Antarctica Ice Core Vault

বিশ্বের বিভিন্ন হিমবাহের টুকরো নিয়ে জমানো হচ্ছে আন্টার্কটিকার গভীরে! তৈরি হল পৃথিবীর প্রথম বরফ-ভান্ডার

হিমবাহ খনন (ড্রিল) করে তুলে আনা নলাকার লম্বাটে বরফের টুকরো জমানো হচ্ছে আন্টার্কটিকায়। আগামী প্রজন্মের জন্য সেখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বিভিন্ন হিমবাহের ‘আইস কোর’। এগুলি বিশ্লেষণ করে অতীতের জলবায়ু, গ্রিনহাউস গ্যাস, আবহাওয়া-সহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৭
হিমবাহ।

হিমবাহ। — প্রতীকী চিত্র।

আন্টার্কটিকায় তৈরি হল বিশ্বব্যাপী হিমবাহ-বরফের প্রথম ভান্ডার। বিভিন্ন পর্বতের বিভিন্ন হিমবাহ থেকে সংগৃহীত ‘আইস কোর’ সংরক্ষণ করা হবে এই বরফ ভান্ডারে। উষ্ণায়নের ধাক্কায় ক্রমশ ‘বরফশূন্য’ হচ্ছে পৃথিবী। বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, যেমনটা ভাবা হচ্ছে, তার চেয়েও দ্রুত গলে যেতে পারে বিভিন্ন হিমবাহ। এ অবস্থায় গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের হিমবাহ থেকে বরফের টুকরো এনে জমানো হচ্ছে আন্টার্কটিকার কৃত্রিম ভান্ডারে।

Advertisement

এটি তৈরি করা হয়েছে আন্টার্কটিকার কনকর্ডিয়া গবেষণাকেন্দ্রে। ইউরোপীয় গবেষণা সংস্থাগুলির মিলিত মঞ্চ ‘আইস মেমোরি ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এটি। জানুয়ারি মাসেই বরফের এই কৃত্রিম ভান্ডারের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞানীরা। এই বরফ ভান্ডারের মূল লক্ষ্য হল, হিমবাহগুলি সম্পূর্ণ গলে যাওয়ার আগেই এগুলির মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণ করা।

‘আইস কোর’ হল হিমবাহ খনন (ড্রিল) করে তুলে আনা নলাকার লম্বাটে বরফের টুকরো, যার মধ্যে ওই হিমবাহের হাজার হাজার বছরের পুরনো স্তর রয়েছে। এর মধ্যে বাতাসের বুদবুদ, ধুলো এবং অতীতের অন্য বিভিন্ন উপাদানও মিশে থাকে। এই আইস কোর বিশ্লেষণ করে অতীতের জলবায়ু, গ্রিনহাউস গ্যাস, আবহাওয়া-সহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারেন বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি বর্তমান জলবায়ু কী ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে পারে, তা-ও অনুমান করতে সাহায্য হয় বিজ্ঞানীদের। হিমবাহের এই ‘আইস কোর’গুলি বৈশ্বিক জলবায়ুর একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষণকেন্দ্র হিসাবে কাজ করে। এটি বায়ুমণ্ডলের একটি ‘টাইম ক্যাপসুল’-এর মতো। সেই কারণেই উষ্ণায়নের হাত থেকে এগুলিকে রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিজ্ঞানীদের কাছে।

সম্প্রতি এই কৃত্রিম বরফ ভান্ডারের উদ্বোধনের সময় ‘আইস মেমোরি ফাউন্ডেশন’ তা সরাসরি সম্প্রচার করে। হিমবাহের বরফের এই সংরক্ষণকেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছে আন্টার্কটিকার গভীরে বরফ খোদাই করা একটি গুহার মধ্যে। এই গুহার তাপমাত্রা সর্বক্ষণ মাইনাস ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই আটকে থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এখানেই সংরক্ষিত থাকবে ‘আইস কোর’।

রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলোর কথায়, “এই আইস কোরগুলি কোনও ধ্বংসাবশেষ নয়, এগুলি হল আসলে রেফারেন্স পয়েন্ট। কী পরিবর্তন হয়েছে, কত দ্রুত হয়েছে এবং কেন হয়েছে, তা বর্তমান এবং ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করবে এগুলি।” এই বরফ-ভান্ডারে ইতিমধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে ফ্রান্সের মন্ট ব্ল্যাঙ্ক এবং সুইজারল্যান্ডের গ্র্যান্ড কম্বিন ম্যাসিফ থেকে তুলে আনা আইস কোর। ইটালির ট্রিয়েস্ট থেকেও আইস কোর আনা হয়েছে আন্টার্কটিকার কনকর্ডিয়া গবেষণাকেন্দ্রে।

Advertisement
আরও পড়ুন