ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
ভারতে বেড়াতে এসে সর্বস্ব খুইয়েছেন। দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য পাথেয় জোগাড় করতে শেষমেশ ইটভাটায় কাজ করতে শুরু করেছেন অস্ট্রেলীয় পর্যটক। গরম ঘেমে নেয়ে স্বর্ণকেশী সেই তরুণ ইট বয়ে দেওয়ার কাজ করছেন। এমন দাবি তুলে একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ঘটনাটির সত্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বিদেশি নাগরিক স্থানীয় শ্রমিকদের মতো মাথায় তোয়ালে বেঁধে গ্রামের একটি ইটভাটায় ইট বওয়ার কাজ করছেন। গলদঘর্ম হয়ে তিনি হাতে হাতে ইট সাজিয়ে রাখার কাজ করছেন। ভিডিয়োটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘‘এই অসহায় ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে বেড়াতে এসেছিলেন। কিন্তু আগরায় চোরেরা তাঁর পাসপোর্ট, টাকা এবং সমস্ত জিনিসপত্র চুরি করে নেয়। এখন নিজের খাবারের সংস্থান করতে এবং দেশে ফেরার জন্য টাকা জোগার করতে এই বিদেশি একটি ইটভাটায় দৈনিক মজুর হিসাবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।’’
এক্স হ্যান্ডলে ‘আইঅ্যামসোনিয়া২৪’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করার পর ভিডিয়োটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিয়োটি উপভোগ করলেও এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বহু নেটাগরিকই। নেটাগরিকদের একাংশের দাবি, ভিডিয়োটি আসলে একটি প্র্যাঙ্ক ভিডিয়ো। কেউ কেউ ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য তৈরি একটি রিল বলে দাবি করেছেন। নেটমাধ্যমকারীরা বলছেন, কোনও বিদেশির পাসপোর্ট চুরি হলে তাঁরা থানায় বা নিজের দেশের দূতাবাসে যান। গ্রামের ইটভাটায় ইট বানাতে যান না। বাস্তবে, এই ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ভিউ বাড়াতে একটি ‘প্র্যাঙ্ক’ বা মজার রিল হিসাবে তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই। এক নেটাগরিক মজা করে লিখেছেন, ‘‘ওহে আগরার চোরেরা, যে-ই এই বেচারার জিনিসপত্র চুরি করেছ, দয়া করে সেগুলো ফিরিয়ে দাও। বেচারা তাঁর নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাবে। নইলে তাঁকে পুরো জীবন এই ভাটায় কাজ করে কাটাতে হবে।’’ দ্বিতীয় নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘আগরার মানুষ বিদেশি অতিথিকে এমন ভাবে স্বাগত জানিয়েছেন যে তিনি সিডনি থেকে সোজা ইটভাটায় চলে এসেছেন। চোরের দল, তোমাদের লজ্জা হওয়া উচিত।’’