West Bengal Traders Welfare Board

বাংলার ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতার

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী একটি পোস্টে জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আয়োজিত স্টেট ট্রেডার্স কনভেনশন এবং বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠন ও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিই, তা পূরণ করি।’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৯
CM Mamata Banerjee announces formation of \\\\\\\\\\\\\\\'West Bengal Traders Welfare Board\\\\\\\\\\\\\\\' to protect the interests of traders

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

যে কোনও দিন ঘোষণা হয়ে যাবে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ। তার আগে পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা ও সরকার–ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডলে করা এক পোস্টে এই নতুন বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ী সমাজকে অভিনন্দন জানান।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আয়োজিত স্টেট ট্রেডার্স কনভেনশন এবং বিজ়নেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠন ও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিই, তা পূরণ করি।’

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্যের ব্যবসায়ী সমাজ বহু দিন ধরেই একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যেখানে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সরাসরি সরকারের কাছে তুলে ধরা যাবে। নতুন এই বোর্ড সেই চাহিদা পূরণ করবে বলেই তাঁর আশা। বোর্ডটি ব্যবসায়ী সংগঠন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয়ের একটি ‘প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘এই বোর্ডের চেয়ারপার্সন হবেন কনফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।’ এই সংগঠনটিকে রাজ্যের ব্যবসায়ী সমাজের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে ধরা হয়। ফলে বোর্ডের নেতৃত্ব সরাসরি ব্যবসায়ী সমাজের হাতেই থাকবে বলে তাঁর বক্তব্য। নতুন এই বোর্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, রাজ্যের লক্ষাধিক ব্যবসায়ীর সমস্যার সমাধান ও তাদের স্বার্থরক্ষা। বাজার, পাইকারি ব্যবসা, খুচরো বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সমস্যার বিষয়ে সরকারকে অবহিত করা এবং তার সমাধানে উদ্যোগী হবে এই বোর্ড। নিজের পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের রাজ্যের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমাদের ব্যবসায়ীরা বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আমরা তাঁদের পাশে থেকে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একসঙ্গে কাজ করে রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলতে চাই।’

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা, লাইসেন্স, কর বা বাজার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার একটি নির্দিষ্ট মঞ্চ তৈরি হবে।

আসন্ন সময়ে বোর্ডের কার্যক্রম কী ভাবে এগোয় এবং ব্যবসায়ীদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে এটি কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এখন সে দিকেই নজর থাকবে ব্যবসায়ী মহল ও প্রশাসনের। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় রাজ্যের ব্যবসায়ী মহলে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে শিল্পমহল ও ব‍্যবসায়ী সমাজের সমর্থন নিজের দিকে টানতেই মমতা এমন পদক্ষেপ করেছেন। এই বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ভোটের আবহ বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী এমন কৌশলী চাল দিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন