—প্রতীকী ছবি।
বিমান পরিষেবায় ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার মধ্যে আছে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ঠান্ডা পানীয়তে চলে কোককোলা ও পেপসির লড়াই। বাণিজ্যের দুনিয়ায় যার পোশাকি নাম ‘কোলা-ওয়ার’। এদেরই মতো ভারতের টেলি পরিষেবার বাজারও ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে দু’টি সংস্থা। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে আরও এক বার স্পষ্ট হয়েছে সেই ছবি।
সম্প্রতি, টেলি পরিষেবা সংস্থাগুলির গত ডিসেম্বরের নতুন গ্রাহকসংখ্যা প্রকাশ্যে আনে ‘টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ বা ট্রাই। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ মাসে ৫৫ লক্ষ নতুন গ্রাহক পেয়েছে এয়ারটেল। ভারতের ধনকুবের শিল্পপতি মুকেশ অম্বানীর সংস্থা রিলায়্যান্স জিয়োর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ২৯ লক্ষ। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত-সহ গ্রাহক কমেছে মোট তিনটি সংস্থার।
ট্রাই জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরে প্রায় দু’লাখ ব্যবহারকারী হারায় ‘ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড’ (বিএসএনএল)। অন্য দিকে ‘মহানগর টেলিফোন নিগম লিমিটেড’কে (এমটিএনএল) ছেড়ে চলে গিয়েছেন ২,৫০০ জন। তবে ডিসেম্বরে সর্বাধিক গ্রাহক হারিয়েছে ভোডাফোন আইডিয়া (ভি)। মোট ৯৪ লক্ষ ব্যবহারকারী ত্যাগ করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার টেলি পরিষেবা। এরাই যে এয়ারটেল বা জিয়োতে চলে গিয়েছেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
গত কয়েক বছর ধরেই আর্থিক ভাবে ধুঁকছে ভোডাফোন। সেই কারণেই এয়ারটেল এবং রিলায়্যান্স জিয়োর সঙ্গে পিছিয়ে পড়ছে প্রতিযোগিতায়। ইতিমধ্যেই তাদের গ্রাহকসংখ্যা কমতে কমতে ২০ কোটির নীচে নেমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংস্থার আর্থিক বোঝা কিছুটা কমাতে উদ্যোগী হয় কেন্দ্র। কিন্তু তাতেও গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারেনি ভি কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে স্পেকট্রামের ভাড়া বাবদ ভোডাফোনের থেকে ৮৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পায় কেন্দ্র। সেই বকেয়া আপাতত পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করেছে মোদী মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি, সংস্থাটির ৪৯ শতাংশ অংশীদারি হাতে নিয়েছে সরকার। বাকি অংশের পরিচালনার রাশ রয়েছে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর হাতে। কেন্দ্রের এ-হেন পদক্ষেপে ভি কর্তৃপক্ষ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।