Jeffrey Epstein Mystry Flower

যে ফুল হিন্দু দেবতার প্রিয়, তা দিয়েই মহিলাদের বশ করতেন এপস্টিন! কী ভাবে তা কাজ করে?

এপস্টিন ফাইল থেকে যে সমস্ত তথ্য ক্রমশ বাইরে আসছে এবং হতবাক করছে বিশ্বকে, তার মধ্যে এটিও একটি। এপস্টিনের কাছে আসা ইমেল ঘেঁটে জানা গিয়েছে, তার বাড়ির বাগানে ‘ট্রাম্পেট ফ্লাওয়ার’ নামে এক ধরনের ফুল চাষ করা হত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৫
বিষফুলে ‘বশীকরণ’!

বিষফুলে ‘বশীকরণ’! গ্রাফিক— আনন্দবাজার ডট কম।

হিন্দু পুরাণে যা বিষ, যৌন অপরাধী এপস্টিনের কাছে তা-ই অমৃত!

Advertisement

কারণ, সেই ‘বিষ’-এর সাহায্যেই অনিচ্ছুক নারীদের দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করাতে পারতেন তিনি। আর তাই বাড়ির বাগানে চাষ করতেন এক বিশেষ ফুলের। যে ফুল হিন্দু পুরাণে বিশেষ তাৎপর্যবাহী।

এপস্টিন ফাইল থেকে যে সমস্ত তথ্য ক্রমশ বাইরে আসছে এবং হতবাক করছে বিশ্বকে, তার মধ্যে এটিও একটি। এপস্টিনের কাছে আসা ইমেল ঘেঁটে জানা গিয়েছে, তাঁর বাড়ির বাগানে এক বিশেষ ধরনের ফুল চাষ করা হত। যার নাম ‘ট্রাম্পেট ফ্লাওয়ার’। যে প্রসঙ্গে একটি ইমেলে এপস্টিন নিজেই লিখেছেন, ‘‘আস্ক ক্রিস অ্যাবাউট মাই ট্রাম্পেট প্ল্যান্টস অ্যাট নার্সারি।’’ যার বাংলা অর্থ— ‘‘ক্রিসকে জিজ্ঞাসা করো আমার বাগানের ট্রাম্পেট গাছের কথা।’’

ট্রাম্পেট এক ধরনের বাঁশি, যার মুখের চোঙাটি অনেক বড়। বাকি অংশটি ধীরে ধীরে সরু হয়ে নীচে নামে। এক বিশেষ হিন্দু দেবতার পুজোয় ঠিক একই ধরনের দেখতে ফুল কাজে লাগে। এপস্টিনকে পাঠানো এক ইমেলে ওই ফুলের গুণের কথাও সবিস্তার বলা হয়েছে। ওই ফুলটিকে সেই ইমেলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘স্কোপোল্যামাইন’ নামে। যা এক ধরনের ‘বিষ’। যা ওই ফুলেই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ইমেলে লেখা হয়েছে— ‘‘কলম্বিয়ার বনে স্কোপোলামাইন নামে এক শক্তিশালী ভেষজের চাষ হচ্ছে। যা মানুষের নিজের ইচ্ছে প্রকাশের ক্ষমতাকে বিকল করে দেয়।’’

এ হেন বিষ-ফুলের নাম এ দেশি নাম ধুতরো। এই ফুলে থাকে অ্যান্টিকোলিনার্জিক ট্রোপেন অ্যালকালয়েড স্কোপোলামাইন নামের এক বিষাক্ত পদার্থ এবং তা থাকে প্রচুর পরিমাণে। যা কোনও মানুষের শরীরে গেলে সরাসরি আঘাত হানে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর। ফলে যাঁকে দেওয়া হচ্ছে, তাঁর স্নায়ু বিকল হয়ে পড়ে। কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। চলচ্ছক্তিও হারিয়ে ফেলেন। এপস্টিনকে পাঠানো ইমেলে আঁতোয়া ভার্গলাস নামে এক ব্যক্তি সে কথাই সবিস্তার লিখেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এই বিষ যাকে দেবে, তার নিজের ইচ্ছে বলে কিছু থাকবে না। সে পুতুলের মতো হয়ে যাবে বা শিশুর মতো। তাকে যা বলা হবে, তা-ই করবে। যেখানে নিয়ে যেতে চাইবে, সেখানেই যাবে।’’ এই বক্তব্যের প্রমাণস্বরূপ দু’টি বিদেশি পত্রিকায় বেরনো প্রতিবেদনও ওই ইমেলে সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন ভার্গলাস।

এপস্টিনের বাগানের ওই ট্রাম্পেট ফ্লাওয়ার বা ধুতরো ফুলের বিষ যে প্রয়োগ করার চল ছিল, সে ব্যাপারে সন্দেহ বেড়েছে আরও কিছু ইমেল থেকে। এপস্টিন ফাইলে একটি ইমেল প্রকাশ্যে এসেছে যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুয়ের্মো ফারিনাস নামে একজন পাঠিয়েছেন হুয়াস আন্তোনিয়ো গনজ়ালেসকে। ওই ইমেলটি আসলে জোসেফ মানজ়ারিও নামে এক ব্যক্তির নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, যেখানে ট্রাম্পেট ফ্লাওয়ার আর স্কেরাল্যামাইনের উল্লেখ রয়েছে অন্তত বার তিনেক।

জোসেফ সেখানে লিখেছেন ২০১৪ সালে তাঁর একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলছেন, ‘‘আমি জানতাম না আমাকে ঠিক কী দেওয়া হয়েছিল। অচেতন হয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙল যখন, তখন আমি গাড়ির পিছনের আসনে। সামনের আসনে বসে দু’জন আমাকে নিয়ে আলোচনা করছে। ওদের মুখেই শুনি, আমাকে দেওয়া হয়েছে স্কোপোল্যামাইন।’’

কিন্তু কী এমন রয়েছে ধুতরো ফুলে, যা স্নায়ুকে এ ভাবে বিকল করে দিতে পারে?

বনে জঙ্গলে ফুটে থাকা ধুতরো যা বিষকে কণ্ঠে ধারণ করা হিন্দু দেবতা শিবের পুজোয় কাজে লাগে, তার নিজের বিষ অত্যান্ত জোরালো। এ থেকে যেমন মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে, তেমনই ওষুধ হিসাবেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে।

ধুতরোয় রয়েছে ট্রোপেন অ্যালকোলয়েড— স্কোপোল্যামাইন, অ্যাট্রোপিন এবং হোসামাইন। যা স্নায়ুতন্ত্রের একেবারে কেন্দ্রস্থলে গিয়ে নাড়া দেয়। এর মধ্যে স্কোপোল্যামাইনের ঔষধী গুণ রয়েছে। মোশন সিকনেস-এর রোগী অর্থাৎ যে রোগীরা যানবাহনে উঠলে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাঁদের সারাতে সাহায্য করে। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর যখন বমিভাব, মাথাঘোরার মতো সমস্যা হয়, তা কমাতেও সাহায্য করে স্কোপোল্যামাইন। তবে ওষুধ হিসাবে অতি সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করতে হয় এটি। পরিমাণ বেশি হলেই শুরু হতে পারে বিষক্রিয়া।

ধুতরো ফুলের বিষ থেকে কী কী সমস্যা হতে পারে?

কারও শরীরে যদি স্কোপোল্যামাইন বেশি পরিমাণে প্রয়োগ করা হয়, তবে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে, যেমন—

১. দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া

২. সব কিছু সমাধানহীন ধাঁধার মতো মনে হওয়া

৩. খাওয়ার পরে কী করছেন, তার স্মৃতি সম্পূর্ণ বিলোপ হয়ে যাওয়া

৪. অস্থিরতা

৫. হ্যালুসিনেশন। যা নেই, তা চোখের সামনে দেখা। এক অদ্ভূত কল্পদৃশ্য তৈরি করে ফেলা, যা আদতে ঘটছে না।

৬. বাড়াবাড়ির পর্যায়ে গেলে এর থেকে কোমা বা মৃত্যুও হতে পারে।

পুরাণে যা বলা আছে

পুরাণে অবশ্য ধুতরোকে বিষাক্ত বলা হয়নি। বরং শিব যখন সমুদ্রমন্থনে উঠে আসা হলাহল কণ্ঠে ধারণ করে নীলকণ্ঠ হয়েছেন, তখন দেবতারা তাঁর মাথায় দিয়েছিলেন ধুতরো। যাতে বিষের জ্বালা তিনি সহ্য করতে পারেন। অর্থাৎ বিষ নয়, কোথাও গিয়ে তা ধুতরোর ঔষধী ক্ষমতাকেই বিষয়টি সমর্থন করে। এমন কিছু যা জ্বালা যন্ত্রণা জুড়োতে পারে। যদিও এপস্টিন সেই জ্বালা জুড়োনোর বিষকেই ‘বশীকরণে’ ব্যবহার করেছিলেন বলে মনে করাচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে উঠে আসা তথ্যাবলি।

Advertisement
আরও পড়ুন