CPM Party Office

পুঁজির জন্য তিনতলা পার্টি অফিস ভাড়া দিয়ে বিপাকে সিপিএম, নাছোড় ভাড়াটে, তুলতে সাহায্যের আশ্বাস দিল তৃণমূল!

চুক্তি অনুযায়ী, বছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় লিজ় দেওয়া হয় তিনতলা বাড়ি। চুক্তির মেয়াদ ১২ মাসের। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারিতেও ভাড়াটে ‘সিপিএমের বাড়ি’ ছাড়েননি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও বাড়ি দখলে রেখেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০৮
CPM Part Office

গুসকরার ‘রবীন সেন ভবন’ থেকে ভাড়াতে তুলতে গিয়ে সমস্যায় সিপিএম! —নিজস্ব ছবি।

তহবিলের অভাব ছিল। তাই তিনতলা পার্টি অফিসের পুরোটাই ভাড়া দিয়েছিলেন সিপিএম নেতৃত্ব। কিন্তু ভাড়াটে আর ওঠার নাম করছেন না। লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে কবেই। তার পর অনেক চেষ্টা-চরিত্র হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় ‘রবীন সেন ভবন’ উদ্ধার করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে সিপিএমের।

Advertisement

গুসকরা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লজপাড়ায় রয়েছে সিপিএমের তিনতলা পার্টি অফিস। ১৯৯৯ সালের মে মাসে রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরীর হাত ধরে ভবনের উদ্বোধন হয়। সেই থেকে গুসকরা শহরে সিপিএমের সাংগঠনিক কাজকর্ম পরিচালিত হত এই ‘রবীন সেন ভবন’ থেকে। প্রতি দিন ভিড় লেগে থাকত ভবনে।

কিন্তু সময় বদলে দেয় অনেক কিছু। সে দিনের শাসক সিপিএম এখন রাজ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দল। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তহবিলের অভাবে গুসকরার পার্টি অফিসটি ভাড়া দেওয়ার কথা চিন্তা করতে থাকেন নেতারা। শেষমেশ ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে গুসকরার বাসিন্দা এবং পেশায় প্রোমোটার স্বপন পালকে ভবনটি ভাড়া দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় লিজ় দেওয়া হয় তিনতলা বাড়ি। চুক্তির মেয়াদ ১২ মাসের। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারিতেও ভাড়াটে ‘সিপিএমের বাড়ি’ ছাড়েননি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও বাড়ি দখলে রেখেছেন। সিপিএমের হুঁশিয়ারি, এ বার ‘বড় আইনি পদক্ষেপ’ করবে তারা। গুসকরা শহর সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক ইরফান শেখের দাবি, ‘‘চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভাড়াটেকে ভবন ছাড়ার কথা জানানো হয়েছিল। দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় লিজ়ের মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওঁকে আবার আমরা ভবন খালি করে বকেয়া ভাড়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ফেরত না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে বাধ্য হব।’’

ভাড়াটে স্বপনের দাবি, তিনি নিজে থেকে একাধিক বার সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে লিজ় নবীকরণের আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু সেটা হয়নি। ভবন দখল করে রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘লিজ় নবীকরণ হলে সমস্ত বকেয়া ভাড়া মিটিয়ে দেব। ভবিষ্যতেও নিয়মমাফিক ভাড়া দিতে প্রস্তুত।’’ তাঁর এ-ও দাবি, চুক্তির মেয়াদকালে নিয়মিত ভাড়া দিয়ে এসেছেন। সেই সমস্ত রসিদ রয়েছে। ভাড়াটে-প্রোমোটারের ইঙ্গিত, বাড়ি তিনি সহজে ছাড়বেন না!

ভাড়াটে-বিবাদ নিয়ে সিপিএমকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তাদের খোঁচা, আগে যারা অন্যের ব্যক্তিগত সম্পত্তির সমস্যা মেটাতে বিনা অনুমোদনে মধ্যস্থতা করত, এখন নিজেরাই সমস্যায়। তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলামের মন্তব্য, ‘‘সিপিএম পুঁজি বোঝে বলেই পার্টি অফিস ভাড়া দিয়েছিল। এখন সেই পুঁজির খেলাতেই তারা আটকে গিয়েছে। ওদের সংগঠন দুর্বল, লোক নেই। তবে সিপিএম আমাদের সহযোগিতা চাইলে, পুরসভার মাধ্যমে বিষয়টি দেখতে পারি।”

যে ভবন ভাড়া দিয়ে দলীয় খরচ তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা-ই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিপিএমের।

Advertisement
আরও পড়ুন