এয়ার ফ্রায়ার লাইনারের কাজটা ঠিক কী? ছবি: সংগৃহীত।
যুদ্ধের আবহে ‘গ্যাস বাঁচাও’ অভিযান শুরু হয়েছে বাঙালির হেঁশেলে। তাই গ্যাসের বিকল্প যে সব যন্ত্র এক সময় হেঁশেলের এক কোণে পড়ে থাকত, তাদের উপর এখন নির্ভরতা অনেকটাই বেড়েছে। এর মধ্যে এয়ার ফ্রায়ার অন্যতম। অনেক বাড়িতেই এখন এয়ার ফ্রায়ার হেঁশেলের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।
এয়ার ফ্রায়ারে সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়। ফলে যে কোনও রান্না বসিয়ে ভুলে গেলেও পুড়ে যাওয়ার ভয় নেই। নির্ধারিত সময় পরে এয়ার ফ্রায়ার নিজেই বন্ধ হয়ে যাবে। ভাজাভুজি স্বাস্থ্যকর উপায়ে বানাতেও এয়ার ফ্রায়ারের কোনও জুড়ি নেই। তবে সমস্যা একটাই, এক বার কিছু রান্না করার পর সেই এয়ার ফ্রায়ার পরিষ্কার করতে গিয়েই বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়। পোড়া দাগ ঘষামাজা করতে গিয়ে কালঘাম ছুটে যায় অনেকের। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ব্যবহার করতে পারেন এয়ার ফ্রায়ার লাইনার।
এয়ার ফ্রায়ার লাইনার দু’ ধরনের হয়। একটি কাগজের আর অন্যটি সিলিকনের। রান্নার সময় এয়ার ফ্রায়ারের উপর একটি এয়ার ফ্রায়ার লাইনার বসিয়ে তার পরে তার উপর খাবার রাখতে হয়। এই পন্থা মেনে রান্না করলে এয়ার ফ্রায়ার অপিষ্কার হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তবে এ ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। অনেক রান্না করার আগে এয়ার ফ্রায়ায় প্রিহিট করতে হয়। সে ক্ষেত্রে কিন্তু প্রিহিটের সময় এয়ার ফ্রায়ার লাইনার ব্যবহার করা উচিত নয়। সব সময় এয়ার ফ্রায়ার লাইনারের উপর খাবার বসিয়ে তবেই বিদ্যুত সংযোগ করুন, নইলে এয়ার ফ্রায়ার লাইনারটি পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এয়ার ফ্রায়ার লাইনার ব্যবহার করলে যন্ত্রটি সাফ তো থাকেই, এর পাশাপাশি রান্না হওয়ার পর গরম এয়ার ফ্রায়ার থেকে রান্নাটি বার করাও অনেক সহজ হয়ে যায়।
তবে এয়ার ফ্রায়ারে ভাজাভুজি, যেমন, ফ্রায়েড চিকেন, চপ, কাটলেট, রান্নার সময় এয়ার ফ্রায়ার লাইনার ব্যবহার করলে সেই মুচমুচে ভাব আসবে না। তাই সেই সব ক্ষেত্রে এয়ার ফ্রায়ার লাইনার ব্যবহার না করাই ভাল।
অনলাইনে খোঁজ করলেই এয়ার ফ্রায়ার লাইনার পাওয়া যায়। সিলিকনগুলির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আর কাগজের কিনতে চাইলে ১০০ পিসের দাম পড়বে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মতো।