Riped Banana Identification

ফলটি আদৌ নিরাপদ কি? কোন চিহ্ন ধরিয়ে দেবে কলা পাকানো হয়েছে রাসায়নিকে?

সকালের জলখাবরে কলার মতো ফল রাখতে বলেন চিকিৎসকেরা। ভিটামিন, খনিজে ভরপুর কলা খাওয়া মানে একধাক্কায় শরীরে অনেকটা পুষ্টি যাওয়া। কিন্তু পাকা কলা কিনতে গিয়ে ঠকে গেলেই বিপদ! কার্বাইডে পাকানো কলা চেনার উপায় জেনে নিন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৭
কী ভাবে বুঝবেন, এর মধ্যে কোনটি প্রাকৃতিক ভাবে পরিপক্ব?

কী ভাবে বুঝবেন, এর মধ্যে কোনটি প্রাকৃতিক ভাবে পরিপক্ব? ছবি: সংগৃহীত।

ছোট হোক বা বড়— সব বয়েসিদের জন্য যে ফলটির বিকল্প হয় না, তা হল কলা। মেলে বছরভর। মিষ্টি ফলটি খেতে সাধারণত আপত্তি থাকে না ছোটদেরও। কিন্তু যে ফলটি কিনছেন, আদৌ তার গুণমানে ভাল তো? কলা রাসায়নিকে পাকানো, না কি প্রাকৃতিক ভাবেই তা পক্ব, বুঝে নেওয়ার উপায় আছে কোনও?

Advertisement

কলা প্রাকৃতিক ভবে পাকা হলে তা যেমন খেতে মিষ্টি হয়, তেমন উপকারও মেলে। কিন্তু বিপদ ঘটতে পারে যদি রাসায়নিকের ব্যবহারে স্বল্প সময়ে তা পাকানোর চেষ্টা করা হয়। কলা থেকে নির্গত হল ইথিলিন গ্যাস। এটি স্বল্পমাত্রায় বেরোয় এবং কলা পাকাতে সাহায্য করে। কিন্তু একাংশের কলা ব্যবসায়ী এত ধৈর্য ধরতে নারাজ। ফলে কাঁচা কলা দ্রুত পাকাতে প্রয়োগ হয় ক্যালশিয়াম কার্বাইড। তা থেকে বের হওয়া অ্যাসিটিলিন গ্যাস কলা দ্রুত পাকিয়ে দেয়। সমস্যা হল, রাসায়নিক প্রয়োগে ফল পাকালে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল হয় না।

হাওয়ার সংস্পর্শে এলে কার্বাইড থেকে অ্যাসিটিলিন নামে এক ধরনের গ্যাস বেরোয়। তার প্রভাবেই ফল পেকে যায়। ওই গ্যাসই লোহার কারখানায় লোহা কাটতে ব্যবহার হয়। নিয়মিত কলা বা অন্য ফলের মাধ্যমে কার্বাইড শরীরে মিশলে স্নায়ুর সমস্যা, মাথা ব্যথা, হজমের গোলমাল হতে পারে। এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

কোন লক্ষণে চিনবেন কলা পেকেছে কার্বাইডে?

রূপে মজলেই বিপদ: কথায় আছে, সুন্দরের জয় সর্বত্র। সেই রূপে মজলেই বিপদ। সুন্দর উজ্জ্বল কলা, কোনও দাগছোপ নেই, দেখলেই তুলে নিতে ইচ্ছে হচ্ছে? তা হলে সাবধান। প্রাকৃতিক ভাবে পাকা কলা এত সুন্দর দেখায় না। কালচে ছোপ তাতে থাকা স্বাভাবিক। তা ছাড়া, প্রকৃতিগত ভাবে পাকা কলার রংও সর্বত্র সমান হবে না।

খোসা পরখ করুন: কলার খোসাটি হলুদ, উজ্জ্বল অথচ মোটা হলেই সমস্যা। কলা যত পাকবে, তার খোসাটিও পাতলা হবে। সে কারণেই সুপক্ব কলার খোসা পাতলা হয়, টানলেই দ্রুত উঠে আসে। দেখতে পাকা, অথচ খোসা হালকা চাপে উঠে আসছে না— তা হলে কিন্তু বুঝতে হবে, রাসায়িনক প্রয়োগ করা হয়েছে। কারণ, কার্বাইড দেওয়া হলেও, কলা ভিতরে পাকে না। বাইরে থেকে তাতে পাক ধরে মাত্র।

গন্ধেই পরিচয়: যত কারিকুরিই করা হোক না কেন, রাসায়নিকের গন্ধ ঢাকা মুশকিল। আবার পাকা কলার গন্ধও আটকানো সম্ভব নয়। যে কোনও ফলের নিজস্ব গন্ধ থাকে, কলারও আছে। সেই গন্ধ আর রাসায়নিক প্রয়োগের পর কলার গন্ধে তফাত অবশ্যই থাকে। পাকা কলার গন্ধে সুমিষ্ট ভাব থাকে। কার্বাইডের গন্ধ চড়া, সুগন্ধি নয়।

ডাঁটি: কলার ডাঁটিতে হালকা চাপ দিলেই যদি ভেঙে যায় বা নরম বোধ হয়, বুঝতে হবে কলা প্রাকৃতিক ভাবেই পাকা। দেখতে একেবারে হলুদ, অথচ কিছুতেই বোঁটা বা ডাঁটি ছাড়ানো যাচ্ছে না বা সহজে ছাড়ানো যাচ্ছে না, তা কিন্তু রাসায়নিক প্রয়োগে কলা পাকানোর ইঙ্গিত। আসলে এতে কলায় রং ধরে দ্রুত, কিন্তু ফলটি কাঁচা থাকায় বৃন্ত বা ডাঁটি সহজে ভেঙে যায় না।

স্বাদ এবং মান: কার্বাইডে পাকানো কলা খেলেই বোঝা যায়। অনেকেই ভাল দেখতে পাকা কলা কিনে খেতে গিয়ে দেখেন বিস্বাদ। আসলে তা ভিতর থেকে পাকেনি বলেই এমন হয়। প্রাকৃতিক ভাবে পাকা কলা ক্রিমের মতো হবে। নরম এবং মিষ্টি।

Advertisement
আরও পড়ুন