BJP

নির্বাচন পর্বে তালা পড়েছিল, সেই সব পঞ্চায়েত অফিস খুলতে উদ্যোগী দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরাজিত দুই বিজেপি প্রার্থী

ভোটে হেরেছেন, তবে তাঁরা মনে করেন, পঞ্চায়েত অফিস সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া জন্য। পঞ্চায়েত অফিসে ‘রাজনৈতিক দখলদারি’ চান না তাঁরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ১৫:৫৮
BJP candidates open closed panchayat offices in two assembly constituencies of South 24 Parganas district

ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদারের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত অফিসের তালা খুলল। —নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যে পালাবদল হয়েছে সরকারে। অভিযোগ, জেতার পর নাকি রাজ্যের নানা প্রান্তের পঞ্চায়েত অফিস ‘দখল’ করেছে বিজেপি! পঞ্চায়েত অফিসের গেটে তালা মেরে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সোমবার দেখা গেল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার দুই বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন পঞ্চায়েত অফিস খুলতে উদ্যোগী হলেন বিজেপি প্রার্থীরা। ভোটে হেরেছেন, তবে তাঁরা মনে করেন, পঞ্চায়েত অফিস সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া জন্য। পঞ্চায়েত অফিসে ‘রাজনৈতিক দখলদারি’ চান না তাঁরা। বারুইপুর পশ্চিম হোক বা ডায়মন্ড হারবার— একই ছবি দেখলেন স্থানীয়েরা।

Advertisement

বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে সোমবার সকাল সকালই এসে হাজির হন বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন বিজেপি কর্মী-সমর্থকও। পঞ্চায়েত অফিসের গেটে লাগানো তালা নিজের হাতে খুলে দেন বিশ্বজিৎ। শুধু তা-ই নয়, পঞ্চায়েত ভবনের সামনে লাগানো বিজেপির পতাকাও সরিয়ে ফেলেন তিনি। একই ছবি দেখা গেল ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার কানপুর ধনবেড়িয়া, পারুলিয়া, সরিষা এবং বোলসিদ্দি কালিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে। ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার সোমবার ওই সব পঞ্চায়েতে গিয়ে তালা খুলে দেন। অভিযোগ করেন, বিজেপি ‘দখলদারি’র রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী বিজেপির পতাকা হাতে পঞ্চায়েত পঞ্চায়েতে তালা লাগিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করার কারণে বহু পঞ্চায়েতে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের কারণে পঞ্চায়েত ভবনগুলিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচন মিটলেও সেই তালা খুলে জনপরিষেবা চালু হয়নি অনেক জায়গায়। আবার কিছু কিছু পঞ্চায়েতে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাই তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ। বিশ্বজিৎ এবং দীপক— নিজ নিজ কেন্দ্রে তালা খুলে পঞ্চায়েত পরিষেবা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিলেন।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কোনও রাজনৈতিক দখলদারি নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং প্রশাসনিক পরিষেবা পুনরায় চালু করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পঞ্চায়েত কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়ার কেন্দ্র। তাই সেখানে রাজনৈতিক রং নয়, মানুষের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। বিশ্বজিতের কথায়, ‘‘পঞ্চায়েত মানুষের। এখানে কোনও রাজনৈতিক দখলদারিত্বের প্রশ্ন নেই। তাই পঞ্চায়েতের সামনে লাগানো দলীয় পতাকাও খুলে দেওয়া হয়েছে।’’

একই সুর শোনা গিয়েছে দীপকের গলাতেও। পাশাপাশি এ-ও অভিযোগ করেন, ‘‘রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের হার্মাদেরা বিজেপি সেজে বিভিন্ন পঞ্চায়েতে তালা মেরেছে। বিজেপির বদনাম করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাই আমরা বিভিন্ন পঞ্চায়েতে পৌঁছে তালা খুলে দিচ্ছি, যাতে সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না-হন।’’

দীর্ঘ দিন পঞ্চায়েত বন্ধ থাকায় জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, রেশন, বার্ধক্য ভাতা-সহ নানা জনকল্যাণমূলক পরিষেবা নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন সাধারণ মানুষ। তালা খোলার পর পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় রয়েছেন স্থানীয়েরা। অনেকে বিজেপি প্রার্থীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। আবার অনেকে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন