Australian Open 2026

বিদায় তৃতীয় বাছাই গফের, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে আলকারাজ়, সাবালেঙ্কা, জ়েরেভ

চলতি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অঘটন ঘটল। কোয়ার্টার ফাইনালে হারলেন মহিলাদের তৃতীয় বাছাই কোকো গফ। তবে কার্লোস আলকারাজ়, এরিনা সাবালেঙ্কা ও আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভ সেমিফাইনালে উঠেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৩
sports

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে হারের পর কোকো গফ। ছবি: রয়টার্স।

তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল মহিলাদের তৃতীয় বাছাই কোকো গফের। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বাদশ বাছাই ইউক্রেনের এলিনা সোয়াইতোলিনার কাছে স্ট্রেট সেটে (১-৬, ২-৬) হারতে হল আমেরিকার তারকাকে। মহিলাদের তৃতীয় বাছাই বিদায় নিলেও পুরুষদের তৃতীয় বাছাই আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভ সেমিফাইনালে উঠেছেন। এক সেট খুইয়ে ম্যাচ জিতেছেন তিনি। স্ট্রেট সেটে জিতেছেন মহিলাদের শীর্ষবাছাই এরিনা সাবালেঙ্কা। মঙ্গলবার চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে জিতেছেন পুরুষদের শীর্ষবাছাই কার্লোস আলকারাজ়ও।

Advertisement

মঙ্গলবার রড লেভার এরিনায় সার্ভিসের সমস্যায় ভুগতে হল গফকে। পর পর তিন বার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর এ বার সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন সোয়াইতোলিনা। ৩১ বছর বয়সেও প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন তিনি।

প্রথম সেটেই গফের সার্ভিসে সমস্যা দেখা যায়। পাঁচটি ডবল ফল্ট করেন তিনি। ফলে তাঁর সার্ভিস চার বার ভাঙেন সোয়াইতোলিনা। গফের সমস্যা কাজে লাগান তিনি। পাল্টা আক্রমণাত্মক খেলেন। তার ফলও পান। দ্রুত প্রথম সেট জিতে নেন সোয়াইতোলিনা।

বাধ্য হয়ে নিজের র‌্যাকেট বার বার বদলান গফ। তার পরেও ভাগ্য বদলায়নি তাঁর। দ্বিতীয় সেটের শুরুতে গফের সার্ভিস আবার ভাঙেন সোয়াইতোলিনা। ৩-০ এগিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে আর ফিরতে পারেননি গফ। শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাঁকে।

মাঝে সন্তান হওয়ার টেনিসকে বিদায় জানিয়েছিলেন সোয়াইতোলিনা। কিন্তু আবার ফিরেছেন তিনি। প্রতিটি গ্র্যান্ড স্ল্যামেই শুরুটা ভাল করেন। কিন্তু চতুর্থ রাউন্ড থেকে সমস্যায় পড়েন। এ বার গফকে হারানোয় প্রথম ক্রমতালিকায় ১০ জনের মধ্যে ঢুকে পড়বেন তিনি। গফকে হারিয়ে সোয়াইতোলিনা বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল, দ্বিতীয় বার কোর্টে ফিরে সেরা ১০-এর মধ্যে ঢুকব। সেই স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। খুব ভাল লাগছে।” অন্য দিকে ম্যাচ হেরে দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে সোজা কোর্ট ছেড়ে বেরিয়ে যান গফ। তাঁকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কতটা হতাশ তিনি।

গফ হারলেও সাবালেঙ্কা ছন্দে রয়েছেন। আরও একটি ম্যাচে স্ট্রেট সেটে (৬-৩, ৬-০) জিতলেন তিনি। গত ম্যাচে স্ট্রেট সেটে জিতলেও দু’টি সেটই টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল। এই ম্যাচে তা হল না। ২৯ নম্বর আমেরিকার ইভা জোভিচ দাঁড়াতে পারেননি সাবালেঙ্কার সামনে। শুরু থেকেই আগ্রাসী টেনিস শুরু করেন সাবালেঙ্কা। একের পর এক ‘এস’ মারতে শুরু করেন। ফলে পিছিয়ে পড়েন জোভিচ। প্রথম সেটে এক বার জোভিচের সার্ভিস ভাঙেন তিনি। আর ফিরতে পারেননি জোভিচ।

প্রথম সেটে জিতে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেন সাবালেঙ্কা। দ্বিতীয় সেটে জোভিচকে একটি গেমও জিততে দেননি তিনি। প্রতিপক্ষের সার্ভিস তিন বার ভাঙেন সাবালেঙ্কা। তবে শীর্ষবাছাইকে সামান্য ভুগিয়েছে তাঁর সার্ভিস। ম্যাচে সাতটি ‘এস’ মারলেও প্রথম সার্ভিসে সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। পাঁচ বার সাবালেঙ্কার সার্ভিস ভাঙার সুয়োগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি জোভিচ। নইলে খেলার ফল হয়তো অন্য রকম হত। সেমিফাইনালে সোয়াইতোলিনার বিরুদ্ধে নামার আগে সার্ভিসের সমস্যা মেটাতে হবে বেলারুশের তারকাকে।

পুরুষদের কোয়ার্টার ফাইনালে এক সেট খুইয়ে (৬-৩, ৬-৭, ৬-১, ৭-৬) লিয়ার্নার তিয়েনকে হারিয়েছেন জ়েরেভ। ২৫ নম্বর আমেরিকার খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে দু’টি সেট টাইব্রেকারে যায়। তার মধ্যে একটি হারেন জার্মানির তারকা জ়েরেভ। অপরটি জেতেন। প্রথম সেটে তিয়েনের একটি সার্ভিস ভাঙেন জ়েরেভ। আর ফিরতে পারেননি তিয়েন। কিন্তু দ্বিতীয় সেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। দুই খেলোয়াড়ই নিজেদের সার্ভিস ধরে রাখেন। ফলে খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে জিতে সমতা ফেরান তিয়েন।

তৃতীয় সেটে স্বমহিমায় ফেরেন জ়েরেভ। তাঁর পাওয়ার টেনিসে সমস্যা হয় তিয়েনের। দু’বার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভেঙে আরাম করে তৃতীয় সেট জিতে নেন জ়েরেভ। তার পরেও হাল ছাড়েননি তিয়েন। চতুর্থ সেটে লড়াই করেন তিনি। খেলা টাইব্রেকারে নিয়ে যান। কিন্তু এ বার আর জ়েরেভকে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি। টাইব্রেকার জিতে ম্যাচ জিতে যান জ়েরেভ।

মঙ্গলবার শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে নেমেছিলেন আলকারাজ়। ষষ্ঠবাছাই অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ডি মিনাউরকে স্ট্রেট সেটে (৭-৫, ৬-২, ৬-১) হারিয়ে সেমিফাইনালে জ়েরেভের সামনে তিনি। প্রথম সেট দেখে মনে হচ্ছিল, ডি মিনাউরকে হারানো সহজ হবে না আলকারাজ়ের পক্ষে। কিন্তু খেলা যত গড়াল, তত দাপট দেখালেন স্পেনের তারকা।

চিরপরিচিত পাওয়ার টেনিসে বাজিমাত করলেন আলকারাজ়। ফলে সার্ভিস করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লেন ডি মিনাউর। গোটা ম্যাচে ১৬ বার তাঁর সার্ভিস ভাঙার সুযোগ পান আলকারাজ়। সব ক’টি কাজে লাগাতে পারলে খেলা আরও আগে শেষ হয়ে যেত। সাত বার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভাঙেন তিনি। ডি মিনাউরও আলকারাজ়ের সার্ভিস সাত বার ভাঙার সুযোগ পান। ভাঙতে পারেন মাত্র দু’বার। তাতে লাভ হয়নি। কারণ, নিজের সার্ভিস ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেটে ডি মিনাউরকে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি আলকারাজ়। দ্রুত খেলা শেষ করেছেন। রড লেভার এরিনায় ঘরের ছেলে ডি মিনাউর যথেষ্ট সমর্থন পেয়েছেন। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি। আলকারাজ় যে ছন্দে রয়েছেন, তাতে সেমিফাইনালে কঠিন চ্যালেঞ্জ জ়েরেভের সামনে।

Advertisement
আরও পড়ুন