সঞ্জু স্যামসন। ছবি: পিটিআই।
দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে আইপিএলের প্লেঅফে ওঠার আশা আরও কিছুটা উজ্জ্বল করল চেন্নাই সুপার কিংস। চেন্নাইয়ের জয়ের কারিগর সেই সঞ্জু স্যামসন। ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ফর্মে ফিরে একাই বদলে দিয়েছেন চেন্নাইকে। মঙ্গলবার প্রথমে ব্যাট করে দিল্লির করে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান। জবাবে ১৭.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১৫৯ রান চেন্নাইয়ের। এ দিনের ৮ উইকেটে জয়ের পর ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট হল চেন্নাইয়ের।
জয়ের জন্য ১৫৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব ভাল হয়নি চেন্নাইয়ের। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৬) এবং উর্ভিল পটেল (১৭) দ্রুত আউট হয়ে যান। প্রাথমিক চাপ সামলে হাত খোলেন সঞ্জু। চার নম্বরে নামা কার্তিক শর্মা ২২ কিছুটা থিতু হওয়ার পর দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন সঞ্জু। চেন্নাইয়ের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল দায়িত্ব তুলে নেন কাঁধে। তাঁর ব্যাটিংয়ে ওভার প্রতি রান তোলার লক্ষ্য ক্রমশ কমে আসে।
সঞ্জুর আগ্রাসন থামাতে পারেননি দিল্লির ব্যাটারেরা। মানানসই ইনিংস খেললেন কার্তিকও। সঞ্জু মাঠ ছাড়লেন দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়ে। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৫২ বলে ৮৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস। ৭টি চার এবং ৬টি ছয় মারলেন। লক্ষ্য বেশি না থাকায় শতরান হল না তাঁর। কার্তিক ৪টি চার এবং ২টি ছয়ের সাহায্যে ৩১ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকলেন। তাঁদের জুটিতে উঠল ১১৪ রান।
দিল্লির বোলারদের মধ্যে অধিনায়ক অক্ষর পটেল ২৫ রানে ১ উইকেট নিলেন। ৩০ রানে ১ উইকেট লুঙ্গি এনগিডির। মিচেল স্টার্ক ৩০ রান দিয়েও উইকেট পেলেন না। টি নটরাজন ২.৩ ওভারে ৩৯ রান দিয়েও উইকেট পেলেন না। কুলদীপ যাদব ৩ ওভারে খরচ করলেন ৩৪ রান। উইকেট নিতে পারেননি তিনিও।
এর আগে ঘরের মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন দিল্লির অধিনায়ক। কিন্তু অক্ষরের দলের ব্যাটারেরা তাঁর সিদ্ধান্তের মর্যাদা দিতে পারেননি। শুরু থেকেই ধারাবাহিক ব্যবধানে উইকেট হারাতে শুরু করে দিল্লি। ৬৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরও দলকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেন ট্রিস্টান স্টাবস এবং ইমপ্যাক্ট সাব সমীর রিজ়ভি।
ওপেন করতে নেমে রান পাননি পাথুম নিসঙ্ক এবং লোকেশ রাহুল। নিসঙ্ক ১৫ বলে ১৯ এবং রাহুল ১৩ বলে ১২ রান করে আউট হন। দলকে ভরসা দিতে পারেননি নীতীশ রানা (১৩ বলে ১৫), করুণ নায়ার (১৩ বলে ১৩) এবং অক্ষর (৬ বলে ২)। নুর আহমেদ, মুকেশ চৌধরিদের বল খেলতে সমস্যায় পড়েন দিল্লির ব্যাটারেরা।
চাপের মুখে দলের ইনিংসের হাল ধরেন স্টাবস এবং রিজ়ভি। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁরা তোলেন ৬৫ রান। স্টাবস করেন ৩১ বলে ৩৮। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১টি চার এবং ২টি ছক্কা। শেষ দিকে আশুতোষ শর্মা করেন ৫ বলে ১৪। দু’টি ছয় মারেন তিনি। রিজ়ভি অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ৪০ রান করে। ৪টি ছক্কা এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। তাঁর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের ২২ গজে ছিলেন মিচেল স্টার্ক (০)।
চেন্নাইয়ের সফলতম বোলার নুরের ২২ রানে ২ উইকেট। ৫ রানে ১ উইকেট জেমি ওভারটনের। ১৯ রানে ১ উইকেট আকিল হোসেনের। ২৯ রানে ১ উইকেট গুরজাপনীত সিংহের। এ ছাড়া ৩১ রানে ১ উইকেট মুকেশের।