(বাঁ দিকে) সামিরুল ইসলাম, শমীক ভট্টাচার্য (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণ নেমে আসছে বার বার। এমনই অভিযোগে রাজ্যসভায় সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম। বুধবার রাজ্যসভায় চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন জিরো আওয়ারে বলার সুযোগ দেন তৃণমূল সাংসদ সামিরুলকে। তিনি বলেন, ‘‘আজ সংসদে আমি আবার বাংলার পরিযায়ী মানুষের দুর্দশার কথা তুলছি। আমি তুলে ধরছি, কী ভাবে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই বহু মানুষ হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সোনালি বিবির মর্মান্তিক ঘটনাটিও উল্লেখ করছি— এক জন ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিজেপিশাসিত একাধিক রাজ্যে ভাষার কারণে বাঙালিদের নিশানা করা হচ্ছে, যা এক গভীর বাঙালি-বিরোধী মানসিকতার পরিচয় দেয়।’’
তাঁর এমন বক্তৃতার সময় শাসক দলের বেঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য তীব্র প্রতিবাদ করেন। তাঁকে সঙ্গ দেন অন্য বিজেপি সাংসদেরাও। নিজের বক্তৃতায় শমীকের উদ্দেশে সামিরুল বলেন, ‘‘শমীকদা আমি বাংলার মানুষের অধিকারের জন্য কথা বলছি, বাধা দেবেন না। এই বেইমান বিজেপিকে বাংলার মানুষ দেখছেন।’’ বিজেপি নেতাদের হট্টগোলের মধ্যেই নিজের বক্তৃতা শেষ করেন তৃণমূল সাংসদ। পরে সামিরুল বলেন, ‘‘বাংলা থেকে যাওয়া বিজেপি সাংসদেরাও আমাকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি— বাংলার মানুষ সব দেখছে এবং ২০২৬ সালে জবাবদিহি দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মর্যাদা ও অধিকারের জন্য আমাদের লড়াই কখনও থামবে না।’’
সামিরুলের বক্তৃতার সময় হট্টগোলের কারণ প্রসঙ্গে বিজেপি জানায়, জিরো আওয়ারে শমীক যখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমালোচনা করে বক্তৃতা করছিলেন, তখন তৃণমূল সাংসদেরা চিৎকার চেঁচামেচি করে তাঁকে বার বার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের আরও বক্তব্য, শমীকও বাংলার মানুষের স্বার্থেই সংসদে বক্তৃতা করছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্প থেকে কী ভাবে বাংলার মানুষকে মমতার সরকার বঞ্চিত করছে, তাই তুলে ধরছিলেন শমীক। সেই সময় তাঁকে বাধা দিলেন কেন তৃণমূল সাংসদেরা? পাল্টা প্রশ্ন তুলছে বিজেপিও।