Dearness Allowance

৩১ মার্চের মধ্যেই বকেয়া ডিএ মেটানোর ঘোষণা করল মমতার সরকার, সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি জারি অর্থ দফতরের

পূর্বে প্রকাশিত ১৩ মার্চের দুটি বিজ্ঞপ্তির আংশিক পরিবর্তন করে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া পুরনো ডিএ এবং ডিআর (মহার্ঘভাতা রিলিফ) সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ২৩:৪৩
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

৩১ মার্চের মধ্যেই সরকারি কর্মচারীদের যাবতীয় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। শনিবার রাতে অর্থ দফতরের তরফে প্রকাশ করা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও দাবি করা হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিটির জারি হয়েছে ২৩ মার্চ।

Advertisement

নবান্নের তরফে প্রকাশিত ওই সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য এই ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বে প্রকাশিত ১৩ মার্চের দুটি বিজ্ঞপ্তির আংশিক পরিবর্তন করে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া পুরনো ডিএ এবং ডিআর (মহার্ঘভাতা রিলিফ) সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সুবিধা পাবেন কর্মরত সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবং পেনশনভোগী পরিবারেরা, যার মধ্যে মৃত কর্মচারীদের পরিবারও অন্তর্ভুক্ত। বকেয়া অর্থ প্রদান করা হবে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (এআইসিপিআই) অনুযায়ী ১০০ শতাংশ নিরপেক্ষকরণ হারে। অর্থ দফতরের এই সংশোধনী অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই অর্থাৎ ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে বা তার আগেই সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে নবান্ন। সরাসরি ডিএ-র অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাওয়া শুরু করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে আগামী ৩১ মার্চ রাজ্য সরকারকে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ প্রথম কিস্তি দিয়ে দিতে হবে। পরবর্তী কিস্তি দিতে হবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে। সেই পদক্ষেপে চলতি সপ্তাহেই একটি পোর্টাল চালু করে অর্থ দফতর। সেই পোর্টালে সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের বকেয়া ডিএর পাওনার হিসাবে আপলোড করতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএর হিসাব পোর্টালে আপলোড করা হয়। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই আদর্শ কার্যপদ্ধতি (এসওপি) জারি করা হয়। তার পরেই এ বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র টাকা পাঠানো শুরু হয়েছিল। কিন্তু নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তা মার্চ মাসেই মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে নির্ঘণ্ট ঘোষণার কিছু ক্ষণ আগে ১৫ মার্চ ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সমাজমাধ্যমে যে পোস্টটি করেছিলেন তাতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, সরকার অনুমতি স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদান প্রাপ্ত সংস্থাগুলির কর্মীরিও ডিএ পাওয়ার অধিকারী, তাঁদের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের রোপা-২০০৯ অনুযায়ী ডিএ বকেয়া মার্চ ২০২৬ থেকে দেওয়া শুরু হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন