Mysterious Death of Nurse in Durgapur

দুর্গাপুরে আবাসনের নীচ থেকে উদ্ধার ২৪ বছরের নার্সের রক্তাক্ত দেহ! পরিবারের দাবি, ‘ষড়যন্ত্র করে খুন’

দুর্গাপুরের মলানদিঘি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স ছিলেন মন্দিরা। তাঁর বাড়ি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৫
মৃত নার্স মন্দিরা পাল।

মৃত নার্স মন্দিরা পাল। ছবি: সংগৃহীত।

দুর্গাপুরের গোপালপুরে বহুতল আবাসনের নীচে মিলল ২৪ বছরের এক নার্সের রক্তাক্ত দেহ। ওই আবাসনের আটতলায় থাকতেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, সেখান থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে মন্দিরা পাল নামে ওই তরুণীর। বুধবার রাতের এই ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে মৃতার পরিবার। তাদের দাবি, মন্দিরা আত্মহত্যা করতে পারেন না। তাঁকে খুন করা হয়েছে।

Advertisement

দুর্গাপুরের মলানদিঘি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স ছিলেন মন্দিরা। তাঁর বাড়ি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর একটি কলেজে নার্সিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন মন্দিরা। পড়াশোনা শেষ করার পরে প্রথমে বিষ্ণুপুরের একটি নার্সিংহোমে কাজে যোগ দেন তিনি। বছরখানেক আগে সেই কাজ ছেড়ে দুর্গাপুরের মলানদিঘি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজে যোগ দেন তিনি।

গোপালপুর এলাকার যে বহুতল আবাসনে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল হিসাবে ব্যবহৃত হত। বুধবার গভীর রাতে বহুতল আবাসনের নীচ থেকে মন্দিরার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় কাঁকসা থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মিললে বোঝা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।

মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সরস্বতীপুজোর সময়ে শেষ বার বাড়িতে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয় তাঁর। বুধবার রাতে হাসপাতালের তরফে পরিবারকে জানানো হয়, মন্দিরা গুরুতর অসুস্থ। তড়িঘড়ি সেখানে যাওয়ার জন্য পরিবারের লোকজনকে জানানো হয়। খবর পেতেই পরিবারের লোকজন দুর্গাপুরে ছুটে যান। সেখানে যাওয়ার পরে তাঁরা জানতে পারেন, মন্দিরার মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিজনেরা। মৃতার মা জয়ন্তী পাল বলেন, ‘‘মেয়েকে নিয়ে আমাদের গর্ব ছিল। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়েছিলাম। আমাদের সঙ্গে তার কোনও দিন কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়নি। তাকে কেউ চক্রান্ত করে খুন করেছে। আমি দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।’’ মৃতার মামা তরুণ দাস বলেন, ‘‘আমার ভাগ্নি আত্মহত্যা করতে পারে না। আমরা নিশ্চিত, ভাগ্নিকে কেউ বা কারা চক্রান্ত করে খুন করেছে। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।’’

Advertisement
আরও পড়ুন