—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের দফতর। সুপ্রিম কোর্টের মঙ্গলবারের নির্দেশের পরে ওই বৈঠক হতে চলেছে। সিইও দফতর সূত্রে খবর, অতিরিক্ত তালিকা এবং ট্রাইবুনাল গঠন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
অন্য দিকে, বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং এসএলবিসি (স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটি) প্রধানদের দিল্লিতে ডেকে পাঠাল নির্বাচন কমিশন। রাজ্য সফরে এসে ওই দুই সংস্থার কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তার পরেই তাদের দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সিইও দফতরের একটি সূত্র জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহে ওই দুই সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন।
রাজ্যের ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে। যা খতিয়ে দেখছেন সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগের আধিকারিকেরা। চূড়ান্ত তালিকার আংশিক প্রকাশের পরে ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশের কথা। তবে এই ৬০ লক্ষের মধ্যে থেকে যাঁরা বাদ পড়বেন, তাঁদের আবেদন জানানোর জন্য বিকল্প পথও মঙ্গলবারের নির্দেশে খুলে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, তালিকা নিষ্পত্তির জন্য কলকাতা হাই কোর্ট যে বিচারকদের (এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের) দায়িত্ব দিয়েছে, তাতে কমিশনকে হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। যা নিয়ে খুশি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল।
মঙ্গলবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে আইনজীবী (এবং তৃণমূলের সদ্যনির্বাচিত রাজ্যসভা সাংসদ) মেনকা গুরুস্বামী জানান, এখনও প্রায় ৫৭ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি বাকি। তবে প্রধান বিচারপতি শুনানিতে বলেন, ‘‘কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের জানিয়েছেন ১০ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে।’’ বিচারবিভাগীয় যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালীন কী ভাবে এই ধরনের আবেদন করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্যের আবেদন ফিরিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির শেষে শীর্ষ আদালত কয়েকটি নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সূর্য কান্তের বেঞ্চকে মঙ্গলবারই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল জানান, ১০ লক্ষ ১৬ হাজার ভোটারের মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ৫০০-র বেশি এবং ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড থেকে ২০০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এসআইআরে তদারকির কাজ করছেন।
তবে কাজ করার জন্য বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের লগ ইন আইডি তৈরি করা হয়েছে, এর ফলে একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এটা কমিশন স্তরের ‘ভুলের কারণে’ ঘটেছে বলে বিচারপতি পালের রিপোর্টে জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টে কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, অবিলম্বে বিষয়টি সংশোধন করা হবে। শীর্ষ আদালত বলে, ‘‘কলকাতা হাই কোর্ট এবং সব বিচারবিভাগীয় আধিকারিক যেন সুষ্ঠু ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই জন্য প্রয়োজনীয় সব বন্দোবস্ত করতে হবে কমিশনকে।’’ সব রকম প্রযুক্তিগত ত্রুটির সমাধানও কমিশনকে করতে হবে বলে জানায় শীর্ষ আদালত। হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয় রাজ্য সরকারকেও। এই আবহে এ বার সিইও-র দফতর বিচারপতি পালের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে।