Infrared Cooktop

গ্যাস অভেনের যোগ্য উত্তরসূরি ‘ইনফ্রারেড’! ফোলা রুটি থেকে কষা মাংস সবই হবে বিদ্যুতের আঁচে

বাকি রন্ধন পদ্ধতিগুলির জনপ্রিয়তার আড়ালে চাপা পড়েছিল ইনফ্রারেড কুক টপ। রান্নার গ্যাসের দাম আর বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তার কালে সেই বিকল্প আধুনিক উনুন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার কারণ, গ্যাস অভেনে রান্নার পদ্ধতির সঙ্গে এতে রান্না করার অনেক মিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৭

ছবি: সংগৃহীত।

এক হাতে সাঁড়াশি অন্য হাতে খুন্তি ধরে বার্নারের গনগনে আঁচে মশলা কষানো বা ভাজাভুজি রাঁধার যে সুখ, তা মাইক্রোওয়েভ, ইন্ডাকশন বা এয়ার ফ্রায়ারে কোথায়! রান্নার গ্যাসের আকালে সে কথা হাড়ে হাড়ে বুঝছেন এ দেশের ঘরোয়া রাঁধুনিরা।

Advertisement

বিকল্প রান্নার নানা রকমের উপায় গত কয়েক দিনে চেষ্টা করে দেখে ফেলেছেন অনেকেই এবং শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়েছেন এই ভেবে যে, গ্যাস অভেনের মতো আরামে আর সহজে রান্না অন্য কিছুতে সম্ভব নয়। যদিও সেই ভুল ভাঙার সময় এসেছে।

গ্যাস অভেনের মতো বিলকুল একই আরামে এবং আলাদা বাসনপত্রের ঝক্কি না পুইয়ে, চেনা প্রক্রিয়ায় সব রকম রান্না করার আরও একটি পদ্ধতি মজুত আছে হাতের কাছেই। নাম ইনফ্রারেড কুকিং।

পদ্ধতিটি আনকোরা নয়। যে সময়ে ইন্ডাকশন কুক টপ, মাইক্রোওয়েভ অভেন বা এয়ার ফ্রায়ার রান্নাঘরে বিপ্লব এনেছে, তার কাছাকাছি সময়েই উদ্ভব ইনফ্রারেড কুকটপেরও। তা সত্ত্বেও গত ২০-২৫ বছরে খুব বেশি মানুষ তা পরখ করে দেখার সুযোগ পাননি। বাকি রন্ধন পদ্ধতিগুলির জনপ্রিয়তার আড়ালে চাপা পড়েছিল ইনফ্রারেড কুকটপ।

রান্নার গ্যাসের দাম আর বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তার কালে সেই বিকল্প আধুনিক উনুন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার কারণ, গ্যাস অভেনে রান্নার পদ্ধতির সঙ্গে এতে রান্না করার অনেক মিল। যা ইনডাকশন, মাইক্রোওয়েভ বা এয়ার ফ্রায়ারের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে সচরাচর মেলে না।

ইনফ্রারেড কুকটপ কী?

ঝকঝকে সেরামিকের আবরণে ঢাকা বিদ্যুৎচালিত এক ধরনের স্টোভ। যা ভিতরে থাকা হ্যালোজেন ল্যাম্প বা কয়েলের সাহায্যে ইনফ্রারেড রশ্মি তৈরি করে তীব্র তাপ সৃষ্টি করে এবং তা সেরামিকের উপর রাখা পাত্রে ছড়িয়ে দেয়। একে অনেকটা হিটারের নিরাপদ সংস্করণ বলা যেতে পারে। তবে এক কথায় এর কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করতে হলে বলতে হয়, এই আধুনিক উনুন শুধু গ্যাস অভেন নয়, কয়লার উনুনের কাজও অনায়াসে করে দিতে পারে।

খুব সাধারণ আর দৈনন্দিন একটি রান্নার উদাহরণ দিয়েই ব্যাপারটা বোঝানো যেতে পারে। ধরুন, রুটি করবেন। তার জন্য চাটুতে সেঁকে তার পরে রুটি সেঁকার জালে দিয়ে গ্যাস অভেনের উপরে রেখে ফোলানো হয়। ইন্ডাকশন, মাইক্রোওয়েভে তা সম্ভব নয়। এয়ার ফ্রায়ারে হয়তো করা যাবে, কিন্তু তার অনেক হ্যাপা। ইনফ্রারেড কুক টপ-এ রুটি সেঁকে ফোলানো যাবে ঠিক সেই ভাবে, যে ভাবে গ্যাস অভেন বা কয়লার উনুনে রুটি করতে আপনি অভ্যস্ত।

কী কী বানানো যায়?

শুধু কি রুটি? ধরুন, রাতে ইচ্ছে হল একটু বেগুন পোড়া খাওয়ার কিংবা ভাবলেন মাটির হাঁড়িতে চম্পারণ মটন রাঁধবেন। তাতেও অসুবিধা নেই। ইন্ডাকশনে যা কল্পনার অতীত, ইনফ্রারেড কুকারে তা জলভাত। সরাসরি কাচের উপর বা স্ট্যান্ড বসিয়ে দিব্যি বেগুন বা টম্যাটো পুড়িয়ে নিতে পারেন। সরাসরি মাটির হাঁড়িও বসিয়ে দিতে পারেন ইনফ্রারেড উনুনে। ঠিক যে ভাবে কয়লার আঁচে বা গ্যাসের বার্নারে বসানো হয়। রান্নার মানের কোনও তফাত হবে না।

এমনকি, কবাব তৈরির জন্য যে চড়া তাপের প্রয়োজন হয়, চাইনিজ় রান্নার ‘স্মোকি ফ্লেভার’ আনতে যে উঁচু তাপমাত্রার দরকার পড়ে, এই উনুন নিমেষেই তা তৈরি করতে পারে। ভাজাভুজি থেকে শুরু করে প্রেশার কুকারে ডাল বা মাংস সেদ্ধ করার কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রাও শুধুমাত্র একটা বোতাম টিপেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আলাদা বাসনের প্রয়োজন নেই

বিকল্প রান্নার সবচেয়ে বড় বাধা হল উপযুক্ত ‘বাসন’। ইন্ডাকশনের সব ধরনের বাসন ব্যবহার করা যায় না। সে ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতিতে রান্না করতে গিয়ে অনেকেই নতুন করে হাজার হাজার টাকার বাসন কিনতে বাধ্য হন। ইনফ্রারেড কুকারে সেই ঝক্কি নেই। স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, সেরামিক, এমনকি মাটির হাঁড়িও এই উনুনে ব্যবহারযোগ্য। ফলে আলাদা বাসন কেনার বাড়তি খরচ বাঁচে।

সবই কি ভাল?

মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। ইনফ্রারেড কুকারে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে দুধ গরম করার ক্ষেত্রে। এই কুকটপের বৈশিষ্ট্য হল, এটি বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই ঠান্ডা হয়ে যায় না। ধীরে ধীরে এর তাপ কমে। তাই দুধ জ্বাল দিতে গেলে ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পাত্রটি উনুনের উপর থেকে সরিয়ে নিতে হবে। যেহেতু বন্ধ করার পরেও এতে তাপ থেকে যায়, তাই দুধ উথলে ওঠার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি।

পকেট কি সায় দেবে?

যন্ত্রটির দাম কিন্তু বিরাট কিছু নয়, ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যেই। অনেকে ভাববেন, বিদ্যুতে রান্না মানেই চড়া বিদ্যুতের বিল। কিন্তু অঙ্ক বলছে, গ্যাসের সিলিন্ডারের আকাশছোঁয়া দামের তুলনায় এর বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কম। নিয়মিত ব্যবহার করলে খরচ বরং হাজার পাঁচেক কমতেই পারে।

কেনার আগে যা দেখে নেবেন

১. ভারতীয় রান্নার জন্য সাধারণত ২০০০ ওয়াটের ইনফ্রারেড কুকটপ আদর্শ।

২. পাত্র সরিয়ে নিলে বা অতিরিক্ত গরম হলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হওয়া বা অটো শাট অফ ফিচার আছে কি না, দেখে নিন।

৩. বাড়িতে ছোট শিশু থাকলে সুরক্ষার খাতিরে চাইল্ড লক বোতামটি থাকা জরুরি।

৪. উন্নত মানের ক্রিস্টাল বা সেরামিক গ্লাস টপ রয়েছে কি না, দেখে নিন। এই ধরনের টপ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৫. নামী ব্র্যান্ডের ওয়ারেন্টি কার্ড দেখে কিনুন, যাতে ইলেকট্রনিক গোলযোগে বিপদে না পড়তে হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন