লেকটাউন থেকে সরানো হয়েছিল মেসির মূর্তি। —ফাইল চিত্র।
লেকটাউন থেকে সরানো লিয়োনেল মেসির মূর্তি বসানো হবে ইকো পার্কেই। ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের মূর্তি স্থাপনের জন্য শুধু পার্ক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র বাকি রয়েছে। এমনটাই জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতা সফরে আসেন আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা। সেই সময় লেকটাউনে তাঁর একটি মূর্তি উন্মোচন করা হয়। কিন্তু বিতর্ক তৈরি হয় অবয়ব নিয়ে। কেউ কেউ কটাক্ষ করেন মেসির বদলে অন্য কয়েক জন খ্যাতনামীর সঙ্গে ওই মূর্তির মিল বেশি। এর মধ্যে মূর্তি তৈরি এবং স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু ভোটে হেরেছেন। গত মাসে মেসির মূর্তিটি হাওয়ায় দুলতে শুরু করে। প্রথমে সেটি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা এড়াতে শেষমেশ সেটি স্থানচ্যুত করা হয়। নীচের অংশের বেদি ভেঙে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোলদাতা আর্জেন্টিনার তারকার মূর্তিটি নিউ টাউনের ইকো পার্কে বসানো হবে বলে জানালেন শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার সদস্য শারদ্বত। তিনি জানান, সবুজ সঙ্কেত মিলেছে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।
বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের ছোট ছোট নিদর্শন রয়েছে ইকো পার্কে। সুবিশাল এলাকায় উন্মুক্ত জায়গাও অনেকটা রয়েছে। ফলে সেখানেই মেসি মূর্তির পুনঃস্থাপন করা যায় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। মন্ত্রী জানিয়েছেন, লেকটাউনে অতীতে যে সমস্যাগুলি নিয়ে এই মেসি মূর্তি বসানো হয়েছিল তা সংস্কার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই স্থাপন করা হবে। বর্তমানে মূর্তিটি রয়েছে বাগুইআটির পিডব্লিউডি গুদামে।
সংস্কার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ইকো পার্কে বসানো হবে মেসির মূর্তিটি। —নিজস্ব চিত্র।
মন্ত্রী শারদ্বত মজার সুরে বলেন, ‘‘এখনও অবধি মেসি শুয়ে রয়েছেন। রেস্ট নিচ্ছেন পিডব্লিউডি-তে। তার পর আমরা মেসিকে একটু ‘ওয়ার্ম আপ’ করিয়ে নিয়ে যাব ইকো পার্কে।’’ নাম না করে সুজিতকে কটাক্ষ করে বিধায়ক বলেন, ‘‘বিশ্বকাপ আবহে সত্যিকারের মেসির মূর্তি বসালেই ভাল হত... যাই হোক। বিশ্বকাপ আবহেই যাতে মূর্তিটি স্থাপন করা যায়, সেই চেষ্টাই চলছে। নগরোন্নয়ন দফতর অনুমতি দিলেই এই মূর্তিটি বসে যাবে।’’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে গোলের তালিকায় সকলের উপরে রয়েছেন মেসি। ইতিমধ্যে পাঁচটি গোল করে ফেলেছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, ব্রাজ়িলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড।