ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
পথেঘাটে নারীদের প্রায়ই হেনস্থার শিকার হতে হয়। ভারতীয় নারীদের জীবনে এ যেন রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। দিনেদুপুরে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এক রূপান্তরকামীকে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনাটি মুম্বইয়ের।
এক্সের (সাবেক টুইটার) ‘নভলীনস্পিকস’ নামের হ্যান্ডল থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন ওই ব্যবহারকারী। জানা গিয়েছে, তাঁর নাম নভলীন কউর। তিনি অ্যাপ বাইক চালান। পোস্টটিতে লেখা হয়েছে, রোজকার কাজের ফাঁকে একটু বিশ্রাম নিতে একটি গাছের ছায়ায় জল পান করার জন্য বসেন তিনি। সে সময় এক মাঝবয়সি লোক এসে তাঁকে কিছু বলেন। কানে ইয়ারফোন থাকায় নভলীন প্রথমে তাঁর কথা শুনতে পাননি। এর পর সেই ব্যক্তি নভলীনের দিকে আরও এগিয়ে যেতে থাকেন এবং একসময় কাঁধে হাত দেওয়ারও চেষ্টা করেন বলে লিখেছেন তিনি। তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন ওই ব্যক্তি বলে অভিযোগ নভলীনের।
ওই ব্যবহারকারী লিখেছেন, সে সময় চিৎকার করে ওঠেন তিনি। কাছেই কয়েক জন নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিক দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। তাঁরা নভলীনের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা সত্ত্বেও লোকটির বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ ছিল না বলে দাবি নভলীনের। শেষমেশ তিনি সেখান থেকে একপ্রকার দৌড়েই পালিয়ে বাঁচেন বলে লেখা হয়েছে ওই পোস্টে। সবশেষে নভলীন লিখেছেন যে, তিনি মনে করেন না তাঁর চেহারা খুব আকর্ষণীয়। তবুও, তাঁকে যদি এ ভাবে হেনস্থা করা হয়, তবে নারীদের তো নিশ্চয়ই আরও অনেক বেশি খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নারীত্বের জগতে এ ভাবেই তাঁকে ‘স্বাগত’ জানানো হল বলে মনে করেছেন নভলীন। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। তিনি কোনও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন কি না, সে সম্পর্কেও কিছু জানা যায়নি।
ঘটনাটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে বহু ব্যবহারকারী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পোস্টটি ১০ হাজারেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। অজস্র মন্তব্য জমা পড়েছে মন্তব্যবাক্সে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, “এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সব সময় সঙ্গে পেপার স্প্রে রাখুন।” আবার এক মহিলা ব্যঙ্গের সুরে লিখেছেন, “নারী হিসাবে একটি ‘স্বাভাবিক’ দিন।” বহু মানুষ পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।