CM Mamata Banerjee

মাছে ‘কাঁটা’! মৎস্য দফতরের কাজ নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা, ভর্ৎসনা শুনলেন মন্ত্রী বিপ্লব, ‘আড়াই বছরে আপনি কী করেছেন?’

বিভিন্ন জায়গায় মাছের ভেড়ি দখল করে যে ভাবে বেআইনি ব্যবসা চলছে, তা নিয়েও ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ব্যাপারে ভূমি ও ভূমিসংস্কার দফতরের পাশাপাশি মৎস্য দফতরকেও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৫ ২০:১০
CM Mamata Banerjee expressed anger in the administrative meeting about the work of Fisheries Department

(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী। —ফাইল চিত্র।

ভারত-পাক উত্তেজনার পরিস্থিতিতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কালোবাজারি রুখতে নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সেই বৈঠকে মৎস্য দফতরের কাজ নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার ভর্ৎসনা শুনতে হল মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীকে। অন্য মন্ত্রী, সরকারি আমলা, পুলিশকর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সামনেই বিপ্লবের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘বিপ্লবদা, আপনার তো অনেক দিন হল এই ডিপার্টমেন্টে (মৎস্য দফতরে)। আড়াই বছর! কী করেছেন আপনি?’’ প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব কিছু বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে, কিছুই শুনতে চাননি।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর মূল প্রশ্ন ছিল,মাছের দাম কেন কমছে না? সেই সূত্রেই মৎস্য দফতরের কাজ সম্পর্কে হতাশা প্রকাশিত হয় মমতার কথায়। তিনি বলেন, ‘‘আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, কোনও কাজ হচ্ছে না।’’ সরকারি কর্তাদের বদলি আটকে দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও বিপ্লবকে ধমক দেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা অনেককে বদলি করছি। কিন্তু আপনি আটকে রাখছেন। সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে সিদ্ধান্ত হলে সেটা নীতিগত সিদ্ধান্ত। আপনি তা আটকে রাখতে পারেন না।’’

বিপ্লব পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পূর্বের বিধায়ক। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গোটাটাই গ্রামীণ এলাকায়। সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনি তো গ্রামের লোক! মাছের দাম কেন কমছে না? কেন বাইরে থেকে মাছ আনতে হচ্ছে? জেনে রাখুন, একটা মাছের বড় হতে দু’বছর লাগে। ছোট থাকতেই কি আপনারা তুলে নিচ্ছেন?’’ মৎস্য দফতরের কাজের পদ্ধতি ঠিক করার বিষয়ে দফতরের সচিব রোশনি সেনকে বৈঠক থেকে দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। বিভিন্ন জায়গায় মাছের ভেড়ি দখল করে যে ভাবে বেআইনি ব্যবসা চলছে, তা নিয়েও ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে ভূমি ও ভূমিসংস্কার দফতরের পাশাপাশি মৎস্য দফতরকেও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। জেলাশাসকদের ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মমতা। ভেড়ি সংক্রান্ত বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement
আরও পড়ুন