FIFA World Cup 2026

দেম্বেলের হ্যাটট্রিক, নরওয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে এমবাপের ফ্রান্স, ইরাককে উড়িয়ে নকআউটের আশায় থাকল সেনেগালও

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক করলেন উসমান দেম্বেলে। কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল নরওয়ের রক্ষণ। ১০ জনের ইরাককে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল সেনেগাল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০২:৩৮
Picture of Football

হ্যাটট্রিকের পর কিলিয়ান এমবাপের কোলে উসমান দেম্বেলে। ছবি: রয়টার্স।

ফ্রান্স - ৪

Advertisement

নরওয়ে - ১

উসমান দেম্বেলে- কিলিয়ান এমবাপে জুটির দাপটে দাঁড়াতেই পারল না আর্লিং হালান্ডহীন নরওয়ে। ম্যাচের ফল ফ্রান্সের পক্ষে ৪-১। চারটি গোলই হল ৩২ মিনিটের মধ্যে। তার মধ্যেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক করলেন দেম্বেলে। অন্য দিকে, ১০ জনের ইরাককে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল সেনেগাল। দু’টি ম্যাচ শুরুর আগেই ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

নরওয়েকে প্রথমেই কোণঠাসা করে দেওয়াই ছিল দিদিয়ের দেশঁর দলের লক্ষ্য। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করে ফ্রান্স। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে দ্রুত আক্রমণে উঠছিল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। ২৫ সেকেন্ডেই এমবাপের শট বারে লেগে ফিরে আসে। তবে ফল আসে দ্রুতই। ৭ মিনিটেই ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন দেম্বেলে। এমবাপের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মাথা থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে গোল করেন দেম্বেলে। ২০ মিনিটে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলও এমবাপে-দেম্বেলে যুগলবন্দির ফল। মাঝমাঠে বল ধরে দেম্বেলেকে বল বাড়ান এমবাপে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নরওয়ের তিন জন ডিফেন্ডারের বাধা টপকে গোল করেন দেম্বেলে। নরওয়ের গোলরক্ষক চেষ্টা করেও আটকাতে পারেননি। ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন প্যারিস সঁ জরমঁ তারকা। এ বার বক্সের ভিতরে অঁরেলিয়েঁ চুয়ামেনির কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে নরওয়ের গোল রক্ষককে পরাস্ত করেন দেম্বেলে। আর্জেন্টিনার লিয়োনেস মেসি, কানাডার জোনাথন ডেভিডের পর তৃতীয় ফুটবলার হিসাবে এ বারের বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন ফরাসি তারকা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্টের দখলে। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে তৎকালীন চেকোশ্লোভাকিয়ার বিরুদ্ধে ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেছিলেন তিনি। দেম্বেলের ৩২ মিনিটের হ্যাটট্রিকটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকারের ৩৫ মিনিটে করা হ্যাটট্রিক চলে গেল তালিকায় তৃতীয় স্থানে।

নরওয়ের ফুটবলারেরা শুরুতে প্রতি আক্রম‌ণমূলক ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও তিন গোল খাওয়ার পর বেশ রক্ষণাত্মক হয়ে যান। আট-ন’জন মিলে ডিফেন্সে নেমে বক্সের মধ্যে পায়ের জঙ্গল তৈরি করে ফ্রান্সের আক্রমণ আটকানোর চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। তবে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলের ১ মিনিট পরেই নরওয়ের হয়ে ব্যবধান কমিয়ে ছিলেন থেলোগার্ড। গোলের পর সেন্টার থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠে সেনেগাল। বক্সের ঠিক ভিতরে বল পান অসগার্ড। অল্প ডান দিকে দৌড়ে দুরন্ত শটে গোল করেন তিনি। যদিও লাভ হয়নি। দেম্বেলের তৃতীয় গোলের পর নরওয়ের ফুটবলারেরা ডিফেন্স ছেড়ে ওঠার সাহস পাননি। তবে হালান্ড মাঠে থাকলে কী হল বলা মুশকিল। নকআউটের কথা ভেবে তাঁকে এ দিন বিশ্রাম দিয়েছিলেন নরওয়ে কোচ স্টাল সোলবাকেন।

বড় ব্যবধানে জিতলেও গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছে ফ্রান্স। তিনটি প্রায় একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে গোল করতে পারেননি দেম্বেলেরা। কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমস্যা হতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ের রক্ষণ ভাঙতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে দেশঁর দলকে। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্ত সময় হেড দিয়ে ফ্রান্সের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন ডেজ়িরে ডুয়ে। প্রথমার্ধেই পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায় নরওয়ে। স্ট্রান্ড লারসেনের দুর্বল শট আটকে দেন ফরাসি গোলরক্ষক। গ্রুপ ‘আই’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পরের রাউন্ডে ফ্রান্সের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সুইডেন। রানার্স হওয়ায় নরওয়েকে খেলতে হবে সম্ভবত আইভোরি কোস্টের সঙ্গে।

আশায় থাকল সেনেগাল

ইরাককে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ ‘আই’-এ তৃতীয় স্থানে শেষ করল সেনেগাল। নকআউটে তাদের যাওয়া নির্ভর করবে অন্য গ্রুপগুলির ফলাফলের উপর। ১৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ইরাকের রেবিন সুলাকা। গোল করার কাছাকাছি জায়গায় চলে যাওয়া সাদিয়ো মানেকে ফাউল করায় মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। তবে তার আগেই ৪ মিনিটে সেনেগালকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। ৫৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল ইসমাইলা সারের। ইরাকের রক্ষণ ভাগের ভুল কাজে লাগান তিনি। ৫৯ মিনিটে তৃতীয় গোল পরিবর্ত হিসাবে নামা পাপে গেয়ের। ৭১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেনেগালকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গেয়ে। ৮২ মিনিটে পঞ্চম গোল ইলিমান এনদিয়ায়ের।

Advertisement
আরও পড়ুন