Abhishek Banerjee

‘বাইরে আছি, মামলা চলছে’! সই-কাণ্ডে আবার সময় চাইলেন অভিষেক, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে সিআইডির গোয়েন্দারা

গত ৩০ মে প্রথম অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডি। ১ জুন তৃণমূল সাংসদকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিষেক হাজিরা না-দিয়ে সিআইডির থেকে ১৪ দিনের সময় চেয়েছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৮:২৩
Abhishek Banerjee has once again sought more time from the CID

সই-কাণ্ডে হাজিরা দেওয়ার জন্য সিআইডি-র থেকে সময় চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সই-কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দিয়েছিল সিআইডি। সেই সময় শেষ হওয়ার আগেই আবার রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগকে চিঠি দিয়ে আরও সময় চাইলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর দিল্লিতে থাকার কথা। আরও জানান, সই-কাণ্ড এবং সিআইডির নোটিস সংক্রান্ত বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলাটি বিচারাধীন।

Advertisement

বিধানসভায় কে বিরোধী দলনেতা, মুখ্য সচেতক বা উপদলনেতা হবেন— তা ঠিক করতে কালীঘাটে তৃণমূলের কার্যালয়ে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দেন অভিষেক। অভিযোগ, তৃণমূল বিধায়কদের সই করা প্রস্তাবিত চিঠি পাঠান, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। সেই অভিযোগ নিয়ে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। পরে তৃণমূল দু’জনকেই দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে।

সই-কাণ্ডে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত এবং সন্দীপনের অভিযোগ পাওয়ার পরেই বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার পরেই এফআইআরে দায়ের করে তদন্ত শুরু পুলিশ। সেই তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছে সিআইডি। তৈরি হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দলও (সিট)। তদন্তের সূত্র ধরে বার বার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে সিআইডি। বার বার নোটিস পাঠানো হয়।

গত ৩০ মে প্রথম অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডি। ১ জুন তৃণমূল সাংসদকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিষেক হাজিরা না-দিয়ে সিআইডির থেকে ১৪ দিনের সময় চেয়েছিলেন। তবে সিআইডি অভিষেককে সময় দেয়নি। ১ জুন আবার কালীঘাটের বাড়ি গিয়ে সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ সংবলিত নোটিস দিয়ে আসে সিআইডি। কিন্তু সোমবারও হাজিরা দেননি অভিষেক। সোমবারও তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে তৃতীয় নোটিস ধরিয়ে আসে সিআইডি। মঙ্গলবারই হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ সিআইডি-কে চিঠি পাঠিয়ে আবার সময় চাইলেন অভিষেক।

অন্য দিকে, এই মামলার তদন্তে মঙ্গলবার দুপুরেই অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছে যায় সিআইডির দল। সেখানে তল্লাশি অভিযান চালায় তারা। একই সঙ্গে সিআইডির আরও একটি দল যায় কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানেও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। ওই অফিসেই বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মমতা-অভিষেক।

Advertisement
আরও পড়ুন