অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে উল্লাস পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের। ছবি: এক্স।
শেষ বার ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়াকে কোনও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারিয়েছিল পাকিস্তান। ২০১৯ সালে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে য়ায়। মাঝে সাত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সাতটিই হেরেছিল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার লাহৌরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ২২ রানে হারালেন বাবর আজ়মেরা। বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। সিদ্ধান্ত যা-ই হোক না কেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু হল পাকিস্তানের।
প্রথম ম্যাচে দাপট দেখালেন স্পিনারেরা। লাহৌরের মন্তর উইকেটে দু’দলের স্পিনারের নিলেন ১০ উইকেট। মোট ১৬ উইকেটের মধ্যে দু’টি রানআউট। বাকি চারটি নিয়েছেন পেসারেরা। পাকিস্তানের কোনও পেসার অবশ্য কোনও উইকেট পাননি। সবই গিয়েছে স্পিনারদের ঝুলিতে।
প্রথম ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান করে পাকিস্তান। ওপেনার সাহিবজ়াদা ফারহান প্রথম বলে শূন্য রানে আউট হন। তবে অপর ওপেনার সাইম আয়ুব ভাল খেলেন। ২২ বলে ৪০ রান করেন তিনি। পাকিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটে তিনিই খেলেন।
বাবর ২৪ রান করলেও নিলেন ২০ বল। অর্থাৎ, তাঁর স্ট্রাইক রেটের সমস্যা এখনও মেটেনি। অধিনায়ক সলমন আলি আঘা নেমেছিলেন তিন নম্বরে। ২৭ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। বাকি কেউ বড় রান পাননি। অস্ট্রেলিয়ার বোলারেরা অতিরিক্ত ১৭ রান দেন। তাঁদের হারের নেপথ্যে বড় কারণ সেটি।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে স্পিনার অ্যাডাম জ়াম্পা ২৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। দুই পেসার জ়েভিয়ার বার্টলেট ও মাহলি বিয়ার্ডম্যান ২ করে উইকেট নেন। ম্যাচ জিতলেও পাকিস্তানের ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট চিন্তায় রাখবে। বিশ্বকাপ চলাকালীন রাতে শিশিরের প্রভাব থাকবে। তখন প্রথমে ব্যাট করে অন্তত ১৮০ রান করতে না পারলে জেতা কঠিন।
১৬৯ রান তাড়া করতে নেমে অসি ওপেনার ম্যাথু শর্ট ৫ রানে আউট হন। এই সিরিজ়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ট্রেভিস হেড ভাল খেলছিলেন। কিন্তু ১৩ বলে ২৩ রান করে আউট হন তিনি। ব্যাটের পর বল হাতেও নজর কাড়েন সাইম। হেডকে আউট করেন তিনি। কেকেআরের ক্যামেরন গ্রিন ৩১ বলে ৩৬ রান করেন।
মাঝের ওভারে পর পর উইকেট পড়ায় সমস্যায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিকে বার্টলেট ২৫ বলে ৩৪ রান করেন। তাতে লাভ হয়নি। পাকিস্তানের বোলারেরা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। মাত্র ৩ রান অতিরিক্ত দেন তাঁরা। সেটাই তফাত গড়ে দেয়। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ২২ রানে হারে তারা।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সাইম ও আব্রার আহমেদ ২ করে উইকেট নেন। ১ করে উইকেট নেন শাদাব খান ও মহম্মদ নওয়াজ়। বাকি দু’টি রানআউট। অর্থাৎ, শাহিন শাহ আফ্রিদিরা উইকেট পাননি। স্পিনারেরাই জেতান দলকে।