IPL 2026

সহজ ম্যাচও কঠিন করে জিতল গুজরাত, সুদর্শনের অর্ধশতরানে জয় ৪ উইকেটে, ব্যাটিং ব্যর্থতায় আবার হার পঞ্জাবের

লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৬৪ রানের। অহমদাবাদে ঘরের মাঠে সেই ম্যাচ জিততেও শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল গুজরাতকে। সাই সুদর্শনের অর্ধশতরান এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের ঠান্ডা মাথার ইনিংসে পঞ্জাবকে ৪ উইকেটে হারাল গুজরাত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ২৩:২৪
cricket

সুদর্শনের অর্ধশতরান জেতাল পঞ্জাবকে। ছবি: পিটিআই।

লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৬৪ রানের। অহমদাবাদে ঘরের মাঠে সেই ম্যাচ জিততেও শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল গুজরাতকে। সাই সুদর্শনের অর্ধশতরান এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের ঠান্ডা মাথার ইনিংসে পঞ্জাবকে ৪ উইকেটে হারাল গুজরাত। প্রথমে ব্যাট করে ১৬৩/৯ তুলেছিল পঞ্জাব। জবাবে গুজরাত ৬ উইকেট হারিয়ে সেই রান তুলে নেয়। ২৩ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেন ওয়াশিংটন।

Advertisement

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল পঞ্জাব। শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তারা। প্রথম ওভারেই দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ সিরাজ। দ্বিতীয় বলে ফিরে যান প্রিয়াংশ আর্য (২)। তৃতীয় বলে ফেরেন কুপার কনোলি (০)। দুই ব্যাটারই চলতি মরসুমে পঞ্জাবের হয়ে ভাল খেলছেন। দুই সেরা ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে তারা।

সেই চাপ কিছুটা কাটানোর চেষ্টা করেন প্রভসিমরন সিংহ (১৫) এবং শ্রেয়স আয়ার (১৯)। দু’জনে মিলে তৃতীয় উইকেটে ৩৩ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু প্রভসিমরন ফিরতেই পঞ্জাবের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। পর পর ফিরে যান নেহাল ওয়াধেরা (০) এবং শ্রেয়সও। ৪৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে পঞ্জাব। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন সূর্যাংশ শেড়গে এবং মার্কাস স্টোইনিস।

ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই ব্যাটারের ৭৯ রানের জুটিতে ভদ্রস্থ রান তোলে পঞ্জাব। তা-ও প্রথম দিকে সে ভাবে রান উঠছিল না। মানব সুতারের একটি ওভার খেলার পরিস্থিতি বদলে দেয়। ওই ওভারে সুতারকে তিনটি ছয় এবং দু’টি চার মেরে ২৭ রান নিয়ে চাপ কিছুটা হালকা করেন শেড়গে। তবে নিজের ইনিংস বেশি ক্ষণ টেনে নিয়ে যেতে পারেননি। কাগিসো রাবাডার বলে খোঁচা দিয়ে ফিরে যান শেড়গে। তিনটি চার এবং পাঁচটি ছয়ের সাহায্যে ২৯ বলে ৫৭ রান করেন।

পঞ্জাবের ভার ছিল স্টোইনিসের কাঁধে। তিনি খেলছিলেনও খারাপ নয়। কিন্তু জেসন হোল্ডারের বলে তুলে মারতে গিয়ে ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ হয়নি। লং অনে ক্যাচ ধরেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ৩১ বলে ৪০ করেন স্টোইনিস। এর পর আবার পঞ্জাবের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। হোল্ডারের ওই ওভারেই জেভিয়ার বার্টলেট ফিরে যান। মার্কো জানসেনের বলে আর্শাদ খানের সহজ ক্যাচ না সুতার ফেলে না দিলে অলআউট হয়ে যায় পঞ্জাব।

শুরুটা গুজরাতেও ভাল হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান শুভমন (৫)। কিন্তু বাকিদের উপর চাপ পড়তে দেননি সাই সুদর্শন এবং জস বাটলার। দু’জনে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রান যোগ করেন। একটি চার এবং দু’টি ছয়ের সাহায্যে ২২ বলে ২৫ করে ফেরেন বাটলার। নিশান্ত সিন্ধু ১১ বলে ১৫ রান করেন। অতীতে গুজরাতের হয়ে বহু ম্যাচ একার হাতে জিতিয়েছেন রাহুল তেওতিয়া। তিনিও এ দিন খেলতে পারছিলেন না। মারতে গিয়ে ৬ বলে ২ রান করে ফিরে যান।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্রিজ়ে যোগ দেন হোল্ডার (৭)। বল হাতে ভাল খেললেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ তিনি। চেষ্টা করলেও কিছুতেই বড় শট খেলতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত অর্শদীপ সিংহকে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন। অসাধারণ ক্যাচ নেন কনোলি।

শেষ ওভারে ১১ রান দরকার ছিল গুজরাতের। স্টোইনিস প্রথম বলটি ওয়াইড করেন। দ্বিতীয় বলে চার মারেন আর্শাদ। তৃতীয় বলে রান হয়নি। চতুর্থ বলে ঝুঁকি নিয়ে এক রান নেন। পঞ্চম বলে চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন ওয়াশিংটন।

Advertisement
আরও পড়ুন