Special Intensive Revision

বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন সিইও মনোজ, এক দফায় ভোট করানোর প্রস্তাব দেবেন কি?

আগামী এপ্রিল-মে মাসে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরির সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। মার্চের গোড়ায় হতে পারে ভোটের ঘোষণা। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোট এক দফায় করার পক্ষপাতী সিইও দফতর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৩১
Chief Electoral Officer of West Bengal Manoj Agarwal leaves for Delhi on Tuesday to attend meeting on Assembly Election

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি বৈঠক করতে দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। সিইও দফতর সূত্রে খবর, ভোট-প্রস্তুতি নিয়ে ওই রুটিন বৈঠক হবে। বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার দিল্লি যাবেন তিনি।

Advertisement

আগামী এপ্রিল-মে মাসে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরির সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। মার্চের গোড়ায় হতে পারে ভোটের ঘোষণা। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোট এক দফায় করার পক্ষপাতী রাজ্যের মনোজের দফতর। রাজ্যের সিইও-র দফতরের একটি সূত্র খবর, কত দফায় ভোট হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তবে সিইও দফতরের কাছে জানতে চাইলে, তারা এক দফায় ভোট করানোর প্রস্তাব দেবে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির বৈঠকে মনোজ কী প্রস্তাব দেন তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে।

অতিমারির আবহে ২০২১ সালে আট দফায় বিধানসভায় নির্বাচন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। যা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জমনায় এর আগে ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে সাত দফায় বিধানসভা ভোট হয়েছিল। ইউপিএ আমলে ২০১১ সালে (যে নির্বাচনে বামেদের হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল এবং কংগ্রেসের জোট) বিধানসভা ভোট হয়েছিল ছ’দফায়। কমিশনের সঙ্গে সিইও-র বৈঠকে এসআইআর-পর্বে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে অনেকে মনে করছেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্ক্রুটিনির জন্য সাত দিন সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে যাবে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের জেরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হচ্ছে না বলে সোমবার বিকেলে কমিশনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তা আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। সিইও দফতর সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইআরও-দের সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ১৪ তারিখের পরে আরও সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইআরও-র কাজ শেষের পরে ডিইও মূল্যায়ন করবেন। তার পরে সিইও দফতর খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত ওই মর্মে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।

তার পরের ধাপে কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২১ তারিখের পরেই প্রকাশ হবে। সোমবার দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টে চলে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি। সেখানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সব রাজ্যকে স্পষ্ট করে দেয়, এসআইআর-এর কাজে বাধা বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কমিশনের কাজের মিল পাওয়া যাচ্ছে না, এমন মন্তব্যও করেছে আদালত। নির্বাচন কমিশন এর আগে রাজ্যকে যে কর্মীদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল, সে প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, “অনুগ্রহ করে এই বিষয়টি দেখুন। যখন সাসপেনশনের পরামর্শ দেওয়া হয়, তখন আইন অনুযায়ী রাজ্য নিশ্চয়ই জানে কী করা উচিত।” কমিশনের অভিযোগ, নিয়ম-বহির্ভূত কাজের জন্য কয়েক জন কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজ্য তা পালন করেনি।

Advertisement
আরও পড়ুন