East Bengal FC

মোহনবাগানকে টপকে গেল ইস্টবেঙ্গল! চেন্নাইয়িনকে তিন গোল দিয়ে পয়েন্ট তালিকায় তিনে উঠল লাল-হলুদ

মরসুমের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে। পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াল ইস্টবেঙ্গল। চেন্নাইয়িন এফসি-কে ৩-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় তিনে উঠে এল তারা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০২
football

গোলের পর এডমুন্ডের উচ্ছ্বাস। ছবি: সমাজমাধ্যম।

চেন্নাইয়িন ১ (ইরফান)
ইস্টবেঙ্গল ৩ (এডমুন্ড, বিপিন, নন্দকুমার)

Advertisement

মরসুমের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে। পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াল ইস্টবেঙ্গল। চেন্নাইয়িন এফসি-কে ৩-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় তিনে উঠে এল তারা। ৭ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট হল ১৪। সমসংখ্যক ম্যাচে মোহনবাগানের একই পয়েন্ট থাকলেও গোল পার্থক্যে তিনে উঠে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল।

দীর্ঘ চোট সারিয়ে এই ম্যাচে ফিরেছিলেন কেভিন সিবিলে। চোট সারিয়ে ওঠা মহম্মদ রশিদও জায়গা পেয়েছিলেন প্রথম একাদশে। প্রথম মিনিটেই চেন্নাইয়িনের কাছে সুযোগ এসে গিয়েছিল। যদিও প্রভসুখন এগিয়ে এসে তা বাঁচিয়ে দেন। চার মিনিটের মাথায় সাউল ক্রেসপোর ফ্রিকিক থেকে মিগুয়েলের হেড ছিল গোলের দিকে। সিবিলে গোল করার চেষ্টা করলেও চেন্নাই গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজ় বল ধরে নেন।

সাত মিনিটেই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠে বল হারান এলসিনহো। মাঠে শুয়ে পড়ে কাতরাতে থাকলেও পাত্তা দেননি রেফারি। ক্রেসপো বল পেয়ে সামনে ফাঁকায় থাকা এডমুন্ডকে বাড়িয়ে দেন। এডমুন্ড বল ধরে এগিয়ে যান। সময় নিয়ে ডান পায়ের শটে গোল করে এগিয়ে দেন ইস্টবেঙ্গলকে।

এর পর শুধুই সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনী। একাধিক বার চেন্নাইয়ের বক্সে বল নিয়ে চলে গেলেও গোল করতে পারছিল না ইস্টবেঙ্গল। উল্টে ফারুখ চৌধুরির ক্রস থেকে ইরফানের হেড পোস্টে না লাগলে ২০ মিনিটেই সমতা ফেরাতে পারত চেন্নাই। এই সুযোগ অনেকটা চাঙ্গা করে দেয় তাঁকে। তিনি বার বার লাল-হলুদের বক্সে আক্রমণ করতে থাকেন।

গোলও পেয়ে যান সে ভাবেই। একটি আক্রমণের সময় ইস্টবেঙ্গলের বেশির ভাগ ফুটবলার উপরে উঠে গিয়েছিলেন। তখনই রেন্থলেই বল পেয়ে ইরফানের উদ্দেশে ভাসিয়ে দেন। ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার প্রভসুখন অনেকটা এগিয়ে এসেছিলেন। পিছনে ফেরার সময় থাকলেও তিনি এগোবেন না পিছোবেন সেই দ্বন্দ্বে ভুগতে থাকেন। নিজেকে ম্যানুয়েল ন্যুয়ের ভাবছিলেন কি না জানা নেই। তবে ইরফান সুযোগ হাতছাড়া করেননি। অনায়াসে প্রভসুখনের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। ইস্টবেঙ্গলের ডাগআউটে তখন একরাশ হতাশা। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না এ রকম গোলও খেতে হতে পারে।

দু’মিনিট পরেই ইস্টবেঙ্গল সমতা ফেরাতে পারত। এডমুন্ডের পাস বাঁ দিকে পেয়ে খুব ভাল নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন পি ভি বিষ্ণু। গোলকিপারকে কাটিয়েও ফেলেছিলেন। আচমকাই বেশি পায়ের জাদু দেখাতে গিয়ে এক টোকায় বল অনেকটা এগিয়ে যায়। বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের সঙ্গে পায়ে পা জড়িয়ে পড়ে যায়। সহজতম সুযোগ হাতছাড়া করে ইস্টবেঙ্গল। প্রথম আরও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম ২০ মিনিট ইস্টবেঙ্গলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিক-ওদিক থেকে কয়েকটি আক্রমণ হচ্ছিল ঠিকই। কিন্তু কোনও সুযোগই বলার মতো নয়। উল্টে চেন্নাইয়িনকে দেখে মনে হচ্ছিল তারা এই ম্যাচ থেকে পুরো পয়েন্ট ঘরে তুলতে মরিয়া। ৬০ মিনিটের মাথায় ফারুখের থেকে বল পান মন্দার। তিনি মাঝে থাকা নগুয়েরাকে পাস দেন। সেখান থেকে ইরফান হয়ে বল যায় ড্যানিয়েল চিমাচুকুর কাছে। তিনি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। দু’মিনিট পরেই সহজ ক্লিয়ারেন্স কঠিন করে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। সে যাত্রায় অল্পের জন্য গোল হজম করতে হয়নি। ৬৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ইউসেফ এজ়েজারি। বক্স থেকে তাঁর শট মন্দারের গায়ে হালকা স্পর্শ করে গোলের দিকে যাচ্ছিল। আঙুলের টোকায় কোনও মতে বল বাইরে বার করে দেন নওয়াজ়।

শেষের দিকে ইস্টবেঙ্গল যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেবে তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। চেন্নাইয়ের রক্ষণকে বোকা বানিয়ে বিষ্ণু বাঁ দিকে বল পেয়েছিলেন। তাঁর ক্রসে মাথায় ঠেকিয়ে গোল করেন ফাঁকায় থাকা বিপিন। ইস্টবেঙ্গলের জয় নিশ্চিত হয় ‘ঘরের ছেলে’ নন্দকুমারের গোলে। চেন্নাইয়ের ফুটবলার নিজের রাজ্যের দলের বিরুদ্ধে গোল করেন। জিকসন সিংহের ক্লিয়ার করা বল পান মিগুয়েল। তিনি বল বাড়ান নন্দকে। এক বারের স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত শটে গোল করেন নন্দকুমার।

Advertisement
আরও পড়ুন