সুইৎজ়ারল্যান্ডের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।
কানাডাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’র এক নম্বর দল হিসাবে নকআউটে পৌঁছোল সুইৎজ়ারল্যান্ড। রানার্স হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে অন্যতম আয়োজকেরাও। অন্য ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল বসনিয়া।
বিশ্বকাপে গ্রুপের শেষ দু’টি ম্যাচ একসঙ্গে শুরু হয়। অন্য ম্যাচের ফল দেখে কোনও দল যাতে বাড়তি সুবিধা নিতে না পারে সে জন্যই এই ব্যবস্থা। সেই মতো সুইৎজ়ারল্যান্ড-কানাডা এবং বসনিয়া-কাতার ম্যাচ শুরু হয় এক সময়।
সুইৎজ়ারল্যান্ড - ২
কানাডা - ১
জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল সুইৎজ়ারল্যান্ড এবং কানাডা দু’দলের কাছেই। তাই দু’দলই কিছুটা সাবধানে শুরু করেছিল। সুইৎজ়ারল্যান্ড আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে মাঠে নামলেও কানাডা প্রতি আক্রমণমূলক রণনীতি নিয়েছিল। প্রথমার্ধে দু’দলই গোলের একাধিক সুযোগ নষ্ট করে। গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিটের খেলা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের জন্য ঝাঁপায় সুইৎজ়ারল্যান্ড। ফলও মেলে। খেলা শুরুর ১ মিনিটের মধ্যে রুবেন ভার্গাসের গোলে এগিয়ে যায় সুইৎজ়ারল্যান্ড। এগিয়ে যাওয়ার পর কানাডাকে আরও চেপে ধরে তারা। একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে। ৫৭ মিনিটে সুইৎজ়ারল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় গোল জোহান মানজ়াম্বির। ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজকেরা। ৭৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে নাথান সালিবার কাছ থেকে বল পেয়ে গোল করেন প্রমিস ডেভিড। চেষ্টা করেও আর গোল করতে পারেনি কোনও দল। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শেষ করল সুইৎজ়ারল্যান্ড। হারলেও গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল কানাডা। তিন ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। গোল পার্থক্যে দ্বিতীয় হল তারা।
বসনিয়া - ৩
কাতার - ১
অন্য দিকে, গত বারের বিশ্বকাপ আয়োজকদের বিরুদ্ধে সহজ জয় পেল বসনিয়া হার্জ়েগোভিনা। ম্যাচের প্রথম থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলে কাতারকে চাপে রাখেন বসনিয়ার ফুটবলারেরা। ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন কেরিম আলাইবেগোভিচ। ৫ মিনিটের ব্যবধানে লিড বাড়িয়ে নেন তাঁরা। কাতারের ডিফেন্ডার সুলতান আল-ব্রেক বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে চাপের মুখে আত্মঘাতী গোল করে বসেন। ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর আত্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় কাতার। ৪২ মিনিটের মাথায় হাসান আল-হেইদোসের গোলে ব্যবধান কমায় কাতার। ৮০ মিনিটে দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করে বসনিয়ার জয় নিশ্চিত করেন আরমিন মাহমিচ।
কাতার জিততে পারলে সুযোগ থাকত। কিন্তু তিন ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ছিটকে গেল তারা। বসনিয়ার পয়েন্ট তিন ম্যাচে ৪। গোল পার্থক্যে কানাডার থেকে পিছিয়ে থাকায় তৃতীয় হল তারা। তৃতীয় স্থানে শেষ করা আটটি দল নকআউটে যাবে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য অন্য গ্রুপগুলির ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে বসনিয়াকে।