Calcutta High Court

দু’টি প্রস্তাবের একটিকে মানা হল কী পদ্ধতিতে? বিরোধী দলনেতা মামলায় স্পিকারের কাছে জানতে চাইল হাই কোর্ট

বুধবার আবার এই মামলা শুনবে আদালত। ওই দিন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শুনবে হাই কোর্ট।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ২০:৫৩
কলকাতা হাই কোর্ট।

কলকাতা হাই কোর্ট। — ফাইল চিত্র।

দু’টি প্রস্তাবের মধ্যে কী ভাবে এক পক্ষের প্রস্তাবকে বেছে নিলেন স্পিকার? রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বাছাই নিয়ে স্পিকারকে এই প্রশ্নই করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ে তৃণমূলের প্রথম প্রস্তাবে কেন স্পিকার সাড়া দেননি, তা জানতে চান বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। মঙ্গলবারের শুনানিতে স্পিকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য জানানো হয়। বুধবার আবার এই মামলা শুনবে আদালত। ওই দিন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শুনবে হাই কোর্ট।

Advertisement

বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ৮০টি আসন পায়। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন। ওই প্রস্তাব স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে পাঠান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই প্রস্তাবের কয়েক দিন পরে স্পিকার তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে নির্বাচিত করেন। স্পিকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে যান শোভনদেব।

মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্যের সওয়াল, বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ে স্পিকারের ভূমিকা সীমিত। তিনি বিরোধী দলের মধ্যে থেকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করেন। তাঁর উদ্দেশে বিচারপতি রাও জানতে চান, স্পিকারের কাছে কতগুলি প্রস্তাব জমা পড়েছিল? উত্তরে স্পিকারের আইনজীবী জানান, দু’টি প্রস্তাব জমা পড়েছিল। এর পরে আদালতের প্রশ্ন, ‘‘বিরোধী দলনেতা নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের প্রস্তাব কি স্পিকার এড়িয়ে যেতে পারেন? অথবা, তাদের বক্তব্য না শুনে অন্য কোনও নির্দেশ জারি করতে পারেন?’’

বিল্বদল জানান, বিরোধী দল থেকেই বিরোধী দলনেতা বাছাই হয়েছে। কিন্তু প্রথম প্রস্তাবে বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। বিচারপতির প্রশ্ন, ‘‘স্পিকারের কাছে কোনও প্রস্তাব জমা পড়ল! সেই নিয়ে কোনও আপত্তি এলে স্পিকারের কাজ কী? সেই প্রস্তাব স্পিকার কি অনুসন্ধান করে দেখেন? তিনি নিজের চেম্বারে বসে কী ভাবে জানতে পারলেন, কে ঠিক এবং কে ভুল?’’ আইনজীবী জানান, স্পিকারের কাজ কোনও রাবার স্ট্যাম্পের মতো নয়। তিনি সই জালিয়াতির অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান করেন। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ওই বিষয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়।

বিচারপতি রাওয়ের পর্যবেক্ষণ, যদি একই রাজনৈতিক দল থেকে দু’টি প্রস্তাব যায় তখন স্পিকারের কী করণীয়? এই উত্তর আদালত জানতে চাইছে। প্রথম প্রস্তাব কি বাতিল করবেন? স্পিকার কি স্বতঃপ্রণোদিত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? বিল্বদলের যুক্তি, বিদ্রোহী দুই বিধায়ক স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানান কয়েক জনের সই জাল করা হয়েছে। তার পরেই স্পিকার বিষয়টি খতিয়ে দেখেন এবং সিদ্ধান্ত নেন। পাল্টা হাই কোর্টের প্রশ্ন, সই জালিয়াতি বিতর্কের সত্যি বা মিথ্যার মধ্যে আদালত ঢুকছে না। কিন্তু প্রথম প্রস্তাব পাওয়ার পরে কেন স্পিকার নীরব ছিলেন? কেন তিনি সিদ্ধান্ত জানাননি? পরে তিনি কী ভাবে বিরোধী দলনেতা বেছে নিলেন?

স্পিকারের আইনজীবীর সওয়াল, তৃণমূলের ৫৮ জন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক স্পিকারের কাছে সই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ করেন। তাঁদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক রয়েছে জানিয়ে সই-সহ সেই প্রস্তাব জমা দেন। তার পরেই বিরোধী দলনেতা নিয়োগ করা হয়। তাঁর উদ্দেশে বিচারপতি রাওয়ের মন্তব্য, ‘‘বিদ্রোহী বিধায়কের অভিযোগ নিয়ে আদালত কোনও মন্তব্য করতে চায় না। কিন্তু এক পক্ষের প্রস্তাব বাতিল না করে আরেক পক্ষকে কী ভাবে স্পিকার বেছে নিলেন? তিনি কি জানতেন আরেকটি প্রস্তাব আসবে?’’ স্পিকারের পক্ষ থেকে সওয়াল শেষ হয়নি। বুধবার আবার তাঁর বক্তব্য শুনবে হাই কোর্ট।

Advertisement
আরও পড়ুন