Pakistan's India Boycott In T20 World Cup

নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারছেন নকভি? ভারত বিরোধিতায় আরও এক সিদ্ধান্ত পাক বোর্ডের চেয়ারম্যানের

ভারত-বিরোধিতা ক্রমশ বাড়িয়েই চলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এ বার আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। তাতে ক্ষতি হতে পারে পাক ক্রিকেটেরই।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫২
cricket

মহসিন নকভি। —ফাইল চিত্র।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কটের পর এ বার আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মহসিন নকভি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান পাকিস্তান সুপার লিগের সম্প্রচারস্বত্ব ভারতে বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন। তাতে আখেরে পাকিস্তানেরই ক্ষতি। পাকিস্তান ক্রিকেটকে কি দায়িত্ব নিয়ে ধ্বংস করছেন নকভি?

Advertisement

‘জিয়ো নিউজ়’ জানিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে পাকিস্তান সুপার লিগের সম্প্রচারের স্বত্ব ওয়ালি টেকনোলজিসকে বিক্রি করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তার ফলে গত বারের তুলনায় ১৪৯ শতাংশ বেশি টাকা পাবে পাক বোর্ড। গত বার সম্প্রচারস্বত্ব বাবদ ৫৭ কোটি টাকা পেয়েছিল পিসিবি। দু’টি নতুন দল যুক্ত হওয়ায় এ বার তা বেড়ে হয়েছে ১৪২ কোটি টাকা। এই পরিমাণ অবশ্য আইপিএলের ধারেকাছেও নেই। আইপিএলের এক বছরের সম্প্রচারস্বত্ব ২৩,৭৫৮ কোটি টাকা। পাকিস্তানের তুলনায় তা ১৬৭ গুণ বেশি।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে পাকিস্তান সুপার লিগের সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পাকিস্তান। তাতে অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের সমস্যা নেই। কারণ, সেই সময়ই ভারতে আইপিএল চলবে। তার মধ্যে পাকিস্তান সুপার লিগ দেখার দর্শক এমনিতেও পাওয়া যাবে না। তাই নকভির এই সিদ্ধান্তের কোনও প্রভাব ভারতীয় ক্রিকেটে পড়বে না।

তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পাকিস্তানের ক্রিকেটে পড়বে। কারণ, ভারতে প্রতিযোগিতার সম্প্রচার হলে কিছুটা হলেও বেশি অর্থ পেত পাকিস্তান বোর্ড। তাতে তাদেরই সুবিধা হত। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের যা আর্থিক অবস্থা তাতে এই সব সিদ্ধান্ত তাদের বোর্ডকেই আরও সমস্যায় ফেলছে।

বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে মোট ৪৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে। সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসর, টিকিট বিক্রি, আইনি জুয়া ও বাকি সব বিষয় ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। বিশ্বক্রিকেটে অন্য কোনও ম্যাচ এর ধারেকাছে আসে না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বছরে যা রোজগার করে তার ১৫ গুণ ক্ষতি একটি ম্যাচ থেকে হবে।

তার মধ্যে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের ক্ষতি হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যে কোনও আইসিসি প্রতিযোগিতার সেরা আকর্ষণ। সেই ম্যাচের মাঝে একটি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। কিন্তু খেলা না হলে সেই টাকা পাবে না তারা। বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য ১৩৮ কোটি টাকা দিতে হয় সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে। কিন্তু ভারত-পাক ম্যাচের ক্ষেত্রে সেটা অনেকটাই বেশি।

তার প্রভাব পড়বে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের উপরেও। আইসিসির সঙ্গে ২৭,০৭৬ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে সম্প্রচারকারী সংস্থা জিয়োহটস্টারের। তারা ইতিমধ্যেই বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশ্বকাপের নক আউটে বা ভবিষ্যতে কোনও আইসিসি প্রতিযোগিতাতেও ভারত-ম্যাচ বয়কট করবে তারা। এই পরিস্থিতিতে চুক্তির অঙ্ক কমানোর চেষ্টা করছে জিয়োহটস্টার।

আইসিসিও আর্থিক ক্ষতি মেনে নেবে না। ভারত-পাক ম্যাচ না হলে তার দায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে নিতে হবে। পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করলে সম্প্রচারকারী সংস্থার এই ক্ষতি পূরণ করতে হবে তাদের। আইসিসির প্রতিটি বড় প্রতিযোগিতার আগে একটি চুক্তি হয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট বা অংশগ্রহণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির মধ্যে সব ম্যাচ ধরা থাকে। একটি ম্যাচ না খেলা মানেই সেই চুক্তিভঙ্গ করা। শর্ত অনুযায়ী আইসিসি লভ্যাংশ বাবদ পূর্ণ সদস্য দেশগুলিকে বছরে যে টাকা দেয়, তা চুক্তিভঙ্গকারী দেশকে দেবে না। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে যা হতে পারে ৩১৬ কোটি টাকা। সেটাও হয়েছে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তেই। এ বার আবার নিজেদের পায়েই কুড়ুল মেরেছেন নকভি।

Advertisement
আরও পড়ুন