Lionel Messi Chaos in Yuba Bharati Krirangan

‘দাদা হয়তো ভুলে গিয়েছেন, মেসি ইভেন্ট আমি ইডেনেই করতে চেয়েছিলাম!’ সৌরভের বক্তব্য নিয়ে পাল্টা শতদ্রু

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও শতদ্রু দত্ত, দু’জনের মতেই মেসির অনুষ্ঠান ইডেনে হলে বিশৃঙ্খলা হত না। কেন সেখানে হল না অনুষ্ঠান? সৌরভ আনন্দবাজার ডট কম-এ যা বলেছিলেন, তার জবাব দিলেন শতদ্রু।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১৭:৩১
football

(বাঁ দিকে) সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও শতদ্রু দত্ত (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

শতদ্রু দত্ত মনে করেন, লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান যুবভারতীর বদলে ইডেনে হলে বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত। মুখ পুড়ত না পশ্চিমবঙ্গের। একই মত বাংলার ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়েরও। তা হলে কেন ইডেনে হল না অনুষ্ঠান? কেন যুবভারতীতে অনুষ্ঠান করতে হল মূল উদ্যোক্তা শতদ্রুকে? এই প্রসঙ্গে আনন্দবাজার ডট কম-এ সৌরভ যা বলেছিলেন, তার পাল্টা শোনা গেল শতদ্রুর মুখে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার আনন্দবাজার ডট কম-ক শতদ্রু বললেন, সেই সময় কী হয়েছিল, তা হয়তো ভুলে গিয়েছেন সৌরভ। শতদ্রুর বক্তব্য, “দাদা (সৌরভ) মনে হয় ভুলে গিয়েছেন, আমি প্রথমে সিএবি-র কাছেই গিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময় নির্বাচন থাকায় আমাকে অনুমতি দিতে পারেনি সিএবি। আমি ২৫ দিন অপেক্ষা করেছিলাম।” এর পরেই বাধ্য হয়েই যুবভারতীতে অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

শতদ্রু বললেন, “গোটা ভারত জুড়ে মেসির অনুষ্ঠান ছিল। তাই আর অপেক্ষা করার সময় ছিল না। কোথায় কোথায় অনুষ্ঠান হবে, সে বিষয়ে পুরো সূচি না জানালে মেসি চুক্তি সই করতেন না। আমরা ‘গোট ট্যুর’-এর কথা ঘোষণাও করতে পারতাম না। তাই ২৫ দিন অপেক্ষার পর সিদ্ধান্ত বদলাই। দাদা এবং সঞ্জয় দাসকে (সিএবি কোষাধ্যক্ষ) আগেই জানানো হয়েছিল। দাদা মনে হয় ভুলে গিয়েছেন।” যদিও সে কথা শুনে সৌরভ আরও এক বার স্পষ্ট করে জানালেন, ‘‘ইডেনেই মেসির অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চেয়েছিলাম আমরা।’’

গত মঙ্গলবার আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌরভ জানিয়েছিলেন, তাঁরা ইডেনে মেসির অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। সে কথা শতদ্রুকেও জানিয়েছিলেন। সৌরভ বলেন, “ইডেনে কোনও দিন এই ঘটনা ঘটত না। এত বড় বড় খেলা হয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছে। আইপিএল সেমিফাইনাল হয়েছে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল হয়েছে। কোনও দিন কিচ্ছু হয়নি। ওঁকে (শতদ্রু) তো বলেছিলাম ইডেনে করার জন্য। কিন্তু হয়নি। এটা ওঁর (শতদ্রু) সিদ্ধান্ত ছিল। উনি উদ্যোক্তা, ওঁর ইভেন্ট। উনি যুবভারতীতে নিয়ে গিয়েছেন। ইডেনে কেন হল না জানি না।”

সৌরভ আরও বলেছিলেন, তাঁদের তরফে কোনও আপত্তি ছিল না। তিনি ওই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “কলকাতায় মেসি আসবে, আমি সিএবি প্রেসিডেন্ট, ইডেন পাওয়া যাবে না, হয় নাকি? আমি ফুটবল-পাগল লোক। মেসিকে দেখতে বার্সেলোনা যেতে পারি। ইংল্যান্ডে গিয়ে ক্রিকেট দেখি না, ‌ফুটবল দেখি। আইএসএলে ২০১৪ সাল থেকে মোহনবাগানের শেয়ারহোল্ডার। পাঁচ বার আইএসএল জিতেছি আমরা। মেসি ইডেনে আসবে শুনে সিএবি সদস্যেরা উৎফুল্ল ছিলেন। কিন্তু শতদ্রু নিজেই যুবভারতীতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমাদের জানাননি। জানানোর কথাও নয়। কারণ, পুরোটাই ওঁর সম্পত্তি। কোথায় অনুষ্ঠান হবে, সেটা উনিই ঠিক করবেন। আমরাও কিছু জানতে চাইনি।”

গত বছর ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে ছিল মেসির অনুষ্ঠান। কিন্তু মেসি যুবভারতীতে ঢোকার পরেই শুরু হয় মাঠ জুড়ে বিশৃঙ্খলা। ছবিশিকারিদের ভিড় জমে। সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মেসির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এনএসজি কমান্ডোরা। শতদ্রু মাইক্রোফোনে বার বার সকলকে মাঠ খালি করতে বলছিলেন। কিন্তু কে কার কথা শোনে। রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে দেখা যাচ্ছিল, সারা ক্ষণ মেসির গায়ে গায়ে লেপ্টে রয়েছেন। লুই সুয়ারেস, রদ্রিগো ডি’পলও পিছিয়ে পড়ছিলেন। একটা সময় পর আর ভিড় সামলানো যায়নি। মেসি, সুয়ারেসদের নিয়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তার পরেই গেট ভেঙে, রেলিং টপকে মাঠে ঢুকে পড়েন আরও দর্শক। চলে ভাঙচুর। গ্যালারি থেকে চেয়ার ভেঙে মাঠে ছুড়ে ফেলা হয়। গোটা যুবভারতী লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

মেসিকাণ্ডের জেরে পদত্যাগ করতে হয়েছিল অরূপকে। জেলে যেতে হয়েছিল শতদ্রুকে। পরে জামিনে ছাড়া পান তিনি। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর পালাবদল হতেই মুখ খুলেছেন শতদ্রু। অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, অরূপ-সহ কয়েক জন ব্যক্তির ভুলের জন্য পুরো বিষয়টি ‘পণ্ড’ হয়েছে। অনেকেই অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। যার জেরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা।

Advertisement
আরও পড়ুন