে তা করতে হবে, সে উপায় বলে দিয়েছে এফএসএসএআই।
কী কী ভেজাল মিশছে মধুতে?
কর্ন সিরাপ, বিটের রস, চিনি, সুজি মিশিয়ে আসল মধুর মতো ঘনত্ব তৈরির চেষ্টা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে মধুতে গ্লুকোজ়, ফ্রুক্টোজ় ও অ্যামাইনো অ্যাসিডও মিশিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের খনিজ লবণও মেশানো হয় মধুতে। তাই বাড়িতে যে মধু এনে খাচ্ছেন, তা আসল না নকল, চিনে নেওয়া জরুরি।
খাঁটি চেনার উপায়
১) এক গ্লাস জলে এক চামচ মধু দিন। খাঁটি মধু ঘন, তা সহজে জলে মিশে যাবে না। গ্লাসের নিচে জমাট বেঁধে থাকবে। যদি মধু জলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জলের রং ঘোলাটে হতে থাকে, তা হলে বুঝতে হবে চিনি বা সিরাপ মেশানো আছে।
২) খাঁটি মধুর ঘনত্ব অনেক বেশি হয়। চামচ দিয়ে তুললে থকথকে হয়ে চামচে লেগে থাকবে। আঙুলের ডগায় সামান্য মধু নিন। খাঁটি মধু দলা বা পিণ্ডের মতো হয়ে থাকবে, গড়িয়ে পড়বে না।
৩) একটি টিস্যু পেপারের উপরে কয়েক ফোঁটা মধু দিন। খাঁটি মধু জল শোষণ করে না। তাই সেটি পেপারের উপরেই লেগে থাকবে। যদি দেখেন মধু দেওয়ার পরে পেপারটি ভিজে যাচ্ছে ও মধু নীচে গড়িয়ে পড়ছে, তা হলে বুঝতে হবে তাতে ভেজাল মেশানো আছে।
৪) এক চামচ মধু এবং সামান্য জল মিশিয়ে তাতে ২-৩ ফোঁটা ভিনিগার দিন। যদি মিশ্রণটি ফেনা তৈরি করে, তবে বুঝতে হবে মধুতে চক বা জিপসাম মেশানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৫) একটি ছোট কাঁচের পাত্রে সমপরিমাণ মধু এবং মিথাইলেটেড স্পিরিট বা অ্যালকোহল মিশিয়ে দেখতে পারেন। যদি মধু খাঁটি হয়, তবে এটি পাত্রের নীচে জমাট বেঁধে পড়ে থাকবে। যদি মধুতে ভেজাল থাকে, তবে পুরো মিশ্রণটি সাদা বা ঘোলাটে রঙের হয়ে যাবে।