গোলের পর ইয়ামালের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।
স্পেন ৪ (ওয়ারজ়াবাল ২, ইয়ামাল, আলতামবাকতি-নিজ গোল)
সৌদি আরব ০
কোথায় ছিল এই স্পেনের খেলা? রবিবার লেমিনে ইয়ামালদের খেলা দেখলে প্রশ্ন করতেই পারেন সমর্থকেরা। প্রথম ম্যাচে কাবো ভার্দের কাছে আটকে গিয়েছিল স্পেন। দ্বিতীয় ম্যাচে আটলান্টায় সৌদি আরবকে উড়িয়ে দিল ৪-০ গোলে। প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে গোল করলেন ইয়ামাল। দু’টি গোল মিকেল ওয়ারজ়াবালের। একটি গোল আত্মঘাতী।
গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সৌদি আরব। পরে সেই আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপ জেতে। আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে সৌদির খেলা। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়েকে আটকে দিয়েছিল তারা। কিন্তু স্পেনের কাছে যাবতীয় প্রতিরোধ ভেঙে পড়ল তাদের। প্রথমার্ধেই তিন গোল দিয়ে খেলা শেষ করে দেয় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে তারা।
ইয়ামালকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। আক্রমণের লক্ষ্যে পেদ্রো পোরোকেও নামিয়েছিলেন। ফ্যাবিয়ান রুইজ়ের জায়গায় এনেছিলেন দানি অলমোকে। গাভির জায়গায় এসেছিলেন আলেক্স বায়েনা। এই চারটি বদলই যেন বদলে দিল স্পেনের খেলা। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে যে স্পেনের দল দাপট রেখেও বিপক্ষের রক্ষণে দাঁত ফোটাতে পারেনি, তারাই ছিন্নভিন্ন করে দিল সৌদি আরবের রক্ষণ।
ইয়ামাল প্রথম থেকেই ছাপ ফেলতে শুরু করেন। ডান প্রান্ত দিয়ে এগোতে এগোতে আচমকাই কাট করে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শট, এটাই ইয়ামালের বৈশিষ্ট্য। শুরু থেকেই সেই কাজ করতে থাকেন তিনি। এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ার পর থেকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ভাল হয়নি তাঁর। তবে ১০০ শতাংশ ফিট না থাকলেও রবিবার যে খেলবেন তা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। শুরুর দিকে তিনিই স্পেনের সবচেয়ে আগ্রাসী ফুটবলার ছিলেন।
শুরুতে স্পেন যে ঝড় তুলেছিল আক্রমণের, তাতে গোল যে কোনও সময়ে আসত। সেটাই আসে দশম মিনিটে। বায়েনা পাস দিয়েছিলেন ওয়ারজ়াবালকে। তিনি ক্রস করেন ব্যাকপোস্টে। সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা ইয়ামাল বল জালে জড়ান। এর পরেও বজায় থাকে তাঁর আক্রমণ। বস্তুত, ইয়ামালের পায়ে বল গেলেই মনে হচ্ছিল স্পেন গোল করবে। পরের দিকে সৌদির গোলকিপার ইয়ামালের একটি অনবদ্য প্রয়াস বাঁচিয়ে দেন।
শুধু আক্রমণই নয়, রক্ষণও করতে দেখা গিয়েছি ইয়ামালকে। সৌদি কর্নার নেওয়ার সময় ইয়ামাল বিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন। কোচ ফুয়েন্তে পরিকল্পনা করেই ইয়ামালকে বিরতিতে তুলে নেন। কারণ স্পেন তত ক্ষণে ম্যাচ শেষ করে দিয়েছিল।
এই ম্যাচ ওয়ারজ়াবালের কাছেও অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল। কাবো ম্যাচে তিনি প্রথম ৩০ মিনিট বলে এক বারও পা লাগাননি। এ দিন প্রথম ৩০ মিনিটে তাঁর দু’টি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট। তা-ও অনেক শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে। ভাগ্য সহায় থাকলে হ্যাটট্রিকও করে ফেলতে পারতেন। তাঁর বাঁ পায়ের একটি শট অল্পের জন্য বারে লিগে প্রতিহত হয়।
কাবো ম্যাচের পর স্পেনের উপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই কাটল এ দিন। কাবো ম্যাচ জিতলে এ দিনই স্পেনের নকআউট নিশ্চিত হয়ে যেত। তবে সেটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে উরুগুয়ে ম্যাচ পর্যন্ত। গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ তারাই। তবে বিশেষজ্ঞেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১০-এ বিশ্বকাপ জেতার বছরে সুইৎজ়ারল্যান্ডের কাছে হেরে শুরু করেছিল স্পেন। এ বারও যদি সেই চিত্রনাট্য মেনে তারা এগোয় তা হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।