Ashok Lahiri

নীতি আয়োগের দায়িত্ব নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন পদ্মের বিদায়ী বিধায়ক অশোক! বাংলায় শুভেচ্ছাবার্তা মোদীর

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূল বার বার অভিযোগ তুলে আসছে, বিজেপি ‘বাঙালিবিরোধী’ দল। এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদ অশোকের নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান করল কেন্দ্রীয় সরকার। সদস্য করা হল এক বাঙালি বিজ্ঞানীকেও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪০
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম পাতা থেকে।

নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ (ভাইস চেয়ারম্যান) হয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করলেন অশোক লাহিড়ী। বালুরঘাটে বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক তথা অর্থনীতিবিদ অশোককে শুক্রবারই নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ করার কথা ঘোষণা করে মোদী সরকার। বাঙালি বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসকেও নীতি আয়োগের অন্যতম সদস্য হিসাবে নিয়োগ করে কেন্দ্র। নীতি আয়োগের দায়িত্ব গ্রহণের পরই এ বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন অশোক। তাঁকে এবং গোবর্ধনকে নতুন দায়িত্বের জন্য বাংলায় পোস্ট করে শুভেচ্ছাবার্তা জানালেন মোদী।

Advertisement

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূল বার বার অভিযোগ তুলে আসছে, বিজেপি ‘বাঙালিবিরোধী’ দল। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতারাই এই অভিযোগ দাগিয়ে দিচ্ছেন বিজেপির উপরে। এ অবস্থায় অশোকের নীতি আয়োগের দায়িত্ব পাওয়া এবং গোবর্ধনের সদস্য হওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের ফলে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘বাঙালিবিরোধী’ প্রচারকে অনেকাংশে নস্যাৎ করার চেষ্টা করবে বিজেপি। পদাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রী মোদীই নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান। তাঁর পরেই নীতি আয়োগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ দেওয়া হয়েছে অর্থনীতিবিদ অশোককে।

অশোকের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে প্রধানমন্ত্রী মোদী শনিবার প্রথমে ইংরেজিতে এবং পরে বাংলায় পোস্ট করে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “দেশের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল নীতি আয়োগ। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে মজবুত করে এবং সংস্কারমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করে সাহায্য করে। ভিন্ন উদ্ভাবনী এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার মঞ্চ এটি।” ওই পোস্টের সঙ্গে মোদী আরও লেখেন, “সরকার নীতি আয়োগকে পুনর্গঠন করেছে। এর উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য অশোককুমার লাহিড়ীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এ ছাড়া নীতি আয়োগের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় রাজীব গৌড়া, অধ্যাপক কেভি রাজু, অধ্যাপক গোবর্ধন দাস, অধ্যাপক অভয় করন্দিকর এবং এম শ্রীনিবাসকেও শুভকামনা জানাই।”

পরে অশোক এবং গোবর্ধনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক ভাবে বাংলায় দু’টি পোস্টও করেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপির বিদায়ী বিধায়কের প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, “অশোককুমার লাহিড়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে আমার শুভকামনা জানালাম। অর্থনীতি এবং জননীতিতে তাঁর সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ভারতের সংস্কারের পথ এবং ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে ওঠার যাত্রাপথকে আরও শক্তিশালী করবে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে তাঁর প্রচেষ্টা আমাদের দেশের নীতি নির্ধারণকে আরও গতিশীল করবে।”

বিজ্ঞানী গোবর্ধনকেও অভিনন্দন জানিয়ে মোদী বাংলায় লেখেন, “অক্লান্ত পরিশ্রম এবং বিনম্র ব্যবহার, আপনার এই জীবনযাত্রা প্রত্যেকের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। জনস্বাস্থ্য, বিজ্ঞান এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আপনি যে অমূল্য অবদান রেখেছেন, তার জন্য সারা দেশ গর্বিত। আপনার কার্যকালের জন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা রইল।”

উল্লেখ্য, অর্থনীতিবিদ অশোকের মতো বিজ্ঞানী গোবর্ধনকেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) স্কুল অফ মলিকুলার মেডিসিনের অধ্যাপক এবং গোবর্ধন দাস ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন। অন্য দিকে বালুরঘাটের বিদায়ী বিধায়ক অশোক এ বারের নির্বাচনে আর টিকিট পাননি। তবে তাঁদের দু’জনকেই এ বার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব দিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

Advertisement
আরও পড়ুন