অবশেষে প্রকাশ্যে নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’-এর প্রথম ঝলক। দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনায় রয়েছে ছবিটি। ঘোষণার পরে একাধিক বার পিছিয়ে গিয়েছে ছবির কাজ। সেই ছবির প্রথম ঝলকে প্রকাশ্যে এসেছে রাম রূপে রণবীরের লুকও।
তবে এই প্রথম না। এর আগেও একাধিক বার রুপোলি পর্দা এবং টেলিভিশনের জন্য তৈরি হয়েছে রামায়ণ। প্রতি বারই দর্শকের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে মহাকাব্যটি।
২০২৩ সালে দক্ষিণ ভারতীয় তারকা প্রভাস রামের চরিত্রে বড় পর্দায় অভিনয় করেছিলেন। সীতার ভূমিকায় অভিনয় করেন কৃতি স্যানন। ওম রাউত পরিচালিত সেই ছবির নাম ছিল ‘আদিপুরুষ’। সংলাপ, চিত্রায়ণ এবং দুর্বল ভিএফএক্সের জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ছবিটিকে।
আবার টেলিভিশনের পর্দায় অরুণ গোভিল অভিনীত রামায়ণ আজও দর্শকের মনে বিশেষ জায়গা করে রেখেছে। রণবীর, প্রভাস, অরুণ ছাড়াও একাধিক অভিনেতা সিনেমা এবং টেলিভিশনের পর্দায় রামের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।
রামায়ণের কাহিনির উপর ভিত্তি করে বলিউডের থেকেও বেশি সিনেমা তৈরি হয়েছে তেলুগু ছবির জগতে। তবে ৬০ এবং ৭০-এর দশকের এমন এক কিংবদন্তি তারকা ছিলেন, যিনি রাম এবং রাবণ— উভয় চরিত্রেই অভিনয় করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।
রাম এবং রাবণ চরিত্রে মোট পাঁচ বার করে অভিনয় করেছিলেন সেই অভিনেতা। বহু বছর পর ৯০-এর দশকে তাঁর নাতিও রামের ভূমিকায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।
কথা হচ্ছে তেলুগু চলচ্চিত্র জগতের প্রয়াত তারকা নন্দমুরি তারাকা রাম রাও ওরফে এনটিআরকে নিয়ে। আর তাঁর নাতি এনটিআর জুনিয়র বর্তমানে দক্ষিণী ছবির একজন সুপারস্টার।
এনটিআর শুধু অভিনেতা ছিলেন না। পরিচালক, প্রযোজক, লেখক এবং সম্পাদকের ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। এমনও একটা সময় ছিল যখন এনটিআর রাম এবং রাবণ উভয় চরিত্রেই সাবলীল ভাবে অভিনয় করেছিলেন।
একই ছবিতে রাম এবং রাবণ— উভয় চরিত্রে অভিনয় করার করার নজির যেমন রয়েছে এনটিআরের, আবার রামের বাবা দশরথের ভূমিকাতেও পর্দায় অভিনয় করেছিলেন তিনি।
কয়েক দশক দীর্ঘ কর্মজীবনে পাঁচ বার করে রাম এবং রাবণের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এনটিআর। ‘লব কুশ’ (১৯৬৩), ‘শ্রী কৃষ্ণ সত্য’ (১৯৭১), ‘শ্রী রামঞ্জনেয় যুদ্ধম’ (১৯৭৫) এবং ‘শ্রী রাম পট্টাভিষেকম’ (১৯৭৮) ছবিতে রামের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এনটিআর। ‘রামদাসু’ (১৯৬৪) ছবিতেও অতিথি চরিত্রে রামের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।
অন্য দিকে ‘ভূকৈলাস’ (১৯৫৮),‘সীতা রাম কল্যাণম’ (১৯৬১), ‘শ্রী কৃষ্ণ সত্য’ (১৯৭১), ‘শ্রী রাম পট্টাভিষেকম’ (১৯৭৮) এবং ‘ব্রহ্মর্ষি বিশ্বামিত্র’ (১৯৯১) ছবিতে রাবণের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। ‘শ্রী রাম পট্টাভিষেক’ এবং ‘ব্রহ্মর্ষি বিশ্বামিত্র’ ছবি দু’টির পরিচালকও ছিলেন তিনি।
এর মধ্যে ‘শ্রী কৃষ্ণ সত্য’ এবং ‘শ্রী রাম পট্টাভিষেকম’ ছবি দু’টিতে রাম এবং রাবণ— উভয়ের চরিত্রেই অভিনয় করেছিলেন এনটিআর। শুধু রাম বা রাবণ নয়, একাধিক পৌরাণিক কাহিনির উপর তৈরি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা। অন্তত ১৭ বার অভিনয় করেছিলেন কৃষ্ণের চরিত্রে।
ঠাকুরদা এনটিআরের মতো নাতি জুনিয়র এনটিআরও পৌরাণিক মহাকাব্যে অভিনয় করার সুযোগ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। ১৯৯১ সালে মাত্র আট বছর বয়সে এনটিআর পরিচালিত ‘ব্রহ্মর্ষি বিশ্বামিত্র’ ছবিতে ভরত রাজার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এনটিআর জুনিয়র।
এর পর মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে দাদুর মতো এনটিআর জুনিয়রও রামের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রামায়ণম’ নামের ওই ছবির পরিচালনা করেন গুণশেখর।
তিন হাজারেরও বেশি শিশুশিল্পী এবং কোনও প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতা ছাড়াই নির্মিত সেই ছবিটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অনন্য সৃষ্টি হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে। ছবিটিতে সীতার চরিত্রে স্মিতা মাধব, লক্ষ্মণের চরিত্রে নারায়ণম নিখিল এবং রাবণের চরিত্রে স্বাতী কোডালি অভিনয় করেছিলেন।
১৯৯৭ সালে জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে শিশুদের জন্য তৈরি সেরা ছবির তকমা পায় ‘রামায়ণম’। দু’টি নন্দী পুরস্কারও পায় ছবিটি। নন্দী পুরস্কারের মঞ্চে সেরা শিশুশিল্পীর পুরস্কার পান এনটিআর জুনিয়র এবং স্বাতী কোডালি।
চলতি বছরেই রামায়ণের উপর ভিত্তি করে তৈরি ছবি নিয়ে বড় পর্দায় আসছেন পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি। ছবিটিতে রামের চরিত্রে অভিনয় করছেন রণবীর। সীতা এবং রাবণের চরিত্রে অভিনয় করছেন সাই পল্লবী এবং যশ। ছবির প্রথম পর্ব মু্ক্তি পাবে ২০২৬ সালের দীপাবলিতে। আগামী বছরের দীপাবলিতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটির দ্বিতীয় পর্ব।
সব ছবি: সংগৃহীত।