PAC

মামলা জারি, দুই তৃণমূলের দ্বন্দ্ব গড়াতে পারে পিএসি-তে

বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হলে নতুন বিভিন্ন কমিটি ঘোষণা হওয়ার কথা। তার মধ্যে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আয়-ব্যয় ও হিসেব পরীক্ষার জন্য গঠিত পিএসি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ০৬:৫৭

—প্রতীকী চিত্র।

কালীঘাটপন্থী বনাম বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েই চলেছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। তারই পাশাপাশি দুই শিবিরের দ্বন্দ্বে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতে (পিএসি) এ বার ভোটাভুটির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হলে নতুন বিভিন্ন কমিটি ঘোষণা হওয়ার কথা। তার মধ্যে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আয়-ব্যয় ও হিসেব পরীক্ষার জন্য গঠিত পিএসি। মোট ২০ সদস্যের কমিটিতে শাসক ও বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। কিন্তু বিরোধী দল তৃণমূলের তরফে কারা কমিটির সদস্য হবেন, সেই প্রশ্নে বিবদমান দুই শিবিরের ঐকমত্যের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তেমন হলে ২০ সদস্যের জন্য তার চেয়ে বেশি মনোনয়ন জমা পড়তে পারে এবং সে ক্ষেত্রে ভোটাভুটি অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। পিএসি-র চেয়ারম্যান কে হতে পারেন, সেই প্রশ্নেও টানাপড়েন রয়েছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের এক বিধায়কের কথায়, ‘‘ভোটাভুটি হলে এক দিকে ভালই হবে। কাদের সংখ্যা বেশি, তখনই স্পষ্ট হয়ে যাবে!’’ পিএসি-র মতো আরও দুই কমিটিতে একই পরিস্থিতি হতে পারে।

বিরোধী দলনেতা হিসাবে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ নেতা ঋতব্রতকে স্বীকৃত দেওয়ার স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চ। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। হাই কোর্ট মঙ্গল ও বুধবারের শুনানির পরে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ১৬ জুলাই। শুনানিতে বিরোধী দলনেতা পদের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ। কোর্টের পর্যবেক্ষণ, বিরোধী দলনেতা না-হলেও বিধায়ক হওয়ার সুবাদে দলের মতামত বিধানসভায় জানাতেই পারবেন মামলাকারী। বিরোধী দলনেতা মানেই দলের বা সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা, এমন নয়। মামলাকারী শোভনদেবের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, বাড়তি সময় পায় প্রধান বিরোধী দল এবং বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার এবং সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার বাড়তি সুযোগ পাওয়া যায়। তাই বিরোধী দলনেতার পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে পরবর্তী শুনানির আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে দরবারের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিদ্রোহী শিবির।

আরও পড়ুন