ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ছবি: রয়টার্স।
ব্রাজ়িল - ৩ (ভিনিসিয়াস ২, কুনহা)
স্কটল্যান্ড - ০
বিশ্বকাপের বিশ্বায়ন করতে গিয়ে ফুটবলের শীতলায়ন করে ফেলেছে ফিফা। ব্রাজ়িল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ তার অন্যতম সেরা উদাহরণ। স্কটিশেরা যেন আত্মসমপর্ণের মানসিকতা নিয়েই নেমেছিলেন লিয়োনেল মেসির পাড়ার মাঠে। অধিকাংশ সময় নিজেদের অর্ধেই থাকলেন স্কটল্যান্ডের ১০ জন ফুটবলার! ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের গোলও উপহার দিলেন।
১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছিল স্কটল্যান্ড। ১৯৯০ এবং ২০০৬ সালের বিশ্বকাপেও লড়াই করেছিল। সেই লড়াই দেখা গেল না বৃহস্পতিবার। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ব্রাজ়িলের ফুটবলারেরা। বলা ভাল নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দেয় স্কটল্যান্ড। ব্রাজ়িলের অর্ধে বল গেলেও স্কটিশ ফুটবলারেরা হাফ লাইন পার হচ্ছিলেন না! ব্রাজ়িলের চার ডিফেন্ডার নিজেদের অর্ধে খেললেন অনুশীলনের মেজাজে। ছোট ছোট পাস খেলে আক্রমণ তৈরি করছিলেন ম্যাথেউস কুনহা, রায়ান, ভিনিসিয়াসেরা। স্কটল্যান্ডের ফুটবলারেরা চ্যালেঞ্জও করছিলেন না। ট্যাকলও করছিলেন না। যে দিকে বল যাচ্ছিল, সে দিকে সকলে চলে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যেই ৭ মিনিটে স্কট ম্যাককেনা নিজেদের বক্সেই ভুল করে বসলেন। রায়ান বল কেড়ে নিয়ে দেন ভিনিসিয়াসকে। অরক্ষিত অবস্থায় বল পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি তিনি। ব্রাজ়িলের পঞ্চম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচেই গোল করলেন ভিনিসিয়াস। ১৯৭০ সালে জাইরজ়িনহো, ১৯৯৪ সালে রোমারিয়ো এবং ২০০২ সালে রোনাল্ডো এবং রিভাল্ডোর পর এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। একই সঙ্গে তাড়া করছেন লিয়োনেল মেসিকেও।
২১ মিনিটে আবারও স্কটল্যান্ড ডিফেন্সের জঘন্য ভুল কাজে লাগিয়ে গোল করে ফেলেছিলেন ভিনিসিয়াস। রেফারি প্রথমে গোল দিলেও ‘ভার’ সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। রিপ্লে দেখার পর গোল বাতিল করে ফাউল দেন রেফারি। গোল করার আগে বল কাড়ার সময় ফাউল করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকার। হাইড্রেশন বিরতির পর স্কটল্যান্ড আক্রমণে উঠতে শুরু করে। ব্রাজ়িলের বক্সে চাপ বাড়াতে শুরু করেন স্কটিশেরা। তবে তাদের অ্যাটাকিং থার্ডের দুর্বলতা ব্রাজ়িলকে বিপদে ফেলতে পারেনি। বরং প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময় দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস। ছয় গজের মধ্যে এ বারও অরক্ষিত অবস্থায় বল পান তিনি। হেড দিয়ে গোল করেন বিনা বাধায়।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ভাল দেখিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। আগ্রাসী ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছে। প্রথম ৪ মিনিটেই গোল করার দু’টি ভাল সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে সাফল্য আসেনি। প্রতি আক্রমণ থেকে ৫০ মিনিটের মাথায় দিনের অন্যতম সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ভিনিসিয়াস। একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন কুনহাও। ৬০ মিনিটে ব্রাজ়িলের হয়ে তৃতীয় গোলটি তাঁরই। বক্সের বাইরে বল ধরে স্কটল্যান্ডের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল সাজিয়ে দেন ব্রুনো গিমারায়েস। এ বার আর ভুল করেননি কুনহা। স্কটল্যান্ড দিনের সহজতম সুযোগ হাতছাড়া করে ৬৫ মিনিটে। বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকক পায় স্কটিশেরা। ভেসে আসা বলে স্কট ম্যাকটমিনে হেড করেন। শরীর ছুড়ে দিয়ে কোনও রকমে দুর্গ রক্ষা করেন অ্যালিসন। ম্যাচে এই প্রথম তাঁকে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। শেষ ১৫ মিনিটেও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন ব্রাজ়িলের ফুটবলারেরা।
স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধেও নেমারকে প্রথম একাদশে রাখেননি ব্রাজ়িল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। ৭৬ মিনিটে তাঁকে মাঠে নামান। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম ব্রাজ়িলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন তিনি। চোট কাটিয়ে ম্যাচে ফেরা নেমার অবশ্য তেমন কিছু করতে পারেননি। আনচেলোত্তি প্রথম একাদশে রেখেছিলেন ১৯ বছরের রায়ানকে। ১৯৭০ সালে মার্কো অ্যান্তোনিয়োর পর প্রথম কোনও টিনএজার বিশ্বকাপে ব্রাজ়িলের প্রতিনিধিত্ব করলেন।
নকআউটে মরক্কো
মরক্কো - ৪
হাইতি -০
হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপ রানার্স হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে গেল গত বারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। আশরফ হাকিমিদের বেশ বেগ দিল হাইতি। ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাওয়া হাইতি বিদায় নিলেও নজির গড়ল। বিশ্বকাপে গোল করার ৫২ বছরের অধরা স্বপ্ন সফল হল তাদের। ইয়াসিন বুনোর আত্মঘাতী গোলে ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় হাইতি। ৩৯ মিনিটে মরক্কোকে সমতায় ফেরান হাকিমি। কিন্তু ৪৩ মিনিটে উইলসন ইসিডর আবার এগিয়ে দেন হাইতিকে। ১৯৭৪ সালে ইটালির বিরুদ্ধে লেনি জোসেফের গোলের পর ইসিডরের এই হাইতির ফুটবল ইতিহাসে লেখা থাকবে।
আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচ যেন পরতে পরতে রং বদলাচ্ছিল তখন। হাইতিও বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময় মরক্কোর হয়ে সমতা ফেরান ইসলাইল সাইবারি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য মরক্কোরই আধিপত্য ছিল। ৭৮ মিনিটে সুফিয়ান রহিমি এবং ৮৯ মিনিটে জেসিম ইয়াসিন মরক্কোর হয়ে গোল করেন।
তিনটি করে ম্যাচ খেলার পর ব্রাজ়িল এবং মরক্কো দু’দলেরই পয়েন্ট ৭। মুখোমুখি লড়াই শেষ হয়েছিল ১-১ ফলে। গোলপার্থক্যে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হল পাঁচ বারের বিশ্বজয়ীরা।