ভারতীয় হকি খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি: হকি ইন্ডিয়া।
এফআইএইচ প্রো লিগের আগের ম্যাচে হাড্ডিহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। পাকিস্তানকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছিল ভারত। দু’দেশের দ্বিতীয় ম্যাচেও হল ৮ গোল। তবে এ বার একচেটিয়া দাপট দেখাল ভারতীয় হকি দল। হরমনপ্রীত সিংহেরা পিছিয়ে পড়েও জিতলেন ৭-১ ব্যবধানে। ভারতের হয়ে গোল করলেন ছ’জন।
শুক্রবার পাকিস্তানকে দাঁড়াতেই দিল না ভারত। প্রথম থেকেই পাক রক্ষণকে চাপে ফেলে দেন সুখজিৎ সিংহ, যুগরাজ সিংহেরা। ইংল্যান্ডের কাছে শুট আউটে হারার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্দান্ত ভাব ঘুরে দাঁড়াল গত দু’টি অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জজয়ীরা। যদিও এক সময় ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল ভারতই। ১৩ মিনিটে পাকিস্তানকে এগিয়ে দেন আবু মহম্মদ। সেট পিস থেকে তাঁর ড্র্যাগ ফ্লিক আটকাতে পারেননি ভারতের গোলরক্ষক মোহিত। খেলার গতির বিপরীতেই গোল পেয়ে যায় পাকিস্তান।
২০ মিনিটে সমতা ফেরায় ভারত। হরমনপ্রীতের শট সুখজিতের স্টিকে দিক পরিবর্তন করে গোলে ঢুকে যায়। সমতা ফেরানোর পর খেলার গতি আরও বাড়িয়ে দেন ভারতীয়েরা। গোলের সুযোগও তৈরি হতে থাকে। ভারতের আগ্রাসী হকির সামনে ভেঙে পড়তে থাকে পাক রক্ষণ। ২৩ মিনিটে মনদীপ সিংহ এবং ২৫ মিনিটে দিলপ্রীত সিংহ সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। ২৬ মিনিটে হরমনপ্রীতের দুর্দান্ত শটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। প্রথমার্ধে আর গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধেও আগ্রাসী হকি ধরে রাখে ভারতীয় দল। যেখানে প্রথমার্ধ শেষ করেছিল, সেখান থেকেই দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে ক্রেগ ফুলটনের দল। ৩৩ মিনিটে পর পর দু’টি পেনাল্টি কর্নার পায় ভারত। পাকিস্তানের এক ডিফেন্ডার শরীর দিয়ে বল আটকালে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় ভারত। ৩৫ মিনিটে গোল করতে ভুল করেননি হার্দিক সিংহ। পরের মিনিটেই ভারতকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন যুগরাজ। ‘ডি’-র বাইরে দিলপ্রীতের কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত গোল করেন তিনি। ৪১ মিনিটে ভারত ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অভিষেকের ফিল্ড গোলে। এর পর ৪৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন রাজকুমার পাল। ৫৪ মিনিটে ভারতের হয়ে সপ্তম গোলটি করেন দিলপ্রীত। দ্রুত গতির আক্রমণ তৈরি করে ভারতীয় দল। মনপ্রীত ভাল জায়গায় বল দেন দিলপ্রীতকে। সুযোগ কাজে লাগান তিনি।
এই নিয়ে গত ১০ বছরে টানা ১৯টি ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত রইল ভারতীয় দল। ১৯টি ম্যাচের মধ্যে ১৭টি জিতেছে ভারত। ড্র দু’টি।