—প্রতীকী চিত্র।
নতুন যুগের ল্যাপটপ। ওজনে হালকা, সঙ্গে বাড়তি পাওনা মেদহীন ‘স্লিম ফিগার’! কিন্তু সেটা তৈরি করতে গিয়ে ডাহা ফেল করে বিল গেট্সের মাইক্রোসফ্ট। পাক্কা এক দশক পর তাদের চিন্তাভাবনা সত্যি করে দেখিয়েছে স্টিভ জোব্স প্রতিষ্ঠিত মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপ্ল। কী ভাবে এই অসাধ্যসাধন করল আইফোন নির্মাণকারী সংস্থা? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
২০১২ সালে ওজনে হালকা সুপার ল্যাপটপ তৈরিতে মন দেয় মাইক্রোসফ্ট। কিছু দিনের মধ্যেই ‘সারফেস আরটি’ নামের একটি ডিভাইস বাজারে নিয়ে আসে তারা। যন্ত্রটার ব্যাটারি ছিল বেশ শক্তিশালী। কিন্তু, তার পরেও গ্রাহকদের কাছে সে ভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি মাইক্রোসফ্টের এই ল্যাপটপ। কারণ, যথেষ্ট ধীর গতিতে চলত ‘সারফেস আরটি’র প্রসেসার। ফলে খুলত না অনেক অ্যাপ্লিকেশন। পাশাপাশি অপারেটিং সিস্টেম নিয়েও উঠতে থাকে একাধিক অভিযোগ।
‘সারফেস আরটি’কে জনপ্রিয় করার কম চেষ্টা করেনি মাইক্রোসফ্ট। কিন্তু, তাতে তেমন লাভ কিছুই হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে একসময় এর উৎপাদন বন্ধ করে বিল গেট্সের সংস্থা। তত দিনে অবশ্য লোকসান যথেষ্ট বেড়ে গিয়েছে তাঁদের। এই ঘটনার ঠিক ১০ বছরের মাথায় নতুন যুগের ল্যাপটপ নিয়ে হাজির হয় অ্যাপ্ল। মাইক্রোসফ্ট ঠিক যেমনটি স্বপ্ন দেখেছিল, ঠিক তেমনই ডিভাইস তৈরি করে ফেলে তারা।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিল গেট্সের সংস্থার মতো ভুল অবশ্য করেনি অ্যাপ্ল। অতি শক্তিশালী চিপে ল্যাপটপ তৈরি করে তারা। উদাহরণ হিসাবে ম্যাকবুক নিওর কথা বলা যেতে পারে, যাতে আইফোন ১৬ প্রো-র বায়োনিক এ১৮ প্রো চিপ ব্যবহার করেছে মার্কিন টেক জায়ান্ট। ফলে এ বার আর অ্যাপ্লিকেশন খুলতে অসুবিধা হচ্ছে না গ্রাহকের। অনেক সহজ হয়েছে অপারেটিং সিস্টেমও।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাইক্রোসফ্টের নতুন ধরনের ল্যাপটপ তৈরির পরিকল্পনা একেবারেই ভুল ছিল না। কিন্তু, সঠিক সময়ে সেটা বাজারে আনতে পারেনি তারা। ওই সময় আজকের মতো উন্নত হয়নি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। ফলে উন্নত চিপ হাতে পাওয়া বিল গেটসের সংস্থার পক্ষে সম্ভব ছিল না। এর জন্যই ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয় তাদের। অন্য দিকে এই সমস্ত সমস্যা না থাকায় অনায়াসেই গ্রাহকদের মন জয় করে ফেলে অ্যাপ্ল।