—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিএলও-র কাজে অনেক শিক্ষক চলে যাওয়ায় চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বহু স্কুলে নজরদার শিক্ষকের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মাধ্যমিক শুরুর পর থেকেই এমন অভিযোগ তুলছেন বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা। অনেক পরীক্ষা কেন্দ্রে নিকটবর্তী স্কুল থেকে শিক্ষকদের আনতে হচ্ছে নজরদারের ভূমিকা পালন করার জন্য। অথচ, এমন স্কুলে যে চুক্তিভিক্তিক বৃত্তিমূলক শিক্ষকেরা পড়ান, মাধ্যমিকে নজরদার হিসাবে কাজ করার ব্যাপারে তাঁদের উপরে নিষেধাজ্ঞা আছে। এই শিক্ষকদের প্রশ্ন, তাঁরা মাধ্যমিকের খাতাদেখেন। তা হলে কেন পরীক্ষার হলে নজরদারি করতে পারবেন না? একই প্রশ্ন পার্শ্ব শিক্ষকদেরও। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়ম অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর কথা থাকলেও অনেক সময়েই তাঁদের নবম-দশম তো বটেই, এমনকি একাদশ-দ্বাদশেও ক্লাস নিতে হয়। মাধ্যমিকেতাঁদেরও নজরদারি করার অনুমতি মিললে অন্য স্কুল থেকে শিক্ষক এনে একই কাজ করানোর সমস্যা অনেকটাই মিটত।
চুক্তিভিত্তিক বৃত্তিমূলক শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, তাঁরা এখন নবম-দশমে ঐচ্ছিক বৃত্তিমূলক বিষয় পড়ান। বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী এ বারের মাধ্যমিকে ওই বিষয়গুলি নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যে হেতু অন্য শিক্ষক নেই, তাই তাঁরাই মাধ্যমিকের খাতা দেখবেন। অথচ, পরীক্ষার হলে নজরদারি করতে পারবেন না।
শ্রেয়া চৌধুরী নামে এক বৃত্তিমূলক শিক্ষিকা বলেন, ‘‘শুধু বৃত্তিমূলক বিষয় নয়, বহু স্কুলে আমরা নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশে বিজ্ঞানের নানা বিষয়ও পড়াই। ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে থাকা ২৬ হাজারের মতো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি যখন বাতিল হল, তখন অধিকাংশ স্কুলে শিক্ষকের অভাব দেখা দিয়েছিল। সেই সময়ে বৃত্তিমূলক বিষয় ছাড়াও আমাদের অন্য বহু বিষয়ের ক্লাস নিতে হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, মাধ্যমিকের খাতা দেখতে পারলে গার্ড দিতে অসুবিধা কোথায়? বিশেষত, এসআইআর-এর আবহে যেখানে নজরদারি করার জন্য শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এই দাবিতে আমরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদে কয়েক বার আবেদনও করেছি।’’
একই ভাবে, ‘পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ বলেন, ‘‘পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময়ে পার্শ্ব শিক্ষকেরা এক বারই মাধ্যমিক পরীক্ষায় নজরদারি করেছিলেন। তার পরে আর সেই অনুমতি মেলেনি।’’
‘কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস'-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ অনুমোদিত যে সব বেসরকারি স্কুলে মাধ্যমিকের সিট পড়েছে, সেখানে কিন্তু শিক্ষকেরা নজরদারি করার পাশাপাশি মাধ্যমিকের খাতাও দেখবেন। অথচ, ওই শিক্ষকেরা সরকারি কর্মী নন,তাঁরা সরকারের থেকে বেতনও পান না। এই শিক্ষকেরা মাধ্যমিকে নজরদারি করতে পারলে চুক্তিভিত্তিক বা পার্শ্ব শিক্ষকেরা পারবেন না কেন? এই বিষয়ে প্রতি বার পরীক্ষার আগে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কিন্তু, পর্ষদের তরফে সদুত্তর মেলে না।’’
এ বিষয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দেখা গিয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকেরা স্থানীয় বাসিন্দা হন। স্থানীয় শিক্ষকেরা পরীক্ষার হলে নজরদারি করলে কোনও কোনও মহল থেকে আপত্তি উঠতে পারে। তাই এই ব্যবস্থা।’’