ট্রসার্ড ও টিয়েলেম্যানসের বিবাদ মেটাচ্ছেন লুকাকু। ছবি: এক্স।
সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছোলেও কি বেলজিয়াম দলের অন্দরের পরিবেশ ভাল নেই? ফুটবলারদের মধ্যে অশান্তি চলছে? সেই ছবিই তো দেখা গিয়েছে সেনেগাল ম্যাচে। পিছিয়ে পড়েও সেনেগালকে কোনও রকমে হারিয়েছে বেলজিয়াম। কিন্তু মাঠেই বিবাদ হয়েছে বেলজিয়ামের দুই ফুটবলার ইউরি টিয়েলেম্যানস ও লিয়োনার্দো ট্রসার্ডের। সেই বিবাদ মেটাতে হয়েছে রোমেলু লুকাকুকে।
ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল বেলজিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধে জলপানের বিরতির সময় দেখা যায় ট্রসার্ডের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন অধিনায়ক টিয়েলেম্যানস। যথেষ্ট উত্তেজিত দেখায় তাঁকে। ট্রসার্ডও পাল্টা কিছু বলেন। বোঝা যাচ্ছিল, দু’জনে দু’জনের উপর বিরক্ত। তখনই সেখানে আসেন লুকাকু। দু’জনের মাঝে দাঁড়িয়ে কথা বলেন তিনি। বোঝান। কিছু ক্ষণ পরে দুই ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়াকেও। তার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পরে অবশ্য বেলজিয়ামের জয় আসে এই দু’জনের পায়েই। প্রথমে ট্রসার্ডের ক্রসে টোকা মেরে বল জালে জড়িয়ে এক গোল শোধ করেন লুকাকু। পরে ট্রসার্ডের ক্রসে হেড করে গোল করে সমতা ফেরান টিয়েলেম্যানস। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে ট্রসার্ডের পাস বক্সের মধ্যে প্রায় ধরে ফেলেছিলেন টিয়েলেম্যানস। তাঁকে ফাউল করে বসেন সেনেগালের ফুটবলার লামিন কামারা। রেফারি ভার রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন। গোল করে দলকে জেতান টিয়েলেম্যানস।
বেলজিয়ামই দ্বিতীয় দল যারা গত ১১টি বিশ্বকাপের নকআউটে ০-২ পিছিয়ে থাকার পর ম্যাচ জিতেছে। এর আগেও এই কীর্তি করেছে তারা। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে জাপানের বিরুদ্ধে ০-২ পিছিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত ৩-২ জিতেছিল বেলজিয়াম। আরও এক বার সেই কীর্তি করেছে তারা। কিন্তু যে ভাবে মাঠের মধ্যেই দুই ফুটবলার বিবাদে জড়ালেন তা কিন্তু দলের পক্ষে ভাল বিজ্ঞাপন নয়।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শেষ ষোলোয় আয়োজক দেশ আমেরিকার মুখোমুখি বেলজিয়াম। আবার কঠিন চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে। ঘরের মাটিতে দুর্দান্ত খেলছে আমেরিকা। সেখানে কিন্তু পিছিয়ে থাকলে বেলজিয়ামের ফেরা কঠিন হবে। সেই ম্যাচের আগে দলের অন্দরের সমস্যা মেটাতে হবে গার্সিয়াকে।