ধৃত কাউন্সিলর বিভাস মুখোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
তোলাবাজির অভিযোগে এ বার ধৃত রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিভাস মুখোপাধ্যায় ওরফে মনু। বুধবার রাতে গড়িয়ার রুবি সংলগ্ন বাইপাস এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর বিভাসকে তাঁর বাড়ি এবং দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। এর পর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বতন সরকারের আমলে বেশ কিছু এলাকায় জোর করে টাকা তোলার অভিযোগ ছিল বিভাসের বিরুদ্ধে।
রাজ্যে পালাবদলের পরে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার তিন জন কাউন্সিলর গ্রেফতার হলেন। একই রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে বিভাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পাপাইকেও। অভিযোগ, পাপাইয়ের মাধ্যমেই বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলা হত। ধৃত দু’জনকে জেরা করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
অন্য দিকে, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মীয়মাণ শৌচালয়, তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে প্রচুর সরকারি এবং ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করেছেন পুলিশ এবং পুরসভার আধিকারিকেরা। তালিকায় রয়েছে স্ট্রিট লাইট, ত্রিপল, সিমেন্টের বস্তা, বালতি, ব্লিচিং পাউডার। অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় সেগুলি সাধারণ মানুষকে বিলি করা হয়নি।
রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চন্দ্রা ঘোষাল। তার আগে কাউন্সিলর ছিলেন তাঁর স্বামী সৌমেন মোহন ঘোষাল। সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, সরকারি সামগ্রী বেআইনি ভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল। প্রয়োজন পড়লেও সেগুলি বিতরণ করা হয়নি। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ার্ডে তোলাবাজি চলত। বিজেপি কর্মী নিতাই মজুমদার দাবি করেন, সরকারি প্রকল্পের কাজে যুক্ত ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়া হত এবং কমিশন না দিলে কাজ করতে দেওয়া হত না। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে কাউন্সিলার ছন্দা ঘোষালের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া সরকারি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।