ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
দেশভক্তির থেকে বড় ভক্তি যেন আর কিছু হয় না। জন্মভূমিতে থাকাকালীন অনেকেই সেটির মাহাত্ম্য বোঝেন না। কিন্তু তা ছেড়ে যাওয়ার পর নিজের দেশে থাকার শান্তি ঠিক কতটা তা অনেকেরই বোধগম্য হয়। তেমনটাই হয়েছে এক ৯৪ বছরের প্রৌঢ়ার সঙ্গে। কর্মসূত্রে তাঁর ছেলে আমেরিকায় পাড়ি দিয়ে সেখানেই জীবন গড়ে তোলেন। পরে মা-কেও সেখানেই নিয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দু’দশক ভিন্দেশে কাটানোর পর জীবনের শেষ দিনগুলি নিজের দেশেই কাটাতে চাইলেন প্রৌঢ়া। তাই আমেরিকার নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি। আবেদন করলেন ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য। সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রৌঢ়ার নাম কোন্দ্রাগুন্টা মহালক্ষমাম্মা। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা জেলার চিনাগঞ্জম মণ্ডলের চিন্তাগুম্পালা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ছেলে বুচাইয়া চৌধরি পেশায় ক্যানসারের চিকিৎসক। তিনি আমেরিকায় কর্মরত। স্বামীর মৃত্যুর পর, ২০২০ সালে কোন্দ্রাগুন্টা ছেলের সঙ্গে মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেন। তার পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি আমেরিকাতেই ছিলেন। কিন্তু সেই সালেই তাঁর ছেলে মঙ্গলগিরির এক এনআরআই হাসপাতালে চাকরি পান। তখন বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বুচাইয়া পুনরায় দেশে ফিরে আসেন। তার পর থেকে তাঁরা গ্রামে নিজের বাড়িতেই রয়েছেন।
বুধবার বাপাতলা জেলার কালেক্টর জে. ভেঙ্কটা মুরলীর সঙ্গে দেখা করতে যান কোন্দ্রাগুন্টা। সঙ্গ দেন ছেলে বুচাইয়া। সেখানে গিয়ে প্রৌঢ়া পুনরায় ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন জানান। তিনি যে ইতিমধ্যে আমেরিকার নাগরিকত্ব বাতিল করে দিয়েছেন সেই বার্তাও দেন। কালেক্টরকে কোন্দ্রাগুন্টা জানান, তিনি ৯৫-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। নিজের ভিটেতে জীবনের শেষ দিনগুলি কাটানোই তাঁর একমাত্র ইচ্ছা। প্রৌঢ়া জানান যে, নিজের জন্মভূমিতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান। তাই ভারতের নাগরিকত্ব যেন তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কালেক্টরের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বুচাইয়া এবং তাঁর বৃদ্ধা মা কোন্দ্রাগুন্টা। সঙ্গে ছেলে থাকলেও কালেক্টরের সঙ্গে যাবতীয় কথা প্রৌঢ়াই বলছেন। বয়স ৯৪ হলেও প্রৌঢ়ার মনে সাহসের কমতি নেই। নাগরিকত্বের আবেদন করলে শপথবাক্য পড়তে হয়। সেই কাজটিও প্রৌঢ়া বসার বদলে দাঁড়িয়েই করছেন। তাঁর হাতটি শক্ত করে ধরে রেখেছেন ছেলে। বুচাইয়া এক হাতে মায়ের হাত ধরে রেখে অপর হাতে ধরে রেখেছেন মোবাইল। সেখান থেকে দেখে শপথবাক্য বলে দিচ্ছেন মাকে। প্রৌঢ়া তা শুনে কালেক্টরের সামনে শপথবাক্য পাঠ করছেন। এর মাধ্যমে তিনি জানালেন যে, তাঁর নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হলে তিনি ভারতের সংবিধানকে সম্মান করবেন এবং এর সমস্ত আইন মেনে চলবেন। তিনি আরও বলেন যে, তিনি কেবল তাঁর জন্মভূমিতেই জীবনের বাকি সময় কাটানোর আইনি অধিকার চান। মন ছুঁয়ে যাওয়া সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়।
‘নিউজ়অ্যালজেবরাআইএনডি’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরালও হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় আট লক্ষ ৮২ হাজার বার ভিডিয়োটি দেখে ফেলা হয়েছে। ১৭ হাজার নেটাগরিক ভিডিয়োটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নানা রকম মন্তব্যে ভরে গিয়েছে ভিডিয়োটির মন্তব্যবাক্স। প্রৌঢ়ার দেশপ্রেমকে কুর্নিশ জানিয়েছে সমাজমাধ্যম।