স্পেনের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।
স্পেন ৩ (ওয়ারজ়াবাল ২, পোরো)
অস্ট্রিয়া ০
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এত সহজ হবে ম্যাচটা, এটা হয়তো ভাবতেও পারেননি স্পেনের ফুটবলারেরা। বৃহস্পতিবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়া লড়াই করল বটে। তবে স্পেনের মতো দলকে আটকানোর জন্য তা কখনওই যথেষ্ট ছিল না। অস্ট্রিয়া ভুলও করেছে অনেক। নিজেদের দোষেই বিদায় নিতে হচ্ছে তাদের। স্পেন জিতল ৩-০ গোলে। জোড়া গোল মিকেল ওয়ারজ়াবালের। একটি গোল পেদ্রো পোরোর।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অস্ট্রিয়া যথেষ্ট লড়াই করেছিল। তবে আলজেরিয়ার মতো দলের কাছে তিন গোল হজমও করেছিল। ফলে তাদের রক্ষণ ভাঙা যে খুব একটা কঠিন হবে না, এটা স্পেন জানতাই। তারা একটু চাপ দিতেই ভেঙে পড়েছে অস্ট্রিয়ার রক্ষণ। ভাগ্য সহায় হলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচ গোলে জেতার কথা স্পেনের। বাধা হয়ে দাঁড়ালেন গোলকিপার আলেকজ়ান্ডার শ্লাগার। তিনি অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে ম্যাচ অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।
এখনই বলা মুশকিল। তবে যে গতিতে স্পেন এগোচ্ছে তাতে ট্রফির দৌড়ে যে তারা ভাল ভাবে রয়েছে তা বলাই যায়। সব ঠিক থাকলে স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। দুই দেশই বিশ্বকাপ জেতার ব্যাপারে হট ফেভারিট। ফলে ফাইনালের আগেই ফাইনাল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই স্পেনকে আটকানোর সাধ্য খুব কম দেশের মধ্যেই রয়েছে। বলের নিয়ন্ত্রণ, কৌশল, ব্যক্তিগত দক্ষতা— সব বিভাগেই স্পেন বাকি দলগুলিকে টেক্কা দিতে পারে।
অস্ট্রিয়া যে রক্ষণ জমাট রেখে এগোবে, এ কথা জানতেন স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তাই তিনি মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করার বদলে, দুই উইং দিয়ে আক্রমণ চালাতে চেয়েছিলেন। উইং এমনিতে স্পেনের খুব শক্তির জায়গা নয়। তবে এ দিন সাফল্য মিলল। বাঁ দিকে আলেক্স বায়েনা এবং মার্ক কুকুরেয়ার জুটি তো ছিলই। ডান দিক থেকে ক্রমাগত অস্ট্রিয়া রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেন লেমিনে ইয়ামাল। দুই প্রান্ত থেকে একটানা আক্রমণ সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল অস্ট্রিয়া। এক সময় তা ভেঙে পড়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে শট, সব বিভাগেই স্পেন অনেকটা এগিয়েছিল ম্যাচে।
স্পেনের আক্রমণ সামলানো সহজ হবে না, এটা অস্ট্রিয়া জানতই। তার পরেও রক্ষণে বার বার ফাটল ধরা পড়ল। অস্ট্রিয়া বেশি মনোযোগ দিয়েছিল ইয়ামালকে আটকানোয়। ডান প্রান্ত থেকে বায়েনা এবং কুকুরেয়া যে ও ভাবে ধেয়ে আসবেন সেটা তারা কল্পনাও করতে পারেনি। কুকুরেয়ার একটি গোলও বাতিল করা হল। ইয়ামালকে আটকাতে গিয়ে ফাঁকা রেখে দেওয়া হল ওয়ারজ়াবালকে। স্পেনের স্ট্রাইকার দু’টি গোলই করলেন অস্ট্রিয়ার রক্ষণের বোঝাপড়ার ভুলে। শেষের দিকে তো এক সতীর্থকে কড়া ধমকও দিলেন অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। তত ক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।
এ দিন শুধু তিনি গোলটাই করেননি। বাকি সব কাজ করেছেন। গোলটাও হয়ে যেত অস্ট্রিয়ার গোলকিপার শ্লাগার দু’টি দুর্দান্ত সেভ না করলে। এ দিন নিজেকে শুধু ডান প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখেননি ইয়ামাল। তিনি ফ্রি ফ্লোইং ফুটবল খেলেছেন। অর্থাৎ মাঠের চারদিক জুড়ে খেলতে দেখা গিয়েছে। কখনও ডান দিকে, কখনও বাঁ দিকে, কখনও মাঝে— বিপক্ষের রক্ষণের নজর এড়ানোর জন্য সব ধরনের রাস্তা খুঁজে বার করেছেন তিনি।
লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো সোনার বুটের দৌড়ে ঢুকে পড়লেন তিনিও। এই স্পেন দলে তারকার এতটাই ছড়াছড়ি যে ওয়ারজ়াবালের মতো ফুটবলারেরা ঢাকাই পড়ে যান। রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা ফুটবলারকে নিয়ে খুব বেশি চর্চাও হয় না। কিন্তু নিজের কাজটা ঠিক করে যান। কোচ ফুয়েন্তে সেটা জানেনও। তাই মিকেল মেরিনোর বদলে প্রথম একাদশে সুযোগ পান ওয়ারজ়াবাল। অত্যন্ত সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার। কোথায় কোন সময় থাকতে হবে সেটা বুঝতে পারেন খুব ভাল ভাবে।