Women's T20 World Cup 2026

বিশ্বকাপে জয়ের হ্যাটট্রিক হল না ভারতের, কাপের ব্যাটে বেঁচে রইল দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার হরমনপ্রীতদের

একটা সময় মনে হয়েছিল জিতে যাবেন ভারতের মেয়েরা। কিন্তু মারিজান কাপ একাই লড়লেন। তাঁর ব্যাটে জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিকে রইল দক্ষিণ আফ্রিকা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ২২:২৮
cricket

হরমনপ্রীত কৌর। —ফাইল চিত্র।

জয়ের হ্যাটট্রিক করতে পারল না ভারতের মহিলা দল। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৬ উইকেটে হারলেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিতে হল তাঁদের। একটা সময় মনে হয়েছিল জিতে যাবেন ভারতের মেয়েরা। কিন্তু মারিজান কাপ একাই লড়লেন। তাঁর ব্যাটে জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিকে রইল দক্ষিণ আফ্রিকা।

Advertisement

এই ম্যাচ জিতলে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে দিত ভারত। কিন্তু হেরে নিজেদের উপরেই চাপ বাড়ালেন হরমনপ্রীতেরা। গ্রুপ এ-তে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট তিন ম্যাচে ৬। তার পর ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ, তিন দলেরই পয়েন্ট তিন ম্যাচে ৪। অর্থাৎ, বাকি দুই ম্যাচ জিততে না পারলে সেমিফাইনালে উঠতে সমস্যা হতে পারে ভারতের।

আগের দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন হরমনপ্রীত। ভেবেছিলেন, আগের ম্যাচের মতো বড় রান করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেবেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে ১৩০ রানের বেশি করে কোনও ম্যাচে হারেনি ভারত। অন্য দিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও সর্বধিক ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল। তাই হয়তো প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হরমন।

ভারতের শুরুটা দেখে মনে হয়েছিল, একেবারে ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হরমনপ্রীত। দুই ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। ওভার প্রতি ১০ রানের বেশি হচ্ছিল। কিন্তু স্মৃতি বেশি ক্ষণ টিকতে পারলেন না। বল হাতেও দক্ষিণ আফ্রিকার নায়ক কাপ। স্মৃতিকে ১৭ রানের মাথায় বোল্ড করলেন তিনি।

শেফালি দ্রুত গতিতে রান করছিলেন। কিন্তু আরও এক বার বাউন্সারে পরাস্ত হলেন তিনি। শবনম ইসমাইলের বল তাঁর দস্তানায় লেগে উইকেটরক্ষকের হাতে গেল। ১৫ বলে ৩১ রান করলেন তিনি।

ভারতের মিডল অর্ডারের ব্যাটারেরা শুরু পেলেও বড় রান করতে পারেননি। যস্তিকা ভাটিয়া ১৫, জেমাইমা রদ্রিগেজ় ১২ রানে আউট হন। অধিনায়ক হরমনপ্রীত করেন ২৪ রান। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় রান তোলার গতি কমে যায়।

তখনও দীপ্তি শর্মা ও রিচা ঘোষের উপর ভরসা ছিল। কিন্তু মন্থর উইকেটে ভাল বল করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারেরা। দীপ্তি করলেন ২৯ রান। কাপের শিকার রিচা। তিনি ১৫ রানে ফিরলেন। ফলে অন্তত ১০-১৫ রান কম হল। সেটাই সমস্যায় ফেলল। ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করল ভারত।

রান কম হলেও ভারতের বোলারেরা শুরু থেকে ভরসা দিয়েছিলেন। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে-তে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারেরা হাত খুলতে পারেননি। ২০ রানের মাথায় অধিনায়ক লরা উলভার্টকে আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় ধাক্কা দেন শ্রী চরণি। সেই ওভারেই তিনি শূন্য রানে ফেরান আনেরি ডার্কসেনকে।

দুই উইকেট পড়ার পর তাজ়মিন ব্রিটসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অভিজ্ঞ কাপ। তাঁরা জানতেন, লক্ষ্য খুব বড় নয়। তাই জুটি গড়তে হবে। সেটাই করলেন তাঁরা। মাঝের ওভারে উইকেট তুলতে পারল না ভারত। ব্রিটস শুরুতে একেবারেই রান করতে না পারলেও উইকেট দিয়ে আসেননি। বড় শট খেলার দায়িত্ব ছিল কাপের কাঁধে। সেটা করে দেখালেন তিনি।

দু’জনের মধ্যে ৯৭ রানের জুটি হল। সেই জুটিই তাঁদের জয়ের কাছে নিয়ে গেল। ব্রিটস ৪০ রানে আউট হলেও কাপকে আউট করতে পারেননি ভারতীয় বোলারেরা। নাদিন ডি’ক্লার্ক, ক্লোয়ি ট্রিয়নের সঙ্গে মিলে বাকি কাজটা করেন কাপ। শেষ দিকে আরও হাত খোলেন তিনি। পাঁচ বল বাকি থাকতে দলকে জিতিয়ে দেন। ৪৫ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন কাপ। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে একমাত্র নজর কাড়লেন শ্রী চরণি। ৩ উইকেট নেন তিনি। হতাশ করলেন দীপ্তি। চার ওভারে দিলেন ৪৪ রান। সেখানেই পিছিয়ে পড়ল ভারত।

Advertisement
আরও পড়ুন